সুন্দরবনকে রক্ষার আহ্বান সরকারের, প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্টদের

সুন্দরবন অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার কৌশল বের করতে স্থানীয় জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছে সরকার।

আজ (সোমবার) সকালে খুলনার স্থানীয় একটি হোটেলে ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণে জাতীয় কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (এনবিস্যাপ)’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বন ও পরিবেশ সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এ আহবান জানান।

খুলনা পরিবেশ অধিদফতর আয়োজিত এ কর্মশালায় পরিবেশ সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সুন্দরবনই দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসহ মানুষের অসচেতনতায় জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। এ হুমকি মোকাবেলায় ইতোমধ্যে খসড়া কর্মপরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে। যা রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অংশ হতে যাচ্ছে। এটাকে আরও যুগোপযোগী করতে স্থানীয় জনগণের সুপারিশ সম্বলিত কর্মকৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

কর্মশালায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিবেশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি, তথ্য, বন বিভাগের কর্মকর্তা, এনজিও, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশবাদী সংগঠন সুন্দরবন ওয়াচ গ্রুপ-এর আহবায়ক গৌরাঙ্গ নন্দী রেডিও তেহরানকে বলেন, সরকারি আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় ভিন্নমতের বা যারা সমালোচনা করতে পারে এমন কাউকে ডাকা হয় নি। তিনি মনে করেন- স্থানীয় জনগণের অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতা ছাড়া যে কোন পরিকল্পনাই ব্যর্থ হতে বাধ্য।

গৌরাঙ্গ নন্দী উল্লেখ করেন, সুন্দরবন অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে মংলা পোর্ট বা অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প এটি বড় বাধা।

সুন্দরবন অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান রেডিও তেহরানকে বলেন, দেশের বিশাল সম্পদভাণ্ডার সু্ন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করেই পরিবেশ রক্ষার পরিকল্পনা করতে হবে। একইসাথে তাদের বিক্ল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হবে। তাছাড়া পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্যই সরকারকে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের মতো পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্পও বন্ধ করতে হবে।

এ অবস্থায় উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশবাদী সংগঠন, সুশীলসমাজ এবং সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সাথে সলা-পরামর্শ করে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে; যাতে সেটা টেকসই হয় এবং জনগণ তা থেকে সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

You Might Also Like