বিএনপি কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে সরকারি এজেন্টরা: রিজভী

নয়া পল্টনে বিএনপি ভবনের চতুর্থ তলায় উঠে ছাত্রদলের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের জন্য ‘সরকারের এজেন্ট’দের দায়ী করেছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছাত্রদলের সদ্যঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে বুধবার বিকালে সংগঠনটির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ হয়।
ওই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কেন্দ্রীয় দপ্তর রয়েছে। চতুর্থ তলায় রয়েছে ছাত্রদলসহ কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়।
গত শনিবার ছাত্রদলের ৭৩৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি খালেদা জিয়া অনুমোদনের পর সংগঠনটির এক দলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সোমবার বিকাল ৪টার দিকে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের ‘পদবঞ্চিতরা’ বিক্ষোভ করে।
শুরুতে কার্যালয়ের সামনে দুটি মোটর সাইকেল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এরপর নিচতলায় জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি ভাংচুরের পর বিক্ষুব্ধ একদল চারতলায় উঠে ছাত্রদলের কার্যালয়ে আগুন দেয় বলে পল্টন থানার ওসি মোরশেদ আলম জানিয়েছেন।
ছাত্রদলের কার্যালয়ের সঙ্গে থাকা যুবদলের কার্যালয়ও আংশিক পুড়েছে বলে দমকলকর্মীরা জানান। এই ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে রিজভী বলেন, বিএনপির কেউ জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল কিংবা খালেদা জিয়ার ছবি ভাঙবে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
“এরা নাশকতার এজেন্ট। সরকারের মদদে বহিরাগত দুষ্কৃতকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।” ওই কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় দপ্তর শাখার কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন রিজভী। অগ্নিসংযোগের কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অন্ধকারের মধ্যে কথা বলেন তিনি।
ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, “বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পল্টন মডেল থানা বেশি দূরে না, ১০০ গজ থেকে ১৫০ গজ। অথচ এখানে দুষ্কৃতকারীরা আসছে, চারতলায় এসে আগুন ধরাচ্ছে। প্রকাশ্যে এই অফিসকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল মারছে। অথচ পুলিশ নির্বিকার দাঁড়িয়ে আছে।
“এটা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, কাদের প্রশ্রয়ে, কাদের সমাদরে দুষ্কৃতিকারীরা ভেতরে ঢুকছে এবং আগুন লাগাচ্ছে, আক্রমণ চালাচ্ছে।”
এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি ‘আসল বিএনপি’ নামে একদলের নয়া পল্টনের কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টার কথাও তুলে ধরেন রিজভী।
“এসব ধারাবাহিক একটা ব্যাপার। বিএনপির প্রধান কার্যালয় দখল ও দলের কার্যাক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে যে প্রক্রিয়া চলছে, এটা তারই অংশ।”
নিজে ঘটনার সময় ছিলেন না জানিয়ে রিজভী বলেন, “দুপুর বেলা যখন সবাই বিশ্রামে থাকেন। ওই সময়টায় দুষ্কৃতকারীরা বেছে নিয়েছে, তারা সশস্ত্র অবস্থায় এসে ঘটনা ঘটিয়েছে।”
ছাত্রদলের কমিটি সংগঠনটির সবাই মেনে নিয়েছে দাবি করে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রিজভী বলেন, “একটা কমিটি হলে মনোমালিন্য একটু থাকে, মনের মধ্যে একটু ক্ষোভ থাকতে পারে।
“কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের ছবি পুড়িয়ে দেওয়া, শহীদ জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলা, ছাত্রদলের কার্যালয় আগুন দেওয়া- এটা কী ছাত্রদলের কেউ করতে পারে?”
ছাত্রদলে পদ না পাওয়ারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতা বলেন, “এটা পুলিশের ঐতিহ্যবাহী কথা।
“১০০/১৫০ গজ দূরে থানা। সব সময় এই কার্যালয়ের সামনে সাদা পোশাকধারী পুলিশ থাকে। তারা টের পায়, আমরা কখন বেরুচ্ছি, কখন ঢুকছি।
“এটা সরকারের মদদে হয়েছে বলেই পুলিশ নিশ্চুপ ছিল। পুলিশ দূরে দাঁড়িয়ে ছিল, কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা মনে করি এটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, রফিক শিকদার।

You Might Also Like