কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ৩, হুররিয়াতের বনধ

জম্মু-কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর গুলিতে এক ক্রিকেটারসহ তিন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সেনাবাহিনীর জওয়ানের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার হান্দওয়াড়াতে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। বিক্ষোভকারীরা দোষী জওয়ানকে তাদের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানায়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে হুররিয়াত কনফারেন্স নেতা সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী আজ (বুধবার) কাশ্মির বনধের ডাক দিয়েছেন। ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হুররিয়াতের অন্য নেতা মীরওয়াইজ ওমর ফারুক প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশু সংরক্ষণ সম্পর্কে কথা বলছেন, সেখানে তার সশস্ত্র বাহিনী নিরীহ যুবকদের হত্যা করেছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, যুবকদের হত্যায় জড়িত জওয়ানদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। রাজ্য সরকারের শান্তি আনার প্রয়াসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। মেহবুবা সেনাবাহিনীর নর্দার্ন আর্মি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি এস হুদা’র সঙ্গে এ নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

এ ঘটনায় সেনা এবং পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের এক মুখপাত্র দাবি করেন, এক জওয়ানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দ্রুত বহু লোক জড়ো হয়ে হান্দওয়াড়া চকে এক সেনা বাঙ্কারে মোতায়েন জওয়ানদের ওপর হামলা করে ভাঙচুর চালায় এবং বাঙ্কারে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। এর পাল্টা হিসেবে সেখানে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগ করে। এ সময় মুহাম্মদ ইকবাল (২৪), নঈম কাদির ভাট (২২) এবং রাজা বেগম (৭০) গুলিতে আহত হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তারা মারা যায়।

নিহত নঈম তিন বছর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ক্রিকেট শিবিরে অংশ নিয়েছিলেন।

সেনাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় স্পর্শকাতর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

You Might Also Like