‘ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে মামলা করবে বাংলাদেশ’

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকড হওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ফেরত আনতে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অপরদিকে গতকাল ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেছে, এ ধরনের হ্যাকিংয়ের কোন ঘটনাই ঘটেনি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে বলে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব হতে টাকা হ্যাকড হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা ফেডারেল রিজার্ভের, যারা এটা সেখানে হ্যান্ডেল করেন, তাদের কোনো গোলমাল হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ কোনোমতেই তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারবে না। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন দোষ কিছু নেই।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ৭ মার্চ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেছে, এ ধরনের হ্যাকিংয়ের কোন ঘটনাই ঘটেনি। আমাদের কাছে এরকমের কোন তথ্য নেই।

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের কোন টাকা অনুমোদিতভাবে কোথাও সরানো হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দেয়নি মুখপাত্র বলে বার্তা সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।

এ বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না- জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, অফ কোর্স। আমরা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করবো। তাদের কাছে টাকা রাখছি, তারাই এই জন্য দায়ি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ফিলিপাইন সরকার তাদের অর্থ বাজারে ৮০০ কোটি টাকা বেশি পায়। অর্থের উৎস খুঁজতে গিয়ে জানতে পারে এ পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দেশটির একটি পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থের উৎস ও কিভাবে সরানো হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত করে। দুই জন ব্যাংকারকে পাঠানো হয়েছে ফিলিপাইনে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তারা। কোন পদ্ধতিতে টাকা সরানো হয়েছে তা নিয়ে চলছে অনুসন্ধান।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৭ মার্চ বলেছে, কিছু টাকা হ্যাক হয়েছে। তার একাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকার গন্তব্য সনাক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয় রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে দেশে এবং দেশের বাইরে তদন্তলব্ধ তথ্যাদি অপ্রকাশিত রাখা হচ্ছে।

You Might Also Like