তনু খুন হয়নি, তার জীবনই ছিল না

৪০-৪৫ বছর আগে একটি গল্প শুনেছিলাম। গল্পটি ছিল গাঁজাখোরদের নিয়ে। আড্ডায় সবাই বুঁদ হয়ে আছে গঞ্জিকা সেবনে। সে আড্ডার ভেতরে একদল লোক ঢুকে এক গাঁজাখোরের মাথা কেটে নিয়ে গিয়েছিল; কিন্তু সে দিকে মনোযোগ দেয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না গঞ্জিকাসেবীরা। একসময় সেখানে পুলিশ এসে হাজির হলো। পুলিশ গাঁজাখোরদের কাছে জানতে চাইল, এখানে যে একটি লোক খুন হয়েছে, দেখেছিস্ত গাঁজাখোররা একেবারে আসমান থেকে পড়লেন। তারা বললেন, খুন? কোথায় খুন হয়েছে? পুলিশ মস্তকবিহীন লাশটি দেখিয়ে বলল, এই যে, এই লোকটার মাথা কেটে নিয়ে গেছে। গাঁজাখোরেরা একে একে গিয়ে লাশটি দেখল। তারপর বলল, কই খুন হয়েছে। পুলিশ বলল, এই যে দেখছিস না, লোকটির মাথা নেই। গাঁজাখোরেরা হেসে কুটিকুটি। তারা বললেন, স্যার, ও আসলে এরকমই। ওর কখনো মাথাই ছিল না।

কুমিল্লার সংরক্ষিত সেনানিবাস এলাকায় গত ২০ মার্চ খুন হয়েছে সেখানকার বেসরকারি কর্মচারী ইয়াজ হোসেনের ১৯ বছরের মেয়ে সোহাগী জাহান তনু। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল সে। টিউশনি করে তার লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করত। কলেজে এবং সেনানিবাসের ভেতরে নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সে জড়িত ছিল। নাচ-গানে দক্ষ ছিল। অভিনয়ও করত; কিন্তু থাকত সবসময় হিজাব পরে, শালীন পোশাকে। সেই তনু টিউশনি শেষে বাসায় ফেরার পথে ধর্ষণ ও খুনের মর্মান্তিক শিকার হলো ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে। তারপর শুরু হলো তনুর পরিবারের নাজেহাল হওয়ার কাহিনী। মনে হতে থাকল- ধর্ষণ, খুন যারা করেছে, তারা কোনো দোষ করেনি। দোষ করেছে তনুর পরিবারের সদস্যরা। খুনিদের শনাক্ত করার চেয়ে তদন্তকারী সংস্থাগলো যেন অধিক মনোযোগী হয়ে পড়ল তনুর পরিবারের সদস্যদের দিনের পর দিন জিজ্ঞাসাবাদে।
আর এই দেড় মাসে ফল যা দাঁড়িয়েছে, তা হলো চিকিৎসক, পুলিশ, সিআইডি, ডিবি একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছে যে, সোহাগী জাহান তনুর মৃত্যুর কারণ তারা জানেন না। একই সাথে তারা জানেন না, কে বা কারা তনুকে হত্যা করল, কী ছিল তার বা তাদের উদ্দেশ্য? তনুর বাবা প্রথমে দেখেছিলেন তার মেয়ের লাশ বাসার কাছাকাছি ঝোপের মধ্যে পড়ে রয়েছে। কিছু দূরে পড়ে ছিল ওর ছেঁড়া স্যান্ডেল। তার সালোয়ার-কামিজ ছিল ছেঁড়া। মাথার পেছনটা ছিল থেঁতলানো। নাকে ও কানে ছিল রক্তের ধারা। তিনি একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন; কিন্তু পুলিশি তদন্তে এবং প্রথম ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রাথমিক প্রমাণ মেলেনি। কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে পাওয়া যায়নি ধর্ষণের কোনো আলামত। তনুর বাবা মেয়ের শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন দেখেছিলেন, সুরতহাল রিপোর্টে তার শরীরে এরকম কোনো আঘাতের চিহ্ন নাকি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আরো হাস্যকর ব্যাপার হলো, তনুর প্রথম ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘মৃত্যুর আগে তাকে জবরদস্তিমূলকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। মৃত তরুণী গর্ভবতীও ছিলেন না। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ দেয়া সম্ভব হলো না।’ এই ময়নাতদন্ত রিপোর্টটি গত ২১ মার্চ তৈরি করেছিলেন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের একজন জুনিয়র লেকচারার শারমিন সুলতানা। পরে কুমিল্লার আদালত লাশটির দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের আদেশ দেন। সে অনুযায়ী, গত ৩০ মার্চ সোহাগী জাহান তনুর লাশ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয় এবং বিস্ময়করভাবে একই হাসপাতালে; কিন্তু এত সব গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থা মিলেও আজ পর্যন্ত খুনিদের একজনকেও শনাক্ত করতে পারেনি। তবে বিবিসি বাংলার সাথে আলোচনাকালে ওই দিন কুমিল্লার পুলিশ সুপার বলেছিলেন, হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘পারিপার্র্শ্বিক অবস্থা ও শরীরে প্রাপ্ত অন্যান্য লক্ষণ বিবেচনা করে মনে হয়, তনু ধর্ষিত হয়েছিল।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান কামদাপ্রসাদ সাহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গত ৩০ মার্চ তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করেছেন। সে রিপোর্টটি এখনো তৈরি করা হয়নি। কামদা জবাব দিন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপরাধ ঘটে থাকলেও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্টে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যাবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফরেনসিক চিকিৎসক বলেছেন, ‘কবর দেওয়ার ১০ দিন পর একটা গলিত লাশের ময়নাতদন্ত করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া অসম্ভব। আর যদি কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকে, প্রথম ময়নাতদন্তে এবং দাফনের আগে গোসলের সময় তা নষ্ট হয়ে গেছে। তবে তিনি বলেন, এমনকি একটি গলিত লাশ পরীক্ষা করেও মৃত্যুর কারণ বের করা সম্ভব, যদি তা করা হয় অধিকতর বিশেষজ্ঞ ও সুবিধাসংবলিত কোনো মেডিক্যাল কলেজে।
এ দিকে তনু হত্যার বিচার দাবিতে সারা দেশের প্রায় প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছেন। এতে যোগ দেন শিক্ষক-অভিভাবকেরাও। তনু হত্যার বিচার দাবিতে প্রায় প্রতিদিন সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ এবং একদিন আধাবেলা হরতাল পর্যন্ত পালন করা হয়। তখন এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলে বসলেন যে, তনু হত্যার জন্য আন্দোলনের কিছু নেই। পুলিশ নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। তারা অপরাধীকে ধরেই ছাড়বে। এই বাগাড়ম্বরের পরও এক মাস কেটে গেছে। তনুর হত্যাকারীদের ধরতে ‘দায়িত্বশীল’ পুলিশ বাহিনী এক পা-ও অগ্রসর হতে পারেনি।
তদন্তকারীরা এ পর্যন্ত যা করেছেন, তা হলো তনুর বাবা, মা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, ভাই-বেরাদর, ভাইয়ের বন্ধু, চাচাতো বোন, চাচা-চাচীসহ ৫০ জনেরও বেশি লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কখনো কখনো নিহত তনুর অসুস্থ বাবা-মাকে রাত এগারোটায় তুলে নিয়ে গিয়ে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বাহাদুর তদন্ত কর্মকর্তারা! এভাবে অমানবিক মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। কখনো কখনো জিজ্ঞাসা করা হয়েছে মেয়ে বড় হয়ে গেছে, এখনো বিয়ে দেননি কেন? যেন তনু হত্যায় দোষ করে ফেলেছেন তার বাবা-মা-ই; কিন্তু এই দেড় মাসেও ‘নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন’ পুলিশ একজন ঘাতককেও আটক করতে পারেনি। কিংবা হত্যার কারণও তারা উদ্ঘাটন করতে পারেননি। এর কারণ, প্রথম থেকেই তনু হতার ঘটনা ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছে; কিন্তু কেন?
এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব কখনো র‌্যাবের হাতে দেয়া হয়নি; কিন্তু র‌্যাব স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সেখানে গিয়ে ঘটনাস্থলের ঘাস-মাটি সব তুলে নিয়ে যায়। ফলে আর কোনো ভৌত প্রমাণ সেখানে থাকেনি। এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। তিনি ৩১ মার্চ বলেছিলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন করে এমন ধারণা হয় যে, তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে। তনু যেখানে খুন হলো, সেই জায়গাটা অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে।’ কিন্তু হঠাৎ তিনি পর্যন্ত চুপ মেরে যান। ঘটনার তদন্ত করছিল কুমিল্লা শাখা গোয়েন্দা বিভাগ। এর পর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডিকে। তাদেরও অনেক রঙ-ঢং দেখলাম। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ বিষয়ে ডেইলি স্টার র‌্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানকে জিজ্ঞাসা করেছিল। তিনি স্বীকার করেন যে, তার বাহিনী ওই এলাকার মাটি সংগ্রহ করেছে। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ যেহেতু এলাকাটা চিহ্নিত করেনি, তাই ওই এলাকা থেকে আলামত সংগ্রহে তাদের দোষের কিছু নেই।’ এ ছাড়াও আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, আরো কয়েকটি সংস্থাও ঘটনাস্থল থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং পরে তা তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
এসব উপাদানের মধ্যে রয়েছে, গোপনাঙ্গের লালা, ব্যবহৃত কাপড়চোপড়ের প্রমাণ, আছে পুরুষের এক জোড়া জুতা। এগুলো পরীক্ষার জন্য মালিবাগের সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় পরও এর কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি কিংবা সাধারণ মানুষের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হয়নি। এ সম্পর্কে তনুর বাবা বলেছেন, একজন সাবইন্সপেক্টর তার মতো করে রিপোর্ট দিয়েছেন। তিনি তনুর লাশ পেয়েছেন রাত সাড়ে দশটায়। তারপর প্রায় সাথে সাথেই তিনি আরো কয়েক জনের সহযোগিতায় নিয়ে যান কুমিল্লার সিএমএইচে। তার মৃত্যুসনদে সিএমএইচ বলেছে, তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ২০ মার্চ রাত ২টায় কুমিল্লা সিএমএইচ তনুর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাশকাটা ঘরে পাঠায়। সেখানে রহস্যজনক ব্যাপার হলো এই যে, সুরতহাল রিপোর্টে ছয়জনের স্বাক্ষর নেয়া হয়। তার মধ্যে ছিলেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম ও ভাই আনোয়ার হোসেন। তনুর বাবা বলেছেন, এসআই সাইফুল তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই মেডিক্যাল কলেজে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করলে ফলাফল একই হওয়ার কথা। কারণ কেউ তার সহকর্মীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট দেবেন না। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট করানো দরকার ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। কারণ সেখানে রয়েছেন অধিকতর দক্ষ চিকিৎসক এবং আছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এমন অনেক উদাহরণ আছে যে, প্রথম তদন্ত রিপোর্টে কিছু পাওয়া না গেলেও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০১১ সালে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় গ্রাম্য বিচারে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী হেনাকে ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। পরে তাকে বেত্রাঘাতে হত্যা করা হয়; কিন্তু যার সাথে ব্যভিচারের ‘দায়ে’ তাকে হত্যা করা হয়, সে ছিল একজন ধর্ষক। তনুর মতো পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে ও প্রথম ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হেনার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল; কিন্তু এলাকার লোকজন সেটা মেনে না নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ২৬ দিন পর হেনার লাশ কবর থেকে তুলে ঢামেকে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয়। তাতে দেখা যায়, তার শরীরে রয়েছে নির্যাতনের অনেক চিহ্ন। ফলে ঘটনাটি দাঁড়ায় নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডে। হেনার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেছেন, শরীয়তপুরের ডাক্তারদের অভিজ্ঞতার অভাবের কারণেই তারা সঠিক কারণ নিরূপণ করতে পারেননি। তনুর ক্ষেত্রেও তেমন ঘটে থাকতে পারে। আর একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ ঢামেকে পাঠানো উচিত ছিল।
তনুর বাবা বলেছেন, তিনি আশা করেন না যে, দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্টে প্রথম রিপোর্টের চেয়ে ভিন্ন কিছু আসবে। তিনি নিজে দেখেছেন, তার মেয়ের মাথার পেছন দিকটা থেঁতলানো, নাকে-কানে রক্ত; কিন্তু তারা এর কিছুই দেখতে পেল না। তনুর মা বলেছেন, এভাবেই খুনিরা থাকবে ধরাছোঁয়ার বাইরে। হয়তো এটাই হবে।
তনু হত্যা ধামাচাপা দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে আরো নানা ঘটনা ঘটেছে। ধরা পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা। খুন হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুকার নাজিমউদ্দিন সামাদ। সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথিত হত্যা ষড়যন্ত্রে আটক হয়েছেন ৮২ বছর বয়স্ক সাংবাদিক শফিক রেহমান, রাজধানীর কলাবাগানে ঘটেছে জোড়া খুনের ঘটনা। টাঙ্গাইলে খুন হয়েছেন দর্জি নিখিল। এভাবে আড়াল করে দেয়া হচ্ছে তনু হত্যাকাণ্ড। এখন সরকারের হাবভাবে মনে হচ্ছে, তনু নামের কারো অস্তিত্বই যেন ছিল না। যেমন গাঁজাখোরেরা বলেছিল, খুন হওয়া মুণ্ডুহীন লোকটার কোনো দিন মাথাই ছিল না।

You Might Also Like