‘পরিবেশ ও বন বাঁচানো আমার পক্ষে অসম্ভব’

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগাঁরগাওয়ে বন ভবনে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘এই সেমিনারে এসে এক ঘণ্টা ধরে জ্ঞান অর্জন করলাম। বাঘ শিকার একটি বীরত্বের ব্যাপার। আমরা দেখেছি বাঘ শিকার করে মৃত বাঘের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে। তাহলে কয়েকশ বছর লাগবে যা শিখেছি আমরা তা ভুলে যেতে। আর এখন আমার সিসিএফ (প্রধান বন সংরক্ষক) সাহেব বলছেন বাঘ শিকার করা যাবে না। এই দিবস জাতিসংঘের স্বীকৃত। আমি বাঘ এলাকার মানুষ। যে হারে দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে, তাতে কী সম্পদ লাগবে, কী ধরনের মানুষ লাগবে, কী ধরনের অস্ত্র-শস্ত্র লাগবে এইগুলো ঠিক করা প্রয়োজন।’

বনমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘মানুষ বাঁচবে না বাঘ বাঁচবে? রাস্তাঘাট থাকবে না গাছ থাকবে। যত রাস্তাঘাট আমি করেছি তত গাছ কাটতে হয়েছে। এখন সরকার মহাসড়ক চার লেন করতে চাচ্ছে, তাতে আরো গাছ কাটবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম। কিন্তু এই মন্ত্রণালয়ের এসে আমি নিজেই মনে করি আমার পক্ষে এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হবে না। কারণ আমরা সেমিনারে এসে বলি বাঘ মারবেন না, পাখি মারবেন না। কিন্তু আমি আমার মামার সঙ্গে পাখি মারতে গিয়েছি। আমাদের পক্ষে বন্যপ্রাণীর জন্য অভয়ারণ্য করা সম্ভব না। কারণ ৫৫ হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট একটি দেশে মানুষের সংখ্যা ১৬ কোটি। তাই যদি হয় আজ থেকে ৫০ বছর পর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কী বলবেন? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কী সিদ্ধান্ত নিবেন, বলবেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজন নেই।

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মন্ত্রণালয়ের সীমাবদ্ধতার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের সরকারের ধারণা হলো বিদেশি টাকায় চলবে বন ও পরিবেশ রক্ষার কাজ। দেশি টাকায় সম্ভব তা আমরা এখন প্রথম জানলাম। বিদেশিরা যখন আসে তখন বলে তোমার প্রতিষ্ঠান নেই, প্রশিক্ষণ নেই। এগুলো করতে করতে আমাদের মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। আমি যখন প্রথম মন্ত্রী হই, তখন দেশের বাজেট ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকা আর এখন তিন লাখ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বরাদ্দের দিক থেকে তা অপ্রতুল। ফলে আমাদের গাছ লাগাতেও বিদেশি ফান্ডের প্রয়োজন। গাছ লাগাতে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রকল্পের জন্য গাড়ি, বাড়ি কিনতেই শেষ। আমরা অনেক চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় আছি। যখন বঙ্গবন্ধু সেতু হয় সেখানে একটা বাগান ছিল, এখনো আছে। আগে সেখানে কিছু ছিল না, এখন লাখ লাখ লোক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। কারণ সেখানে রাস্তাঘাট-কলকারখানা হয়ে গেছে। এলাকাটি ছোট হয়ে গেছে। তাই অভয়ারণ্য আমি দেশবাসীকে দিতে সক্ষম হব না এবং আমার পরে যাঁরা (মন্ত্রী) আসবেন তাঁরা বলবেন, আমি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকব না।’

অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বাঘ গবেষক মনিরুল এইচ খান, উপপ্রধান বন সংরক্ষক (পিএলআর) তপন কুমার দে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। দেশে বন্যপ্রাণীর বিলুপ্তি রোধে করণীয় ও তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীবিদরা।

You Might Also Like