পদত্যাগের ঘোষণা তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগ্লু পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে তার পদত্যাগের এ ঘোষণা এলো।

বৃহস্পতিবার তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) নির্বাহী কমিটির এক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাভুতোগ্লু বলেন,  দলের আসন্ন জরুরি সভায় তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং দলের প্রধান হিসেবে নতুন মেয়াদের জন্য লড়বেন না।

‘আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে দলের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর পদে পরিবর্তনে আরো ভালো উদ্দেশ্য হাসিল হবে। এটা অবশ্যই শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং দলের অখ-তা রক্ষা করেই হতে হবে,’ ৯০ মিনিটের বৈঠক শেষে বলেন দাভুতোগ্লু। আগামী ২২ মে একে পার্টির কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে বুধবার রাতে এরদোগানের সাথে বৈঠক করেন দাভুতোগ্লু। তখন এরদোগান তাকে সরে যেতে বলেন বলেন জানা গেছে।

এখন একে পার্টিতে নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন, দলের ঐতিহ্য অনুসারে যিনি হবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

দাভুতোগ্লু প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে দুনেতার দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। এরদোগান চাচ্ছেন আরো বেশি নির্বাহী ক্ষমতা।

তুরস্ক মূলত সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ। এখানে প্রেসিডেন্টের কিছু নির্বাহী ক্ষমতা থাকলেও মূল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। দাভুতোগ্লু ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি এরদোগানের অনুগত বলে মনে করা হয়।

এরদোগানের নেতৃত্বে তুরস্কের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম রূপকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাভুতোগ্লু।

প্রাদেশিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে গত সপ্তাহে এরদোগান ও দাভুতোগ্লুর মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলীয় প্রধান হিসেবে দাভুতোগ্লু দলীয় মনোয়ন দেয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে রাখতে চেয়েছিলেন।

প্রকাশ্যে দাভুতোগ্লু এরদোগানের অনুগত্য দেখালেও সাম্প্রতিক সময়ে নানা ইস্যুতে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।

তুরস্কের সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্টকে নির্বাহী ক্ষমতা দেয়ার বিরোধিতা করছেন দাভুতোগ্লু।

এছাড়া বিচ্ছিনতাবাদী কুর্দিদের সাথে আলোচনার পক্ষে দাভুতোগ্লু অবস্থান নিলেও এরদোগান তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে। অন্যদিকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্বশাসনের পক্ষে দাভুতোগ্লু আর এরদোগান চাচ্ছেন সুদের হার কমানোর মত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ।

You Might Also Like