২৮ বছর পর শহরে শিশুর জন্ম

১৯৮৭ সালের পর শহরে কোন নবজাতকের জন্ম হয়নি। জনসংখ্যা কমতে কমতে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৮৪ জনে। দুই যুগেরও বেশি সময় পর গেল সপ্তাহে শহর দেখলো নবজাতকের মুখ।

ইতালির উত্তরাঞ্চলের ছোট শহর ওস্তানায় ওই নবজাতকের জন্মকে বেশ উৎসাহ নিয়ে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

ইতালির পিডমন্ট অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার জন্য সন্তান জন্ম নেওয়ার এই ঘটনা খুবই গুরুত্বপূণ। ওস্তানা পৌরসভার মেয়র নবজাতকের এই জন্মকে ‘শহরবাসীর স্বপ্নপূরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। গত ১০০ বছর ধরে ওই শহরে জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে।

শহরের এই ক্ষুদে বাসিন্দার নাম নাম রাখা হয়েছে পাবলো। ইতালির তুরিন হাসপাতালে পাবলোর জন্ম হয়। ইতালির লা স্টাম্পা পত্রিকার বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, পাবলোর জন্মের পর ওই শহরের মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ জন। তবে এই জনসংখ্যার মাত্র অর্ধেক ওই শহরে বসবাস করে।

ওস্তানার মেয়র গিয়াকোমো লুম্বার্ডো বলেন, ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ওস্তানা শহরকে ১০০০ জন বাসিন্দার শহর বলা হতো। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকেই এখানে জন্মহার কমতে থাকে। আর ১৯৭৫ সাল থেকে জন্মহার একেবারে কমে যায়। যে কারণে ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত মাত্র ১৭টি শিশুর জন্ম হয় এই শহরে। পরের ইতিহাস আরও ভয়াবহ। ১৯৮৭ সালের পর আর কোনো শিশুই জন্মায়নি এই শহরে। গত সপ্তাহে জন্ম নেয় পাবলো।

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ওস্তানা শহরের জনশূন্যতার এই প্রবণতা দূর করার চেষ্টা চলছে। পাঁচ বছর আগে পাবলোর মা-বাবা সিলভিয়া ও হোসের পরিকল্পনা ছিল বিদেশ চলে যাওয়ার। কিন্তু তাদেরকে যখন শহরের নিকটবর্তী এক পাহাড়ে আবাসনের সুবিধা দেওয়া হলো তখন তারা এখানে থেকে যান।

You Might Also Like