বাংলাদেশের মানুষ সভাপতিকে ভয় পাই, দেশটাই হচ্ছে সভাপতি, রাষ্ট্রপতি, সেনাপতি ও বিচারপতির

যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রবীণ রাজনীতিবিদ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষ সভাপতিকে ভয় পাই। কারণ বাংলাদেশটাই হচ্ছে সভাপতি, রাষ্ট্রপতি, সেনাপতি ও বিচারপতির দেশ।

নিউইয়র্কে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নতুন কার্যকরী কমিটির শপথ গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

গত রবিবার উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করার স্বার্থেই ধমীয় সংখ্যালঘু তথা দেশের দুর্বল জনগোষ্ঠীর অধিকারকে সুসংহত রাখতে হবে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে মন্ত্রী পরিষদ থেকে প্রশাসনের সকল পর্যায়ে। দু’জন প্রতিমন্ত্রী বানিয়ে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৯% এর ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সারাবিশ্বে মানবতার চরম দুঃসময় চলছে। এমন কঠিন সময় এর আগে কেউই কখনো দেখেনি। তাই আমার মনে হচ্ছে, মানবতার জন্যে ভালো কিছু করার এটাই হচ্ছে প্রকৃত সময়।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নবেন্দু বিকাশ দত্তের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, এনডিসি, ঐক্য পরিষদের গভনির্ং বডির চেয়ারম্যান এটর্নি অশোক কর্মকার, সদস্য সচিব চন্দন দত্ত, ঐক্য পরিষদের অন্য দুই সভাপতি নয়ন বড়ুয়া ও জেমস রয়।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, দেশে যত কড়া বলা যায়, এখানে তত কড়া বলা যাবে না। কড়া বলা যাবে না, কারণ এটা কোথা থেকে কোথায় যাবে, যার উদাহরণ আমাদের জন্য ভাল না।

লতিফ সিদ্দিকীর উদাহরণ টেনে বলেন, দেখলেনতো একজন মন্ত্রীতো এখান থেকে আর দেশেই যেতে পারেননি। তার আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতি আমাকে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন উনি আমার আগে বক্তব্য রাখবেন, আমি বাধা দিইনি, কারণ সভাপতিকে কেউ বাধা দিতে পারেন না। আর আমরা বাংলাদেশের মানুষ সভাপতিকে ভয় পাই। কারণ বাংলাদেশটাই হচ্ছে সভাপতি, রাষ্ট্রপতি, সেনাপতি ও বিচারপতির দেশ। আর আমরা পাবলিক সবাই হচ্ছি ভগ্নিপতি। এরা যদি এক হয়ে যায় তাহলে আর কোনো ব্যাপার নেই। এরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে। এমন কোন সামরিক শাসন  আসেনি, তাদের সঙ্গে একজন বিচারপতি থাকেননি।

suranjit_1তিনি বলেন, আজকে আমরা এমন একটি সময়ের কথা বলছি যা মানবতার জন্য কঠিন দুঃসময়। এই রকম দুঃসময় বিশ্বের মানব ইতিহাসে আর কখনো আসেনি। আটলান্টিকের এ পাড়ে থেকে আপনারা যদি বলেন, আমরা নিরাপদে আছি, আমি বলবো আপনারাও নিরাপদে নেই। ইউরোপ যখন জেগে উঠেছে, আটলান্টিক পাড়ি দিতে কতক্ষণ? বাংলাদেশ স্বাধীন করতে গিয়ে আমরাও শরণার্থী হয়েছিলাম। এখন ইউরোপের উপর ঠেলা পড়েছে।  তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয় এটাই প্রকৃত সময় আমাদের ভাল কিছু করার, ভাল কিছু ভাবার, ভাল কিছু দেখার।সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আমি আমার মাতৃভূমিতে থেকেই মরতে চাই, আমার অধিকার ভোগ করতে চাই। স্নায়ুযুদ্ধের পর ভাবা হয়েছিলো যে পৃথিবীতে শান্তি আসবে। স্নায়ুযুদ্ধ নেই, সোভিয়েত ইউনিয়ন নেই, শান্তি আসবে। তখন হান্টিংটন নামে একজন লেখক বই লিখেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন স্নায়ুযুদ্ধ উত্তর যে বিশ্ব আসছে, এটা আরো ভয়াবহ হবে, এটা আরো মানবতা বিবর্জিত হবে, এটা আরো বর্বোরোচিত হবে। সেখানে ধর্ম আবারো সামনে চলে আসবে। আজকের পৃথিবীতে যে ঘটনাগুলো ঘটছে, এটা কী আপনার চিন্তা চেতনার মধ্যে মিলাতে পারেন? ইউরোপ কী কোন দিন ভেবেছে মানুষ তার জীবন সম্পর্কে কতটুকু আতঙ্কিত হলে এই উত্তাল সাগর পার হয়ে নারী পুরুষ নির্বিশেষে ছুটে আসবে প্রাণ রক্ষার জন্য। আপনারা দেখছেন আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মসজিদে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, ধর্ষণ, সম্পত্তি দখলের বিষয়টি বন্ধের কৌশল হিসাবে আলোচনা হতে পারে উল্লেখ করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, যদি ৭৫ এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হতো তাহলে বকেয়া বিষয়গুলো আমাদের করতে হতো না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে শেখ হাসিনা কী যে প্রেসার তা ভাষায় বলা যাবে না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বলেই সম্ভব হচ্ছে। হেফাজতকে মোকাবিলা করেছেন। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায় করতে হলে সর্বক্ষেত্রে আমাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে থাকতে হবে, প্রশাসনে থাকতে হবে, সেনাবাহিনীতে থাকতে হবে, প্রাইভেট সেক্টরে থাকতে হবে, ব্যাংক থাকতে হবে, টিভি থাকতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিনিধি থাকলেই অধিকার আদায় হবে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘে মাদক সম্পর্কিত দুদিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে রবিবার সকালে নিউইয়র্কে এসেছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ সদর দফতরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতিত্ব করবেন আইপিইউ চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী। মহাসচিব বান কি-মুনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেয়ার কথা।

You Might Also Like