আপিল বিভাগে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবেন দুই মন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবেন বলে জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার।

আজ (সোমবার) সকালে আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, ‘আজ আমরা লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট শাখায় জবাব দাখিল করব। আগামীকাল মঙ্গলবার আদালত অবমাননার শুনানি হবে।’ তিনি বলেন, লিখিতভাবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আদালতের কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাসেত মজুমদার পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘না চেয়ে কি উপায় আছে?’ সময় আবেদন করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটিও আগামীকাল আবেদন করব।’ এ মুহূর্তে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন খাদ্যমন্ত্রী।

প্রধান বিচারপতি এবং বিচার বিভাগ নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বিরূপ মন্তব্যে গত ৮ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বিস্ময় প্রকাশ করে। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ মন্তব্য করে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে নোটিশ জারি করেছে সর্বোচ্চ আদালত। সরকারের দুই মন্ত্রীকে আগামীকাল ১৫ মার্চ সকাল নয়টায় সর্বোচ্চ আদালতে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে। অন্যদিকে নোটিশের জবাব দিতে হবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া মীর কাসেম আলীর আপিলের রায়কে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সমালোচনা করে গত ৫ মার্চ রাজধানীতে এক সেমিনারে বক্তব্য দেন সরকারের দুই মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও আ ক ম মোজাম্মেল হক।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ওই অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধী মীর কাসেম আলীর আপিলের পুনঃশুনানি করার দাবি জানান। তিনি এই মামলার শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতির বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনাও করেন। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই দুই নেতা-মন্ত্রীর এমন মন্তব্য নিয়ে দেশে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, মন্ত্রীদের এমন বক্তব্য তাদের ব্যক্তিগত এবং এই বক্তব্যের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নেই। একইসঙ্গে মন্ত্রীদের এ ধরণের বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।

এমনই অবস্থায় মীর কাসেম আলীর ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ মীর কাসেমের আপিলের রায় ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, রায় ঘোষণার আগে আপিল বিভাগ দুই মন্ত্রীকে আদালতে তলব করেন।

এদিকে, বিএনপি নেতা শাহ্ মোয়াজ্জেম খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে কুলাঙ্গার আখ্যায়িত করে তাদের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল আয়োজিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জিয়াউর রহমান শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

You Might Also Like