খালেদার বিরুদ্ধে মামলা যথার্থ- কামরুল : ‘শহীদদের তালিকা করবে বিএনপি’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা ‘যথার্থ’ বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

আজ (রোববার) রাজধানীতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ‘তথ্যের মিছিল’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতি নিয়ে মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিকৃত বক্তব্য, জাতির পিতার অপমান মেনে নেয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কেউ কটাক্ষ করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরও বিএনপি নেতা গয়েশ্বর রায়ের বিরুদ্ধে কেন রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হলো না- এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কামরুল ইসলাম।

এর আগে শনিবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ মন্তব্য করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়ে কেবলমাত্র রাজাকার ও রাজাকার পরিবারের সন্তানেরাই প্রশ্ন তুলতে পারেন।

তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে জাতির মধ্যে বিভক্তি করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার অশুভ চক্রান্ত করছে।’

এই ধরনের অপচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মাহবুব বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই ধরনের অপচেষ্টা করা হলে দেশবিরোধী এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপকর্মের জন্য আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি রেডিও তেহরানকে বলেন, বেগম জিয়া মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার মনোভাব থেকে নতুন করে একটা বিতর্ক সূচনা করেছেন। এটা গ্রহণ করা যায় না।

এদিকে, আজ রাজধানী নয়াপল্টনের ভাসানী ভবনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদেরকে ভাতা দেয়া হচ্ছে, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে, এতে আমরা খুশি। কিন্তু যারা শহীদ হয়েছেন তাদের কোনো প্রাপ্য নাই। কেন তাদের পরিবার-পরিজনরা এই মর্যাদা পাবেন না, কেন তাদের নাম ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হবে না?— প্রশ্ন রাখেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক ও মতবিরোধ রয়েছে এটা তো মিথ্যা না। শহীদদের সংখ্যা নিয়ে আমরা কেন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকব? তাই জাতির স্বার্থেই শহীদদের তালিকা তৈরি করা দরকার। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবে।

বিএনপি নেতার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল-এর চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম কবির বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য যদি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া যায় তাহলে মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ হয়েছেন তাদের জন্যও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকতে হবে।

এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করার প্রতিবাদে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব অডিটরিয়ামে এক যুব সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তাছাড়া, বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দল বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী তিনদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের এক প্রতিবাদ সভায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল বিভাগ, ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা শহর এবং ৫ ফেব্রুয়ারি থানা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করবে কৃষক দল।

You Might Also Like