সমুদ্রে রহস্যময় মমি

ফিলিপাইন বারাবো উপকূলে ভাসছে রহস্যময় এক প্রমোদতরী। কেউ এর কাছেও যায়নি এতদিন। কিন্তু স্থানীয় জেলেদের দুজন প্রমোদতরীটি ভাসতে দেখে সাহস করে এগিয়ে যান। তারা ভেতরে প্রবেশ করেন, যা দেখলেন তাতে গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল।

তারা দেখলেন প্রমোদতরীটির রেডিও রুমে মমি হয়ে পড়ে আছে মানুষের একটি দেহ। দেখে মনে হয় তিনি আরামে ওই কেবিনে ঘুমাচ্ছেন। তারা তীরে ফিরে ঘটনাটি জানালেন পুলিশকে।

পুলিশ এরপর তদন্ত করছে বিষয়টি নিয়ে। পুলিশ ওই মৃতদেহের সঙ্গে পাওয়া ডকুমেন্ট যাচাই করে দেখতে পেলো মৃত ওই ব্যক্তি জার্মানির ম্যানফ্রেড ফ্রিটজ বাজোরাত (৫৯)।

কিন্তু কী কারণে তিনি মারা গেছেন তার কোনো কিনারা করতে পারছেন না ইন্সপেক্টর মার্ক নাভালিস। তিনি বলছেন, তাকে হত্যা করার মতো কোনো চিহ্নও মেলেনি। তাহলে কীভাবে তিনি মারা গেলেন, কীভাবে মমি হলেন, এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলছে না। ঘটনাটি ঘটেছে ফিলিপাইনের বারাবো উপকূলে । সেখানে উপকূল থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে ভাসছিল ওই প্রমোদতরী।

ইন্সপেক্টর নাভালিস বলেছেন, যা ঘটেছে তা পুরোপুরি আমাদের কাছে এক রহস্য। আমরা বাজোরাতের মৃতদেহ পেয়েছি রেডিও রুমের একটি ডেস্কে বসা অবস্থায়।

তিনি ডান হাতের সাহায্যে মাথায় ঠেস দিয়ে বসে ছিলেন। মনে হচ্ছিল যে, তিনি এভাবেই আরাম করে ঘুমাচ্ছেন। তিনি কবে, কখন, কীভাবে মারা গেছেন তা সুনিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। জানা যাচ্ছে, বাজোরাত ২০ বছর ধরে তার প্রমোদতরী সায়োতে করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করছিলেন।

তবে ২০০৯ সাল থেকে তার আর দেখা মেলেনি। কিন্তু তার এক বন্ধু মিডিয়াকে বলেছেন, ফেসবুকে ২০১৫ সালে তার সঙ্গে কথা হয়েছে বাজোরাতের। এখন ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ তার আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। এজন্য জার্মানিতে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ইন্সপেক্টর নাভালিস বলেন, প্রমোদতরীর ভেতরে বিক্ষিপ্তভাবে পড়েছিল জিনিসপত্র। তবে তার ওয়ালেটটি খুঁজে পায়নি পুলিশ। পাওয়া গেছে রেডিও, জিপিএস ও গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু ডকুমেন্ট। ওদিকে জার্মানির কলোগনি শহরের ফরেনসিক ক্রিমিনোলজিস্ট ড. মার্ক বেনেক বলেছেন, যেভাবে মৃত অবস্থায় বসে ছিলেন বাজোরাত তা অপ্রত্যাশিত। হতে পারে তিনি হৃদযন্ত্রের অসুস্থতায় মারা গেছেন।

You Might Also Like