কোপা দেল রের সেমিতে বার্সা

পেছন থেকে উঠে এসে ম্যাচ জয়ের গল্প অসংখ্যবার লিখেছে বার্সেলোনা। সেই তালিকায় আরেকটি কীর্তি যোগ করলো তারা। কোপা দেল রের সেমিফাইনালে তারা উঠেছে আতলেতিক বিলবাওকে গেলো রাতে ৩-১ গোলে হারিয়ে। নু ক্যাম্পে এই তিন গোলে বার্সার এমএসএন ত্রয়ীর দুজনের গোল আছে। লুই সুয়ারেস ও নেইমার করেছেন লক্ষ্যভেদ। অন্য গোলটি পিকের। প্রথম লেগে ২-১ এর জয় নিয়ে খেলতে নেমেছিল বার্সা। ৫-২ এর অ্যাগ্রেগেট নিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা গেলো এবারের আসরের শেষ চারে।

নিষেধাজ্ঞা ও ইনজুরির কারণে লিওনেল মেসি, সুয়ারেস ও নেইমারের ত্রিশুল আক্রমণ গত দুই ম্যাচে একসাথে নামতে পারেনি। এবার পারলো বটে। কিন্তু খেলার প্রথমার্ধে তারা খুব প্রভাব রাখতে পারেনি। উল্টো গতবারের ফাইনালিস্ট বিলবাও প্রথম অর্ধে বার্সার মাঠে আধিপত্য বজায় রেখে খেলেছে। থমাস ভারমালেনের হেডে গোল হলো না অফ সাইডের কারণে। কিন্তু ১২ মিনিটে স্টেডিয়ামে নিস্তব্ধতা এনে দেন ইনাকি উইলিয়ামস। আদুরিজের ঠেলে দেয়া বল পেয়ে গোলকিপার মার্ক আন্দ্রে তের স্তেগানকে বেশ চতুরতার সাথে হার মানিয়েছেন তিনি।

এরপর আরো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে বিলবাও। উইলিয়ামসের অ্যাসিস্টে গোল হচ্ছিল প্রায়। হাভিয়ের ইরাজো সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি। শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও নেইমার বার্সার প্রান্ত থেকে প্রধান হুমকি হয়ে উঠে আসছিলেন। আইমেরিক লাপোর্তে তাকে ফেলে দিলে পেনাল্টির আবেদন জানিয়েছিলেন নেইমার। পাত্তা দেননি রেফারি। বক্সের মধ্যে মেসি এদিন নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারছিলেন না। বিরতির আগে তার একটি শট বাইরে চলে গেলো।

তবে চেষ্টা তো আর ছাড়া যায় না! সেই চেষ্টার ফল বার্সা পায় বিরতির সাত মিনিট পর। সার্জিও রবার্তো ও মেসি মিলে বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণ রচনা করেছিলেন। চূড়ান্ত ক্রস এলো। ইভান রাকিতিচ বা লাপোর্তের কেউ বলটাকে পেলেন না। সুয়ারেস দিলেন চমৎকার ফিনিশিং। এই মৌসুমে ৩০ গোল হলো সুয়ারেসের। সমতা আনলো বার্সা।

এরপর সাবিন মারিনোর গোলের চেষ্টা রুখেছেন জেরেমি ম্যাথিউ। ইরাজোকে ঠেকিয়েছেন তের স্তেগান। তবে ডান পাশ থেকে রাকিতিচ ও আলভেসের যুগলবন্দীতে লক্ষ্যভেদ করে ফেলেন পিকে। ৮১ মিনিটে লিড নেয় কাতালানরা। আর স্টপেজ টাইমে নেইমার গোল করে ব্যবধান বাড়ান। চমৎকার জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সা।

You Might Also Like