সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দীতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

বইমেলা চলাকালীন মেলার আশপাশ এলাকা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার পর জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে তারা দিনের বেলায় সোহরাওয়ার্দী এলাকায় ঘোরাফেরা করতে পারবে। অবশ্য সে সময়ও তাদের তল্লাশি করা হবে।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

এ সময় ডিএমপি কমিশনার বলেন, যারা দিনের বেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করবে তাদের সূর্যাস্তের আগেই অর্থাৎ মাগরিবের নামাজের আজানের আগেই উদ্যান ত্যাগ করতে হবে। এরপর যদি উদ্যানে কাউকে পাওয়া যায় তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

কমিশনার বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এমনিতেই এবারের বইমেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নতুন করে এবারের বইমেলায় লেখক, প্রকাশক ও ব্লগারদের আলাদাভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। বিশেষ করে ব্লগাররা যাতে বইমেলায় এসে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন। অন্যদিকে প্রকাশকরা যেহেতু অনেক ব্লগারের বই ছাপিয়ে থাকেন, সেজন্য তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারটিও মাথায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া লেখকদেরও এর আওতায় আনা হয়েছে। এরপরেও কেউ যদি মনে করেন তার নিরাপত্তার প্রয়োজন, তবে তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা নিতে পারবেন।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এবারে মেলায় প্রবেশের গেট ও বাহির হওয়ার গেট আলাদা করা হয়েছে। যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে। রাস্তায় কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। রাস্তা পরিষ্কার থাকবে। হকার উচ্ছেদে পুলিশের একটি টিমও প্রস্তুত থাকবে। চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। যাতে অপরাধীরা অপরাধ সংঘটিত করে পালাতে না পারে। বইমেলায় আগত বিদেশি অতিথিদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। বিদেশি স্টলগুলোতেও নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এর আগের মেলাগুলোতে কিছু সমস্যা ছিল, যা এবার রাখা হয়নি। যেমন প্রবেশ ও বাহির পথ এর আগে একটাই ছিল, যা এবার রাখা হয়নি। এর আগে মেলা ও মেলার বাইরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ছিল না। এবার পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো এলাকা ২২০টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারিতে রাখা হয়েছে, যা এর আগে ছিল না। পাশাপাশি এবারে গোয়েন্দা নজরদারিসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে, যথেষ্ট অগ্রগতি আছে। সময় হলে বলা হবে। অভিজিৎ হত্যাসহ অতীতের সব ঘটনাকে পর্যালোচনা করে এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, অপরাধমুক্ত সমাজ কল্পনা করা ঠিক না। বিদেশের চেয়ে বাংলাদেশে অপরাধের মাত্রা অনেক কম। বাংলাদেশে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়, তার মধ্যে ৯৫ শতাংশ ঘটনায় অপরাধীদের আটক করতে পুলিশ সফল হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার ছাড়া্ও অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনারগণ, গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনারগণসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like