নারায়ণগঞ্জে সাত খুন : সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের বন্ধু নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম, পুলিশসহ সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেন। এ নিয়ে এ দুটি মামলায় ৩৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলো।

সরকারি কৌঁসুলি ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপনের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম, জয়দেবপুর থানার এএসআই রিয়াজুল হক, স্বপনের গাড়ির জব্দ তালিকার সাক্ষী আনোয়ার হোসেন ও মোক্তার হোসেন, কনস্টেবল বদরুল আলম, ফতুল্লা মডেল থানার তৎকালীন এসআই ওয়াহিদুজ্জামান ও কনস্টেবল সেলিম মিয়া আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা মামলার বিচার কার্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে অপর তিন সাক্ষী মাধব কুমার দে, এনায়েত হোসেন ও সবুর মোল্লা সাক্ষ্য দিতে আসেননি। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে ৯ মে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম আদালতে তাঁর স্বামীসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী দিয়েছেন। মোর্শেদা বেগম আদালতে জানান, নূর হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ তাঁর স্বামী স্বপন এবং নজরুলকে হত্যার হুমকিধামকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি আদালতে তাঁর স্বামী হত্যার বিচার চান।

আসামি তারেক সাঈদ মোহাম্মদের আইনজীবী সুলতানুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের আসামিরা যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা সাক্ষীরা আদালতে প্রমাণ করতে পারেননি।’

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চার সহযোগীসহ প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন।

প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী সংস্থা নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই দুটি মামলায় নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে। র‌্যাবের ৮ সদস্যসহ পলাতক ১২ আসামির অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ শুরু হয়। পলাতক ১২ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের খরচে পাঁচ আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই মামলায় নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন।

You Might Also Like