৩৯ স্ত্রী, ৯৪ সন্তান আর ৩৩ নাতি-নাতনির এক কর্তা!

ভারতের মিজোরামের পাহাড়ঘেরা এক প্রত্যন্ত গ্রাম। সেখানে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের সীমান্ত। একটি বাড়ি ওই গ্রামে তো বটেই, এখন গোটা বিশ্বেই পরিচিতি পেয়েছে। চারতলা বাড়ির ১০০টি কক্ষে বাস করেন ১৬৭ জন মানুষ। সেই বাড়ির কর্তা ৬৬ বছর বয়সী জিয়োনা চানা। তিনিসহ ওই বাড়িতে থাকেন তার ৩৯ জন স্ত্রী, ৯৪ জন ছেলে-মেয়ে এবং ৩৩ জন নাতি-নাতনি। এরা সবাই একই ছাদের নিচে দিব্যি সুখে বাস করছেন।
জিয়োনা বলেন, একসময় বছরে ১০টি করে বিয়ে করতাম। কিভাবে সামলাতেন এদের? জিয়োনার ব্যক্তিগত একটি কক্ষ ছিল। তার পাশে একটি ডরমিটরি ছিল। সেখানে থাকতেন স্ত্রীরা। তবে স্থানীয়রা বলেন, স্বামীর পাশে সব সময় ৭-৮ জন স্ত্রী থাকতেন। জিয়োনার সকল স্ত্রী এবং সন্তানরা ওই বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে বাস করেন। তবে এ বাড়ির রান্নাঘর একটিই। স্ত্রীরা দিন ঠিক করে নিয়েছেন। সেভাবেই রান্না চলে। সন্তানরা ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করা বা কাপড় ধোয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। বাড়ির ছেলেরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। এ বাড়ির ১৬৭ জনের খাওয়া-দাওয়ার প্রতিদিনের বিশাল আয়োজন, যেন কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে। এদের সবার জন্যে প্রতিদিন প্রায় ৯১ কেজি চাল, ৫৯ কেজির বেশি আলু প্রয়োজন হয়। এই বিশাল পরিবারের যা আছে তা দিয়েই দিব্যি জীবন চলে যাচ্ছে।
তবে প্রয়োজনে পরিচিত ও শুভাকাক্সক্ষীরা হাত বাড়িয়ে দেন। নতুন বিয়ে করতে এখনো দারুণ আগ্রহী জিয়োনা। বললেন, পরিবার বৃদ্ধিতে আমি এখনো বিয়ে করতে রাজি। এতগুলো মানুষকে আমার দেখে রাখতে হয়। তাদের দেখভাল করি। এ জন্যে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে চানার সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রীর দেখা হয়। প্রথম স্ত্রী তার চেয়ে ৩ বছরের বড়। বহু বিবাহ করতে তিনি স্থানীয় ক্রিশ্চিয়ান ধর্মের একটি শাখা ‘চানা’য় দীক্ষিত হয়েছেন। এরা বহু বিবাহের অনুমতি প্রদান করে। ১৯৪২ সালের জুনে এই ধর্ম প্রতিষ্ঠা পায়। তাদের বিশ্বাস খুব শিগগিরই এই ধর্মে দীক্ষিত মানুষরা পৃথিবী শাসন করবে। প্রায় ৪০০ পরিবার এ ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।

You Might Also Like