শিরিন আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক করায় ভেঙে গেল জাসদ

শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে বাদ দিয়ে শিরিন আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ ভেঙে গেছে।

শনিবার রাতে মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে হাসানুল হক ইনুকে সভাপতি ও শিরিন আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হলে অপর অংশটি নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না অভিযোগ তুলে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে সভাপতি, নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক এবং মইনুদ্দিন খান বাদলকে কার্যকরী সভাপতি ঘোষণা করে তারা।

এর আগে জাসদের দু’দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনে রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কাউন্সিল অধিবেশনের মূল আলোচনার বিষয়ই ছিল দলের নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কয়েকটি সেশন শেষে রাতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। মোট ১ হাজার ২০৫ জন কাউন্সিলর কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন।

এদিকে নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার শুরুতেই হাসানুল হক ইনুর সভাপতি পুনর্নির্বাচন প্রশ্নে দু’পক্ষের কারও আপত্তি না থাকলেও সাধারণ সম্পাদক পদে শিরিন আক্তার ও নাজমুল হক প্রধান প্রার্থী হন। এ সময় প্রধানের সমর্থকরা কাউন্সিলরদের গোপন ব্যালটে ভোটের দাবি জানালেও শিরিন আক্তারের সমর্থকরা কণ্ঠভোটের প্রস্তাব দেন। এ অবস্থায় ইনুর সমর্থকরা কাউন্সিল মঞ্চ দখল করে নিলে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। নাজমুল হক প্রধান মাইকে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাকে বাধা দেয়া হয় বলে তার সমর্থক নেতারা অভিযোগ করেছেন। এ অবস্থায় শরীফ নুরুল আম্বিয়া, মইনুদ্দিন খান বাদল ও নাজমুল হক প্রধানের নেতৃত্বে তাদের সমর্থক-নেতারা মহানগর নাট্যমঞ্চের বাইরে বের হয়ে আসেন। সেখানে মইনুদ্দিন খান বাদল জাসদের পাল্টা কমিটি হিসেবে শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে সভাপতি ও নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক এবং নিজেকে কার্যকরী সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। বিক্ষুব্ধ অংশ পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় নতুন কমিটি ঘোষণার কথা জানান।

নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়ে শরীফ নুরুল আম্বিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনি অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে হয়নি বলে আমরা এ কমিটি ঘোষণা করেছি।”

দলের স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য তাদের কমিটির সঙ্গে রয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে।

আম্বিয়ার অভিযোগ, “আমরা ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন চেয়েছি। কিন্তু ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন দেয়া হয়নি। এমনকি আমাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। অধিবেশন থেকে বের করে দরজাও বন্ধ করে দেয়া হয়।”

সদ্য স্বাধীন দেশে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে ১৯৭২ সালে তথাকথিক তাত্ত্বিক নেতা সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাসদ। সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা ছিল জাসদের। এ লক্ষ্যে গণবাহিনী নামে তাদের সামরিক শাখাও তৈরি হয়। সেই গণবাহিনীর বিরুদ্ধে রাজনীতিবহির্ভূত সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠে।

এরপর ১৯৮০ সালে দলটি প্রথম ভাঙনের মুখে পড়ে। দলটির সাবেক দুই ছাত্রনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না ও আখতারুজ্জামানকে বহিষ্কার করা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। পরে ৭ নভেম্বর ১৯৮০ জাসদ থেকে বেরিয়ে বাসদ গঠন করেন খালেকুজ্জামান, মাহবুবুল হক, মইনুদ্দিন খান বাদল, মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ। ১৯৮৪ সালে দলটি থেকে বের হয়ে যান তৎকালীন সভাপতি মেজর জলিল। এরপর ১৯৮৬ সালে বের হয়ে যান শাহজাহান সিরাজ। অবশ্য আ স ম আবদুর রবও দল ছাড়েন এরই মধ্যে। কাজী আরেফ-হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাসদ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ১৯৯৭ সালে আ স ম রব, হাসানুল হক ইনু, মইনুদ্দিন খান বাদল এক হয়ে জাসদ পুনর্গঠন করেন, যা ভেঙে ২০০২ সালে আবার রব বেরিয়ে যান। এরপর হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বেই চলতে থাকে জাসদ।

২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে এমপি হওয়ার পর সরকারের মন্ত্রীও হন ইনু। শিরিন আক্তার এমপিকে জাসদের সাধারণ সম্পাদক করায় দলটিতে আবারও ভাঙন হলো। -রেডিও তেহরান

You Might Also Like