যে হোটেলে মরতে আসে মানুষ

বেঁচে থাকার স্বাদ সব মানুষের মাঝেই রয়েছে। বেঁচে থাকার জন্যই প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় মানুষকে। কিন্তু কেউ সহসায় মরতে চায় না। তারপরও একদিন না একদিন মানুষকে মরতে হবেই।

কিন্তু কখনো কি শুনেছেন, হোটেলে মরতে আসে মানুষ? স্বেচ্ছায় মরতে হোটেল রুম ভাড়া নিয়ে থাকেন? অবাক করা কাণ্ড! এমন ঘটনাই ঘটছে একটি হোটেলে।

এখানে মৃত্যু মানে পুনর্জন্ম থেকে একেবারেই ছুটি। সেই বিশ্বাসকে আজও আশ্রয় দেয় একটি প্রতিষ্ঠান।

তাকে কি নামে ডাকা হবে তা অবশ্য নির্ধারণ করা দুরূহ। কেউ তাকে ধর্মশালা বলতে পারেন, কেউ ‘হোটেল’ বলেও ডাকতে পারেন। যে নামেই ডাকা হোক না কেন সে আসলে এক মৃত্যু-প্রতীক্ষালয়।

কাশীর ‘মুক্তি ভবন’ কিন্তু কখনোই এক ‘ইউথ্যানশিয়া’-কেন্দ্র নয়। কোনো আধুনিক কনসেপ্টকেই সে স্থান দেয়নি তার জন্মলগ্ন থেকেই। তার অভিধানে একটাই শব্দ- ‘মোক্ষ’। আর সেটাকেই সে প্রদান করতে চায় তার বাসিন্দাদের।

প্রতিবছর বেশকিছু মানুষ এখানে আসেন স্রেফ ‘মরতে’। তারাই এই হোটেলের বোর্ডার। মুক্তি ভবন তাদের সঙ্গে তাদের পরিজনকেও থাকার জায়গা দেয় নামমাত্র মূল্যে।

যারা দিতে পারেন, দেন। আর যারা পরেন না, তাদেরও ‘মোক্ষ’ নিশ্চিত থাকে এখানে। তবে মুক্তি ভবনের নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যুপথযাত্রী বোর্ডার দু’সপ্তাহ থাকতে পারেন এখানে।

কিন্তু সেই সময় অতিক্রান্ত হলে তাকে সরে যেতে হয় ‘সিট’ থেকে, অন্যের ব্যাকুল মৃত্যুপথ থেকে।

You Might Also Like