‘ভারত মাতা কী জয়’ বলতে না চাওয়ায় মহারাষ্ট্রে বিধায়ক বরখাস্ত

‘ভারত মাতা কী জয়’ বলতে না চাওয়ায় মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন বা মিম বিধায়ক ওয়ারিস পাঠান মহারাষ্ট্র বিধানসভা থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিধানসভার চলতি বাজেট অধিবেশন চলা পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত করা হয়।

বুধবার মহারাষ্ট্র বিধানসভায় গভর্নরের ভাষণের ওপর বিতর্কে অংশ নিয়ে মিম বিধায়ক ইমতিয়াজ জলিল বলেন, মহান ব্যক্তিদের স্মারক নির্মাণে সরকার থেকে করদাতাদের পয়সা খরচ করা উচিত নয়। তখন শিবসেনা বিধায়ক গুলাব রাও পাটিল বলেন, আপনি কি মহান ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান করেন না? আপনি কি ‘ভারত মাতা কী জয়’ বলবেন না?’

গুলাব রাওয়ের প্রশ্নে মিম বিধায়ক ওয়ারিশ পাঠান উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ভারত মাতা কী জয়’ বলতে জবরদস্তি করা উচিত নয়। সংবিধান এটা বলে না। আমরা ‘জয় হিন্দ’ বলব। ‘ভারত মাতা কী জয়’ বলব না।’

পাঠানের এ ধরণের মন্তব্যকে ঘিরে বিজেপি-শিবসেনা শাসিত মহারাষ্ট্র বিধানসভা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তুমুল গোলমাল সৃষ্টি হয়। ব্যাপক হট্টগোলের জেরে অধিবেশনের কাজ দুইবার স্থগিত করে দিতে হয়। বিধানসভায় বিজেপি, শিবসেনার পাশাপাশি কংগ্রেস এবং এনসিপি বিধায়করাও মিম বিধায়ক ওয়ারিশ পাঠানকে সাসপেন্ড করার দাবি তোলেন।

রাজস্বমন্ত্রী একনাথ খাসড়ে মিম বিধায়ককে ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ওয়ারিশ পাঠান তাতে রাজি না হলে তাকে সাসপেন্ড করার জন্য বিধানসভায় প্রস্তাব পাস করানো হয়। এরপরেই স্পিকার তাকে চলতি বাজেট অধিবেশনের বাকি দিনগুলো পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্ত করার ঘোষণা দেন।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী রণজিৎ পাটিল বলেন, ওয়ারিশ পাঠান বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার করে সংসদীয় রীতি অগ্রাহ্য এবং ভারত মাতার অসম্মান করেছেন।

সাসপেন্ড হওয়া মিম বিধায়ক ওয়ারিশ পাঠান অবশ্য বলেছেন, ‘আমার দেশের প্রতি সম্মান, দেশপ্রেম আগেও ছিল এবং সবসময়েই তা থাকবে। এদেশে জন্মাতে পেরে আমি গর্বিত। আমি দেশের প্রতি কোনো অসম্মান করিনি। আমি স্বপ্নেও কোনো দিন দেশের অসম্মানের কথা চিন্তা করিনি। আজ আমাকে সাসপেন্ড করে গণতন্ত্রকেই অপমান করা হল।’

আইনজীবী বিধায়ক ওয়ারিস পাঠান বলেন, ‘কোনো একটি স্লোগানের ওপর ভিত্তি করে দেশপ্রেমের মূল্যায়ন করবেন না। আমি হাউসের কোনো নিয়মকে অমান্য করিনি যে আমাকে সাসপেন্ড করা হবে। দেশের আইনের প্রতি আমার সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। জয় হিন্দ, জয় ভারত, জয় মহারাষ্ট্র।’

এর আগে মিম প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন মহারাষ্ট্রের লাতুরে এক জনসভায় বলেছিলেন, আমার গলায় ছুরি ধরা হলেও আমি ‘ভারত মাতা কী জয়’ বলব না। সংবিধানে ‘ভারত মাতা কী জয়’ বলার কথা কোথাও লেখা নেই। এ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

You Might Also Like