দখলদার সরকারের ১০০ দিন : গুম খুন সন্ত্রাস দুর্নীতি আর নৈরাজ্যের লীলাভূমি সারাদেশ

মুক্তিযুদ্ধের কথিত স্বপক্ষের শক্তির দাবীদার বর্তমান ক্ষমতাসীন দখলদার সরকারের লাখো কন্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টির পর এবং কথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলা নববর্ষ পালন শেষে বাঙালিরা এসব তামাসা ও কেবল অনুষ্ঠানসর্বস্ব নৃত্য-গীত শেষে আবার দ্রুত স্বকীয় সত্তায় ফিরে গেছে। নারায়নগঞ্জের ৭ জনকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে তাদেরকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার নৃশংস ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রতিদিন খবরের পাতায় চোখ রাখলে বা টিভি চ্যানেলের সংবাদ দেখলে মারামারি, খুনাখুনি, গুম, হত্যা, অপহরনের মত সন্ত্রাসী ঘটনার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সকল পর্যায়ে দুর্নীতি, অব্যবস্থা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতশীল ভয়াবহ অবস্থার  খবর, চিত্র ও কাহিনীর কথা শুনতে শুনতে ও দেখতে দেখতে জাতি এখন শুধু শাসরুদ্ধকর নয় বাকরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থায় উপনিত হয়েছে। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মত সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির জন্যও বর্তমান অনির্বাচিত সরকার বাংলাদেশের জন্য আর একটা বিশ্বরেকর্ড এর “গৌরব” অর্জন করে নিয়ে আসতে পারবে। ৫ জানুয়ারীর ভোটারহীন, প্রার্থীহীন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ও অপ্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচনে প্রত্যক্ষভাবে ভারতের আশীর্বাদ ও সমর্থনপুষ্ঠ হয়ে গায়ের জোরে আর একবার গদিনসীন বর্তমান দখলদার সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরা ২০০৯ এর নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত বার বার বলছে তারা বাংলাদেশকে ’৭২ এর সংবিধানে তথা তাদের দলীয় স্বার্থের সাথে সংগতিপূর্ণ বা ক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে রেখে দেশে স্বৈরশাসন কায়েমের জন্য সহায়ক “মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়” ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। তাদের কথিত উন্নয়নের শ্লোগান হল “ভিশন ২০-২১”। কিন্তু ২০০৯ এর নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান সময় (১০০ দিন ) পর্যন্ত শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী সরকারের কার্যকলাপে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তারা মুখে যা বলে বা বলে বেড়ায় কার্যত করে তার উল্টোটা। মুখে বলছে ভিশন ২০-২১, কিন্তু তাদের কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে তাদের মিশন চলছে পেছনের দিকে ৭২-৭৫ এর দিকে। বলছে দেশকে ’৭২ এর সংবিধানে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, কিন্তু ’৭২ এর সংবিধানে নয় তারা দেশকে নিয়ে যাচ্ছে ৭২-৭৫ এর বিভীষিকাময় অনিশ্চিত, অন্ধকার ও নৈরাজ্যেকর পরিস্থিতির দিকে। ’৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার কথা বলে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানকে কাট-ছাট করে জোড়াতালি দিয়ে তারা সংবিধানকে একটা হযবরল বা জগাখিচুরীর রূপ দিয়ে স্বৈারাচারী কায়দায় কেবল তাদের দীর্ঘসময়  ক্ষমতায় থাকার বা ক্ষমতা ধরে রাখার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করে নিয়েছে। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের অব্যাহত হরতাল ও অবরোধের মুখে শেখ হাসিনা ও তার জোট সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিগত ৫ জানুয়ারি প্রধান বিরোধীদল বিএনপি’সহ অধিকাংশ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নির্বাচন বয়কট করা সত্ত্বেও স্বীয় স্বার্থে সংশোধিত সংবিধানের বিধানমত (ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার) পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ এমনকি সেনাবাহিনীসহ রাষ্ট্রের সকল সশস্ত্র শক্তি ও দলীয় ক্যাডার ও সশস্ত্র পেশীশক্তিকে ব্যবহার করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আন্দোলনরত নিরস্ত্র বিরোধী শক্তিকে নির্মূল করে প্রধান বিরোধী দলসহ অধিকাংশ দলের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্পূর্ন গায়ের জোরে ৫ জানুয়ারি একটা একতরফা ও প্রহসনমূলক নির্বাচন করে শেখ হাসিনা ও তার কথিত জোট আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে গেছে। একমাত্র ভারতের নির্লজ্জ সমর্থন পেয়ে বিশ্বের প্রায় সব বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের সমর্থনহীন সম্পূর্ন গায়ের জোরে ৫ জানুয়ারি শেখ হাসিনা ও তার জোট ভোটারহীন, প্রার্থীহীন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন লজ্জাকর ও কলংকময় একটা  নির্বাচন অনুষ্ঠান করে। নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রওশান এরশাদকে ফাঁদে ফেলে বা হালুয়া-রুটির ভাগ দিবে বলে ফুঁসলিয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে হাইজ্যাক করে একটা অনুগত বিরোধীদল সাজিয়ে নজিরবিহীন এক অদ্ভূত ধরনের সরকার গঠন করে শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতা দখল করে  বসে গেছে।
নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনাসহ তার জোটের প্রায় সব নেতাই বার বার বলেছিল সংবিধানের বাধ্য-বাধকতার জন্যই তাদেরকে ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন করতে হচ্ছে, এটা কেবল একটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন, ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর তারা বিরোধী দলের সাথে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় বসবে। কিন্তু ৫ জানুয়ারির পর ৩ মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও শেখ হাসিনা ও তার কথিত নির্বাচিত সরকার বিরোধী তথা বিএনপি জোটের সাথে একাদশ নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় বসাতো দূরের কথা বরং শেখ হাসিনা ও তার সরকারের মন্ত্রী ও নেতা-নেত্রীরা বেশ দাম্ভিকতার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রকাশ্যেই বলে বেড়াচ্ছে যে তারা ৫ বছরের জন্যই নির্বাচিত (জনগণের ম্যান্ডেট না থাকলেও) হয়েছে, সুতরাং ৫ বছরের আগে আর কোন নির্বাচন নয় এবং  বিরোধী জোটের সাথে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোন আলোচনাও হবে না। তাদের বর্তমান অবস্থান ও বক্তব্য থেকে এখন এটা স্পষ্ট যে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সবার অংশগ্রহণমূলক একটা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জাতিসংঘসহ বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের চাপকে উপেক্ষা করা এবং বিরোধী দলকে আন্দোলন থেকে নিবৃত্ত করার জন্য শেখ হাসিনা ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এমন প্রতারনামূলক প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস দিয়ে আসলে দেশবাসী বিশেষ করে বিরোধী জোট ও বিদেশী রাষ্ট্র ও সংস্থাসমূহকে ধোকা দিয়েছে। আওয়ামীপন্থি বুদ্ধিজীবি, কথিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা এই প্রতারনাকে আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কৌশল বলে জায়েজ বা হালাল করার পাশাপাশি বলছে বিএনপি বা বিরোধী জোট শেখ হাসিনা ও তার দলের কৌশলের কাছে হেরে গেছে। প্রতারনা করে, ধোকা দিয়ে নির্বাচনে জিতে যাওয়া বা নকল করে পরীক্ষায় পাস করাকে যদি বলা হয় কৌশল করে জিতে গেছে বা পাস করে গেছে তাহলে এদের কাছ থেকে জাতি বা রাজনৈতিক দলগুলো কৌশলের নামে প্রতারনা ও ধোকাবাজি ছাড়া আর কি শিখবে ! এখানে উল্লেখ্য, পঞ্চোদশ সংশোধনীর পরেও বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই ৫ জানুয়ারির পরেও সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা যেত। কিন্তু শেখ হাসিনা ও তার দল এ ব্যবস্থাটাকেও পাশ কাটিয়ে ৫ জানুয়ারিতেই নির্বাচন করতে হবে, না হলে সংবিধান রক্ষা হবে না বলে তার ক্ষমতা দখলের কৌশল নিয়েছিল। আসলে গত বছর রাজশাহীসহ প্রথমে ৪টা সিটি করপোরেশন ও পরে গাজিপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীর কাছে শেখ হাসিনার আওয়ামী জোট সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পরেই শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরা বুঝে গেছে বিএনপি’র দাবি মেনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিলে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তাই তারা বিরোধী জোটের দাবিকে উপেক্ষা করে বিরোধী জোট নির্বাচনে অংশ না নিলেও নিজেদের দলীয় সরকারের অধীনে ভোটারবিহীন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন একতরফা নির্বাচন করে হলেও ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল নিয়েছিল। তাই তড়িঘড়ি করে রাষ্ট্রের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করে ফেলে। এখন বলছে বিরোধী জোট নির্বাচনে না আসলে সরকার কি বসে থাকবে! বিরোধী জোটতো নির্বাচনে অবশ্যই আসত যদি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হত। এমন দাবি বাস্তবায়ন করে শেখ হাসিনাই তো ১৯৯৬ সালে নির্বাচন করেছিল। এখন এ দাবি মানা হলে কি এটা বিরোধী জোটের সরকার হয়ে যেত? এটাতো উভয় জোটের জন্যই নির্বাচনকালীন রেফারির মত নিরপেক্ষ একটা সরকার হত, এর অধীনে নির্বাচন করে যার পক্ষে জন-সমর্থন বেশি হত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেই দলই জিতে আসত। তাহলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটা হত সত্যিকারের অর্থে গণতান্ত্রিক, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন। শুধু সংবিধানে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন করার কথা লেখা আছে বলেই কি ভোটারহীন, প্রার্থীহীন, প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ব্যতীরেকে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদের অর্ধেকের চেয়ে বেশী আসনে জয়লাভ করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত একটা নির্বাচন সংবিধান সম্মত নির্বাচন হয়ে গেল? সংবিধানকে একতরফাভাবে সংশোধন করে শেখ হাসিনা বরাবরই বলছে সে জনগণের ভোটের অধিকার  নিশ্চিত করেছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশের অর্ধেকের চেয়ে বেশি ভোটার (শেখ হাসিনাসহ) ভোটই দিতে পারেনি, তাহলে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হলো কোথায়? এজন্য কি শেখ হাসিনার দলীয় সরকারের অধীনে ক্ষমতায় থেকে একতরফা নির্বাচন করাটা দায়ী নাকি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণমূলক একটা গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের দাবি জানানো এবং দাবি না মানলে নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহত করার আন্দোলনটা  দায়ী?  এ ব্যাপারে জনমত যাচাই এর জন্য যদি শেখ হাসিনার সরকার একটা গণভোটের ব্যবস্থা করত তবে এ প্রশ্নের সঠিক জবাব পাওয়া যেত।
শেখ হাসিনা ও তার তোষামদকারীরা ৫ জানুয়ারির আগে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আর একটা নির্বাচনের (একাদশ) ব্যাপারে আলোচনায় বসার জন্য যেসব ওয়াদা, প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস দিয়ে বক্তব্য রেখেছিল নির্বাচনের পর পর তার কিছুটা স্মরণে বা রেশ থাকায় পুরোপুরি প্রতারনামূলক বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে যাবে বলে আলোচনার জন্য বিএনপি’কে বিভিন্ন পূর্ব শর্ত দিয়েছিল (যাতে আলোচনা বর্জন করা যায়)। কিন্তু এখন আর কোন শর্ত-টর্ত নাই, সরাসরি প্রত্যাখান, সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটা গ্রহণযোগ্য ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি’র সাথে কোন আলোচনাই হবে না ৫ বছরের আগে, ইত্যাদি ইত্যাদি। শেখ হাসিনা ও তার অনুগতদের এহেন আস্ফালন, দাম্ভিকতা, মনোভাব ও অবস্থান দেখে বলা যায় খালেদা জিয়া ও তার জোটের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা ও তার দলকে বিশ্বাস করাটাই ছিল ভুল ও বোকামী। অর্থাৎ শেখ হাসিনা ও তার সমর্থকগোষ্ঠী তাদের ভাষায় কৌশল করে বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা ও তার জোট জিতে গেছে বলে বাংলাদেশে “জোর যার মুল্লুক তার” এবং একটা “মগের মুল্লুক” প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। এখন শেখ হাসিনা ও তার জোটের লোকেরা বলছে আন্দোলন করে বিএনপি বা ১৯ দলীয় জোট তার সরকারকে আর একটা মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে বা বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না, বিএনপি’র আন্দোলন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা নাই। সরকার ও সরকারি দলের এসব উস্কানীমূলক মন্তব্যের বা সুরের সাথে তাল মিলিয়ে আওয়ামী সমর্থক গোষ্ঠীর লোকজনও বলছে বিএনপি যদি রাজপথে কঠোর আন্দোলন করে সরকারকে বাধ্য করতে না পারে তবে সরকার ৫ জানুয়ারির আগের কথামত মধ্যবর্তী আর একটা নির্বাচনের জন্য তাদের সাথে আলোচনায় বসবে না বা আপোস করবে না। এসব কথা-বার্তা ও মনোভাবের অর্থ দাড়ায় মুখে ওয়েস্ট মিনিস্টার বা পশ্চিমা গণতন্ত্রের বুলি যতই আওড়াক না কেন বাস্তবে শেখ হাসিনা ও তার সমর্থক গোষ্ঠী গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে বিশ্বাসী নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সব সমস্যা সমাধান করার কথা, অগণতান্ত্রিক পন্থায় নয়। সরকারের হাতে রাষ্ট্রের সকল সশস্ত্র শক্তি বা বাহিনী আছে, তাদের ছত্র-ছায়ায় সরকারের দলীয় পেশীশক্তি ও সশস্ত্র ক্যাডারতো রয়েছেই, তাহলে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করাতে হলে বা পরাজিত করতে হলে বিরোধী জোটকে কি সরকারের চেয়ে আরো বেশি শক্তিশালী অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাজপথে চরম সহিংসতায় বা যুদ্ধে নামতে হবে?  সরকার ও সরকার সমর্থিত লোকদের কথাবার্তায়তো তাই বুঝায়। এটা কি তাহলে তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বা মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ? যে কোন সরকারকে দাবি আদায়ে বাধ্য করার জন্য কি সব সময় রাজপথে যুদ্ধে বা সহিংস আন্দোলনে নামতে হবে? তাহলেতো দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে। দেশ পরিণত হবে সোমালিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মত একটা অকার্যকর রাষ্ট্রে। তাহলে আর গণতন্ত্রের অর্থ বা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে লাভ কি? শেখ হাসিনা ও তার সমর্থক গোষ্ঠী বার বার আরো যে কথাটা বলে তা হচ্ছে বিরোধী জোটের আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা নাই , তাই তাদের আন্দোলন সফল হয় নাই বা হয় না। বর্তমান বাস্তবতায় এটাও একটা অসাড় ও উস্কানীমূলক মন্তব্য। রাষ্ট্রের সকল সশস্ত্র শক্তি বা বাহিনী এবং সরকার দলীয় পেশীশক্তি ও সশস্ত্র ক্যাডারদের বিরুদ্ধে রাজপথে সমান বা আরো বেশী সশস্ত্র শক্তি নিয়ে যুদ্ধ বা সহিংসতা করে কি বিরোধী জোটের জনসম্পৃক্ততার প্রমাণ দিতে হবে? জনগণ কি রাস্তায় নেমে সরকারের সশস্ত্র শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে? বিরোধী জোটের সাথে বা তাদের দাবীর পক্ষে সাধারণ জনগণের সমর্থন বা সম্পৃক্ততা আছে কি নাই তা রাজপথে সহিংস আন্দোলন করে প্রমাণ করতে হবে কেন? তদুপরি আগের অবস্থার চেয়ে বর্তমানে বিরোধী দলের আন্দোলন ঠেকাতে বা দমন করতে রাষ্ট্রীয় শক্তি যেভাবে বেপরোয়া হয়ে গেছে, লাঠিচার্জ বা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের আগেই ফ্রি-স্টাইলে রাবার বুলেট ও গুলি পায়ের বা শরীরের নিচের অংশে না ছুড়ে সরাসরি বুকের দিকে তাক করে ছুড়ে এ অবস্থায় কি সাধারণ জনগণ বা নেতা-কর্মীরা আন্দোলন করতে রাস্তায় নামার সাহস পাবে?  ৯০ এর আন্দোলনে, ৯৬ এর আন্দোলনে বা পরবর্তী সময়েও সরকার বিরোধী আন্দোলনে সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমেছিল, তখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর আচরন বা এ্যাকশান এতটা হিংস্র বা ভয়ংকর ছিল না। গণতান্ত্রিক ও অহিংস পন্থায় জনগণের মতামত বা সম্পৃক্ততা যাচাই করার জন্য রেফারেন্ডাম বা গণভোট দিয়েইতো তা প্রমাণ করা যায়। কিন্তু বর্তমান শেখ হাসিনার কথিত নির্বাচিত সরকার জনমত যাচাই এর এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটাও আরো অনেক আগেই সংবিধান থেকে মুছে ফেলে দিয়েছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা ও তার সমর্থক গোষ্ঠীর যুক্তি ও তত্ত্ব হল “শক্তি যার দেশ বা ক্ষমতা তার”। এই হলো শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ মার্কা গণতন্ত্রÑ যা তাদের ১৯৭২-৭৫ শাসনামলে চালু করা হয়েছিল। ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর পরই উপজেলা নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যখন প্রথম ২ ধাপের নির্বাচনে তাদের দল সমর্থিত প্রার্থীদের খারাপ ফলাফল দেখল তখন পরবর্তী ৩ ধাপের নির্বাচনে দেশবাসীকে ভাল ফলাফল দেখানোর জন্য ভোট ডাকাতি, ভোট কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেওয়া, ব্যালট-বাক্স ছিনতাইসহ ভোট জালিয়াতি তথা নির্বাচনে কারচুপি করার যত কৌশল বা পন্থা আছে সবই তারা অবলম্বন করেছে, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ১৯৭৩ সালের ভোট জালিয়াতির নির্বাচনের সাথে দেশকে ৪০ বছর পর আবারও পরিচয় করিয়ে দিল, অর্থাৎ ’৭২ এর সংবিধানে নয়, শেখ হাসিনার সরকার দেশকে আবারও ৭২-৭৫ এর কালো যুগেই ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
গণতান্ত্রিক নির্বাচন ও সরকারের সকল প্রচলিত নিয়ম ও সংজ্ঞাকে উপেক্ষা করে বা বিসর্জন দিয়ে কেবল সংবিধানের দোহাই দিয়ে যারা বা যে দল গায়ের জোরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে পারে এবং রাষ্ট্রের সকল সশস্ত্র শক্তি ও দলীয় ক্যাডার ও পেশীশক্তিকে ব্যবহার করে বিরোধী দল বা মতকে পরাভূত ও নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারে রাষ্ট্র ও সরকার তথা শাসন পরিচালনায় দেশ ও জনগনের কাছে জবাবদিহিতার কোন তোয়াক্কা তারা কওে না, কারণ তারাতো জনগণের প্রকৃত সমর্থন বা ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। তাই ৫ জানুয়ারির কথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন অগণতান্ত্রিক সরকারের কর্মকান্ডে রাষ্ট্র পরিচালনা তথা দেশ শাসনে স্বৈরাচারী কায়দা ও অগণতান্ত্রিক নিয়মনীতির প্রাধান্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। দেশের প্রকৃত অবস্থা কি, জনগণের ভোগান্তি ও দূর্ভোগ, জানমালের নিরাপত্তা তথা দেশ ও জনগণের সার্বিক কল্যাণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে মাথা ঘামানোর কোন মাথা-ব্যাথা বা দায়বদ্ধতা বর্তমান হাসিনা সরকারের নাই। বিগত ৫ বছরের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কর্মকান্ডে স্বভাবতই দেশে প্রশাসন, আইনের শাসন, বিচার ব্যবস্থা সবকিছু একবারেই ভেঙ্গে পড়েছে এবং বলতে গেলে সারা দেশে হত্যা, খুন, গুম, অপহরণ, ধর্ষনের এক মহোৎসব চলছে, দেশের সর্বস্তরে দুর্নীতিসহ সবধরনের অপরাধ ও অপকর্মের রেকর্ড সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, চারিদিকে অরাজকতা ও নৈরাজ্য গোটা দেশকে গ্রাস করে নিয়েছে, মনে হয় দেশ চলছে যার যা ইচ্ছামত, কোন সরকার বা আইনের অস্তিত্ব দেশে আছে বলে মনে হয় না। অন্যায়কারী ও অপরাধীরাও বোধ হয় এই ভেবে স্বস্তি বোধ করছে যে ২ নম্বরী নির্বাচন করে বর্তমানে ক্ষমতায় যে স্বৈরাচারী ও ভেজাল সরকার আছে তাদের আমলে সব ধরনের অন্যায় ও অপরাধ করা সবচেয়ে বেশি সহজ ও নিরাপদ। সারা দেশে ফ্রি-স্টাইলে ও বেপরোয়াভাবে এখন যে হারে অন্যায়, অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটিত হচ্ছে তাতে তাই প্রমাণ করে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বভাবতই এবং সহজেই বলা যায় শেখ হাসিনা ও তার দোসররা দেশকে “ভিশন ২০-২১” অর্থাৎ উন্নয়নের অর্থে সামনের দিকে নয়- “মিশন ৭২-৭৫” তথা নৈরাজ্য ও অরাজকতার অর্থে পেছনের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের ৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত দেশ শাসনের ইতিহাস যারা জানে এবং ঐ সময়ের বাংলাদেশের ঘটনা প্রবাহের যারা প্রত্যক্ষ ও জীবিত সাক্ষী তারা আজকের বাংলাদেশের আওয়ামী শাসনের হুবহু (হয়ত তার চেয়েও বেশি) মিল দেখে নিশ্চয়ই শিহরিয়ে উঠবে। আজকের প্রজন্ম আওয়ামী লীগের ৪০ বছর আগের দুঃশাসন সম্বন্ধে কিছুই জানে না বা জানার সুযোগ পায়নি। তবে জোর করে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ শাসন করতে গিয়ে সুশাসনের পরিবর্তে দুঃশাসন উপহার দিয়ে  আওয়ামী লীগ নিজেরাই বর্তমান প্রজন্মকে আওয়ামী লীগের ৭২-৭৫ সময়ের ইতিহাস ও ঘটনাপ্রবাহ সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারনা দিতে বা জ্ঞান লাভ করতে সুযোগ করে দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে এখন বাংলাদেশে যা ঘটছে বা বাংলাদেশের অবস্থা যা হচ্ছে তা আওয়ামী লীগের ৭২-৭৫ সময়ের অবস্থার চেয়ে আরো ভয়াবহ ও ভয়ংকর। এখন দেশে যা হচ্ছে বা ঘটছে তার সূচনা বা শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগের ৭২-৭৫ সময়ের শাসনামলেই। স্বাধীনতার পর এ দেশের মানুষ আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে বিনাবিচারে হত্যা বা ক্রস-ফায়ারে মৃত্যুর ঘটনা সর্বপ্রথম প্রত্যক্ষ করেছিল। সর্বহারা পার্টির বিপ্লবী নেতা (মেধাবী প্রকৌশলী ) সিরাজ সিকদারকে ১৯৭৩ সালে পুলিশ কর্তৃক সকালে গ্রেফতার করে ঐদিনেই মেরে ফেলা হয়েছিল। সন্ধ্যায় সংসদে দাঁড়িয়ে ঐ সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব বলেছিলেন, “কোথায় আজ সিরাজ শিকদার”? স্বাধীনতার জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও কার্যত বা প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিল না, গণতন্ত্রের অন্যতম ও প্রধান উপাদান হচ্ছে ভিন্ন মতকে শ্রদ্ধা করা, বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করা এবং মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা। এটা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেরও অন্যতম প্রধান চেতনা ছিল। কিন্তু ১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে গণতন্ত্রকে পুরোপুরি কবর দেওয়া হয়েছিল, মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারকে স্তব্ধ করে দিয়ে ভিন্ন মতের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে দিয়ে একদল (বাকশাল) ও এক নেতার রাজতন্ত্র তথা স্বৈরতন্ত্র কায়েম করার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঐ সময় সংসদে ৪র্থ সংশোধনীর বিরোধিতা করে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও তখনকার সংসদ সদস্য জে. আতাউল গনি ওসমানী সংসদে শেখ মুজিবের উপস্থিতিতে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “আমরা আইয়ূব খানকে দেখেছি, আমরা ইয়াহিয়া খানকে দেখেছি, তাই আমরা স্বাধীন বাংলার মাটিতে মুজিব খানকে দেখতে চাই না” Ñএই কথা বলে সেদিন জে. ওসমানী সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। যে কারণে আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীরা আজ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের এই মহানায়ককে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসসহ রাষ্ট্রীয় কোন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান বা দিবসেও তাকে শ্রদ্ধাতো দূরের কথা স্মরণও কওে না। ঐ একই সময় ৪র্থ সংশোধনীর বিরোধিতা করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের তথা বাঙালিদের স্বাধিকার ও  গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র দৈনিক ইত্তেফাকের মালিক ও প্রতিষ্ঠাতা মরহুম তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ঐ সময় থেকেই স্পষ্ট হয়েছিল যে আওয়ামী লীগ ভিন্নমতকে সহ্য করতে পাওে না এবং ঐ সময় থেকেই ভিন্নমতকে স্বৈরাচারী কায়দায় দমন করার কায়দা-কানুন প্রণয়ন ও অনুসরণ করা শুরু করেছিল। যাতে কেউ তখনকার (৭২-৭৫ সময়ের) সরকারের সমালোচনা বা বিরোধিতা করতে বা ভিন্নমত প্রকাশ করতে না পারে,  কেবলমাত্র সরকারের পক্ষে বা সরকারের কাজ-কর্মের খবরা-খবর প্রকাশের জন্য সরকারের মালিকানায় ও নিয়ন্ত্রণে মাত্র ৪টা সংবাদপত্র ছাড়া দেশের সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, ফলে শত শত সাংবাদিক ও সংবাদ-কর্মী বেকার হয়ে গিয়েছিল। ভিন্নমত প্রকাশের বা যে কোনভাবে সরকারের বিরোধিতা করার দায়ে বা যে কোন মিথ্যা অযুহাতে যাতে যে কাউকে যতদিন ইচ্ছা ততদিন বিনাবিচারে আটক করে রাখা যায় সেজন্য “বিশেষ ক্ষমতা আইন” প্রণয়ন করা হয়েছিল (যা ’৭৪ এর কালো আইন বলে খ্যাত) । আওয়ামী লীগের সৃষ্ট এ আইন এখনও বহাল আছে, কারণ ক্ষমতায় এসে সব সরকারই চায় যাতে তাদের স্বার্থে (ভিন্নমত ও বিরোধী দলকে দমন করতে) এ আইনকে কাজে লাগাতে পারে।
আওয়ামী লীগের ৭২-৭৫ সময়ের শাসনকালেই (’৭৩ সালে) প্রথম এ দেশে গুমের ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে তাদের শাসনামালেই বিশেষ করে বিগত ১০০ দিনে গুম, অপহরণ ও হত্যার ঘটনা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ৭২-৭৫ সময়ে রক্ষীবাহিনী তৈরি করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কায়েমের মাধ্যমে ভিন্নমতাবলম্বি ও বিরোধী শক্তিকে নির্মূল করা হয়েছিল, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্যমন্ত্রী বর্নচেরা হাসানুল হক ইনুদের জাসদের হাজার হাজার কথিত বিপ্লবী গণবাহিনীর কর্মীকে রক্ষীবাহিনী দ্বারা বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমানে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারও পুলিশ ও র‌্যাবের মাধ্যমে ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার, বন্দুকযুদ্ধ ইত্যাদি নামে শত শত লোককে (বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীকে) হত্যা করছে। বিএনপি’র শাসনামলে “অপারেশন ক্লিন-হার্ট” নামক অভিযানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছিল এবং বিএনপি’ই র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠা করেছিল। বর্তমান ও বিগত ৫ বছর আওয়ামী সরকারের আমলে র‌্যাব ও পুলিশ কর্তৃক যেভাবে ও যে অধিক সংখ্যায়  বিচার বহির্ভূত বা বিনাবিচারে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে তার সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থক গোষ্ঠীর লোকজন সবসময়েই তাকে জায়েজ বা যথার্থ বলে প্রমাণ করার জন্য বিএনপি আমলের “অপারেশন ক্লিন-হার্ট” ও বিএনপি কর্তৃক র‌্যাব গঠনের তুলনা দিয়ে থাকে। কিন্তু তারা যে সত্যটা বুঝেও না বোঝার ভান করে তা হলো বিএনপি’র আমলে সন্ত্রাস তথা সন্ত্রাসী ঘটনা যখন অতিমাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল তখন স্বল্প সময়ের জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক “অপারেশন ক্লিন-হার্ট” অভিযানের মাধ্যমে কেবলমাত্র চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য ঐ অভিযান চালানো হয়েছিল এবং এ কথা অবশ্যই স্বীকার্য যে ঐ অভিযানে সত্যিকার সন্ত্রাসীদের দমন করা সম্ভব হয়েছিল এবং হাজার হাজার অবৈধ অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছিল, ঐ সময় “অপারেশন ক্লিন-হার্ট” অভিযানের কারণে বহু শীর্ষ সন্ত্রাসীকে দমন বা হত্যা করা হয়েছিল এবং পিচ্চি হানান, কালা জাহাঙ্গীর ইত্যাদী নামের ভয়ংকর শীর্ষ সন্ত্রাসীরা তখন দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল (যাদের নামের তালিকা অব্যাহতভাবে পত্রিকায় প্রকাশ করা হত)। ঐ অভিযানে তখনকার সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কোন বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী বা নেতাকে হয়রানি করেনি, বরং সেনাবাহিনীর ঐ অভিযানে কোন কোন সময় সব দলের সন্ত্রাসীর উপরই একইভাবে আঘাত এসেছিল। ঐ অভিযানে বিচার বহির্র্ভূত হত্যাকান্ড ঘটলেও মানবাধিকার বা আইনের দৃষ্টিতে সমালোচনা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্র দমনের ফলে এতে স্বস্তি বোধ করেছিল। বিএনপি সরকার পরবর্তিতে সশস্ত্র বাহিনীর এবং পুলিশের চৌকস ও দক্ষ সদস্যদের দিয়ে র‌্যাব গঠন করেছিল। র‌্যাবের মূল দায়িত্ব ছিল জঙ্গি দমন তথা জঙ্গি সংগঠন নির্মূল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, ভেজাল, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসাসহ সকল অনৈতিক ও অবৈধ কাজ ও তৎপরতার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা। প্রাথমিক দিকে র‌্যাবের এ ধরনের কর্মকান্ডের জন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‌্যাব যেমন প্রশংসিত হয়েছিল এবং তাদের এসব কর্মকান্ড চালাতে গিয়ে বিচার বহির্র্ভূত কিছু কিছু হত্যাকান্ড সংগঠিত হলেও মানবাধিকার বা আইনের দৃষ্টিতে সমালেচনা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ র‌্যাবের এসব কর্মকান্ড বা তৎপরতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েনি, বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বস্তি বোধ করেছে। কিন্তু ২০০৯ এ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিশেষ করে ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের তিন মাসে ও ৫ জানুয়ারির পর শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের কথিত বিচারের বিরোধিতাকারী জমায়াত শিবিরের আন্দোলন দমন, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলনরত বিএনপি’র রাজনৈতিক কার্যালয় অব্যাহতভাবে ঘেরাও করে  রাখা এবং বিএনপি নেত্রীর বাসভবন ঘেরাও করে রাখাসহ রাজপধে বিরোধী জোটের মিটিং-মিছিল, মানব বন্ধন, জনসভা করতে বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে র‌্যাবকে পুলিশের পাশাপাশি ও পুলিশের মত যেভাবে রাজনৈতিক ও দলীয় সরকারের স্বার্থে ব্যবহার করছে এতে যে উদ্দেশ্যে ও যে কাজের জন্য র‌্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‌্যাবের সে মর্যাদা ও ভাবমূর্তি দেশে ও বিদেশে একেবারে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গি, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অবৈধ ব্যবসা ও কার্যকলাপ, ভেজাল প্রতিরোধ বা দমনের পরিবর্তে বর্তমান সরকার র‌্যাবকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছে বিরোধী দলকে দমনের তথা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেÑ যা ৭২-৭৫ সময়ে রক্ষীবাহিনী দ্বারা করা হয়েছিল। এতে প্রকৃত সন্ত্রাসী বা অপরাধীর পরিবর্তে র‌্যাবের “ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে” বিরোধী মত বা দলের নেতা-কর্মীরাই বেশি হত্যা, গুম ও অপহরণের শিকার হচ্ছে এবং এর মাত্রা এই মুহূর্তে দখলদার শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সর্বকালের সকল সীমা অতিক্রম করেছে (মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানও তাই বলেছে), যার ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারসহ বহু বিদেশী সংস্থা ও দেশ র‌্যাবকে বিলোপ করার জন্য সরকারকে প্রচন্ডভাবে চাপ দিচ্ছে। উল্লেখ্য, যুগ যুগ ধরে সব সরকারের আমলেই কথিত আত্মরক্ষার নামে বা আসামী ছিনতাই করার সময় বন্দুকযুদ্ধে এবং পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশের গুলিতে ও নির্যাতনে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটে আসছে। শেখ হাসিনার তথা আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসনামলে র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশও বেপরোয়া ও সীমাহীন গতি ও মাত্রায় এই জঘন্য কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে দেশের সকল পর্যায়ের মানুষ তথা সাধারণ জনগণ এখন এক মহাআতঙ্ক ও বিভীষিকাময় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, কেউই তার জান-মালের নিরাপত্তা ঘরের মধ্যেও বা ঘরের বাইরেও বোধ করছে না। ঠিক এমনি অবস্থাতেই পতিত হয়েছিল এদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের ৭২-৭৫ শাসনামলে, তখন কেউ সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে যেত না, বাইরে থাকলে সন্ধ্যার আগে ঘরে ফিরত, তাও নিরাপদে ফিরতে পারবে কিনা ভয় ও আতঙ্কে ছিল। তাই বলা যায় ’৭২ এর সংবিধানে নয় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে ৪০ বছর পর আবারও ৭২-৭৫ এর ভয়ঙ্কর, শ্বসরুদ্ধকর ও অনামিশার অন্ধকারময় অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। এক শ্রেণীর চাটুকার, দালাল, জ্ঞানপাপী ও বর্নচোরা আওয়ামী পন্থী কথিত বুদ্ধিজীবি ও সুশীল সমাজের মানুষরূপী জীবরা শেখ হাসিনার সরকার ও কর্মকান্ডকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিজেদের মত যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করে শেখ হাসিনার সরকারকে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করে আরো স্বৈরাচারী ও বিরোধী মত ও দলের প্রতি বেপরোয়া হতে উৎসাহিত করছে, যে কারণে শেখ হাসিনা ও তার দলের মন্ত্রী ও নেতারা বার বার ভিন্নমত পোষনকারী ও বিরোধী দলের প্রতি শুধু কঠোর হতে কঠোরতর হওয়ার হুমকি ও গর্জন অব্যাহত রেখেছে (যেভাবে ৭২-৭৫ সময়ে “লাল ঘোড়া নীল ঘোড়া দাবড়িয়ে দেব” বলে বজ্রকন্ঠে গর্জন করা হত)। বর্তমানে জোর করে গদিনসীন হাসিনা সরকারের আমলে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য এমন এক পর্যায়ে গেছে এদেশের মানুষ যা কখনও দেখেনি বা এমন পুলিশি নির্যাতন কখনও ভোগ করেনি। শেখ হাসিনা সরকারের বিরোধী দল ঠেকানোর দায়িত্ব ও সুযোগ পেয়ে পুলিশ সারা দেশে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা করে লাখ লাখ লোককে (বিশেষ করে বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীকে) নামে ও বেনামে আসামী বানিয়ে হয়রানী, নির্যাতন করছে এবং পুলিশের অবৈধ টাকা আয়ের এক অভিনব ও লোভনীয় পদ্ধতি চালু করেছে। পুলিশের এই অরাজক ও নৈরাজ্যকর হয়রানী কর্মকান্ড সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, দেশের হাজার হাজার নিরীহ মানুষ আজ এই পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে ঘর-ছাড়া, গ্রাম-ছাড়া এবং তা হতে পেরেছে একমাত্র শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের আমলে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা  পরিস্কার বুঝে গেছে বর্তমান হাসিনা সরকারের কোন জনসমর্থন নাই, জনগণের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন করে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তারা ক্ষমতায় আসে নাই বলে তারা এখন জনগণের উপর নয়Ñ পুরোপুরি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নির্ভরশীল। সরকারের এই দুর্বলতা ও তাদের উপর নির্ভরশীলতার সুযোগে র‌্যাব ও পুলিশও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং অনেক সময় সরকারের নির্দেশ-আদেশের বাইরে  গিয়ে নিজেদের “সুবিধা হাসিলের” জন্যই র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা গুম, খুনের ঘটনা ফ্রি-স্টাইলে চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ কাজে অন্যান্য অপরাধীদের ব্যাপারে নিষ্ক্রীয় থাকছে। জোর করে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসার বিগত ১০০ দিনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সন্ত্রাসীদের এমন অপরাধী কর্মকান্ড কমার পরিবর্তে দিন দিন আরো বাড়ছে। নারায়ণগঞ্জের ৭ জনকে তুলে নিয়ে হত্যা করে মধ্যযুগীয় কায়দায় হাত-পা ভারী ইটের সাথে বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়ার মত লোমহর্ষক ঘটনার মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হয় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানুষ কর্তৃক মানুষ হত্যা করা কত সহজ ও নিরাপদ হয়ে গেছে (দেশে আইন ও বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে)। অধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত বর্তমান বাংলাদেশের ঘণ্টার পর ঘণ্টার যানজটের লোকারণ্য শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীরা মানুষ অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং নিয়ে যাওয়ার পর সবাইকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করার পর লাশকে বেঁধে নদীতে নিয়ে লাশ পানিতে ফেলে দেওয়া পর্যন্ত কত লম্বা সময় ব্যয় করতে ও লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়। এ ঘটনা কিভাবে গোপন থাকে বা গোপনে সংগঠিত হয়? আসলে বর্তমান বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও খুনীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ও আইন আদালতকে এতটাই নিয়ন্ত্রণে বা আয়ত্ত্বে নিতে সক্ষম হচ্ছে এই মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ করতে তারা কোন ভয় বা বাধাই অনুভব করছে না। যে কারণে এসব অপরাধীরা ধরা পড়ে না, বলতে গেলে ধরা-ছোয়ার বাইরে থাকতে সক্ষম হচ্ছে, এমন অপরাধ ও অপরাধীকে বর্তমান বাংলাদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে লালন-পালন ও উৎসাহিত করা হচ্ছে।  সাধারণ মানুষ এখন হয়ত ভাবতে শুরু করবে বর্তমান বাংলাদেশে বাঁচতে হলে সবাইকেই সন্ত্রাসী হতে হবে, সবার কাছেই অস্ত্র রাখতে হবে, সবাইকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্র-ছায়ার আশ্রয়ে থাকার চেষ্টা করতে হবে। কারণ বাংলাদেশে এখন কোন মানুষই ঘরে বা বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা এখন নিজেকেই করতে হবে-এমন অবস্থাই বর্তমান শেখ হাসিনার বাংলাদেশে সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশকে সোমালিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মত সন্ত্রাসী ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর লাখো কন্ঠে একদিন জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে এবং বাংলা নববর্ষে একদিন নেচে-গেয়ে বাঙালি সেজে বা একদিনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের কথিত চেতনায় বাঙালি হয়ে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার হত্যা, খুন, গুম, অপহরণ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর নৈরাজ্যের লীলাভূমি বানিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশকে সোমালিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মত “সোনার বাংলায়” পরিণত করার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।
ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে ভারত ও আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশসমূহকে অনুকূলে রাখতে শেখ হাসিনা বিগত কয়েকবছর যাবতই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দমনে তার সরকারের সফলতার কথা বা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ যেন মাথাচারা দিয়ে উঠতে না পারে এ ব্যাপারে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা অব্যাহতভাবে প্রচার করার কৌশল বেশ ভালভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে, তার সরকারের এ কৌশল আসলে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে নয়, বিএনপি জামায়াত যাতে এই কথিত অপবাদের দায়ে আবার ক্ষমতায় আসতে না পারে এটাই হলো তার এ কৌশলের প্রকৃত উদ্দেশ্য। কারণ শেখ হাসিনা দেশে বিদেশে যেখানেই ভাষণ বা বক্তব্য রাখে সেখানেই বলে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় এলে আবারও বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কায়েম হবে। আক্ষরিক অর্থে বাংলাদেশে কখনও জঙ্গিবাদ ছিল না বা আফগানিস্তান পাকিস্তানের মত অহরহ জঙ্গি আক্রমণ বা হামলা হয় না। বিএনপি’র শাসনামলে বাংলা ভাই নামক জঙ্গি সংগঠনের উত্থান হলেও আবার বিএনপি আমলেই তাদের নির্মূল করা হয়েছিল। তাছাড়া বাংলা ভাই এর সারা দেশে একসাথে ৫০০ বোমা ফাটানোর ঘটনা ছিল নেহায়েত তাদের অস্তিত্ব বা শক্তি প্রদর্শনের মহড়া, তারা বাংলাদেশের ৫০০ স্থাপনা ধ্বংস করার বা ৫০০ লোককে মারার জন্য ৫০০ টার্গেটে বোমা ফাটায়নি। বাংলাদেশে জঙ্গি আক্রমণ এ পর্যন্ত যা হয়েছে তা ছিল সবই বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগের আমলেই জঙ্গি হামলা হয়েছিল যশোরে উদীচি’র অনুষ্ঠানে, রমনার বটমূলেও উদীচির অনুষ্ঠানে জঙ্গি হামলা হয়েছিল তাও আওয়ামী লীগের আমলে। তার অর্থ এই নয় যে আওয়ামী লীগ দেশে জঙ্গিবাদ কায়েম করেছিল বা জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করেছিল, বাংলাদেশের কোন সরকার বা গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলেরই জঙ্গিবাদকে লালন-পালন বা উৎসাহিত করার কোন যুক্তিসংগত কারণ বা যৌক্তিকতা নাই। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও কিবরিয়া হত্যাকা- ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মত রাজনৈতিক হত্যাকা-, এর সাথে কোন মৌলবাদী বা জঙ্গিবাদী  আদর্শ বা দর্শনের কোন সম্পৃক্ততা নাই। জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলো যদি কোন জঙ্গি হামলা চালায় তবে তারা সাথে সাথেই তার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। ২১ আগস্টেও গ্রেনেড হামলা বা কিবরিয়া হত্যাকা-ের পর কোন জঙ্গি সংগঠনের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করে কোন বিবৃতি দেয়া হয় নাই।
শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকজন ক্ষমতার লোভে জঙ্গিবাদের জিগির তুলতে তুলতে কার্যত ভারত ও পশ্চিমা দুনিয়ার কাছে বাংলাদেশকে একটা ইসলামী মৌলবাদী বা জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবেই পরিচিত বা প্রতিষ্ঠিত করে তুলছে। এটা বাংলাদেশের তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য যে কতটা আত্মঘাতী ক্ষমতার নেশায় অন্ধ শেখ হাসিনা ও তার দোসরার তা বুঝতে অক্ষম। অথচ ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে এবং বিগত ৫ জানুয়ারির কথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর এখন পর্যন্ত তার দলের অংগ সংগঠনগুলো বিশেষ করে ছাত্রলীগ অবিরাম ও বেপরোয়া গতিতে সারা বাংলাদেশে অব্যাহতভাবে লোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকা-সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে, অভিমান করে এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাথে তার সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়ার পরেও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ হয়নি বরং তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে (প্রতিদিনের সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলের সচিত্র খবরা-খবরই তার প্রমাণ), যে কারণে মানুষ ছাত্রলীগকে চাপাতি লীগ নাম দিয়েছে।  দেশের মানুষের নিশ্চয়ই মনে আছে এ দেশে সর্বপ্রথম ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলেই ছাত্রলীগের দলীয় কোন্দলের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে ৭ জন ছাত্রের নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। সেই “ঐতিহ্যকে” ধারণ করেই ছাত্রলীগ এখন তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে আরো গতিশীল ও সমৃদ্ধশালী করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার আমলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসকেও হার মানিয়েছে। অপরদিকে সরকারের সকল সশস্ত্র শক্তিকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনার সরকার বিগত প্রায় ৩ বছর যাবত জামায়াত-শিবিরকে নির্মূল করার ও বিরোধী জোটের আন্দোলন দমনের নামে  রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কায়েম করে পুলিশ ও র‌্যাবকেও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিনত করেছে। দেশে বর্তমান সময়ে গুম, অপহরণ, হত্যা ও নিখোঁজ করে ফেলার মত সন্ত্রাসী ঘটনার মধ্য দিয়ে তাই প্রমাণিত হচ্ছে এবং এসব সন্ত্রাসী ঘটনা এখন যে পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে এটাকে অবশ্যই সন্ত্রাসবাদ বলা যায়, অর্থাৎ শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে এখন জঙ্গিবাদের চেয়েও ভয়ংকর রূপে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে বা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে-  যে অবস্থা ৭২-৭৫ সময়েও করা হয়েছিল। তখনকার মত এখনও শুধু ঢাকা শহরেই প্রতিমাসে ১০-১২টা হত্যা ও খুনের ঘটনা ঘটছে, বনে-জঙ্গলে, খাল-বিল, নদী-নালায় প্রতিদিন সারা দেশে ১০-১২টা করে লাশ পাওয়া যাচ্ছে। তারপরেও শেখ হাসিনা ও তার দোসরার বলছে বাংলাদেশের মানুষ আগের চেয়ে তার আমলে এখন নাকি অনেক বেশি সুখে ও শান্তিতে আছে, সত্যিই দেশে এখন সে কবরের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
শেখ হাসিনা তার গদি যাতে উৎখাত না হয় এজন্য বিভিন্নভাবে সামরিক বাহিনীকে খুশি বা সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করছে, প্রায় প্রতি মাসেই সামরিক বাহিনীর কোন না কোন অনুষ্ঠানে সে যোগ দিচ্ছে (প্রতিরক্ষাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে যেখানে রাষ্ট্রপতির যোগ দেওয়ার কথা বা রাষ্ট্রপতি যোগ দিলেও চলে)। প্রতিরক্ষা দপ্তর তার হাতে আগেও ছিল, কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ক্ষমতায় বসে সামরিক বাহিনীর সাথে তার ঘনিষ্ঠতাটা একটু বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই দৃশ্যমান। তাছাড়া বাংলাদেশের কোন প্রতিরক্ষা নীতি এখন পর্যন্ত যেখানে প্রনীত হয় নাই সেখানে কিসের ভিত্তিতে সামরিক বাহিনীর জন্য বিনা প্রয়োজনে হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র কেনা হচ্ছে? জাতিসংঘ শান্তিবাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র বা অস্ত্র কেনার অর্থতো জাতিসংঘেরই দেওয়ার কথা। আওয়ামী লীগের ভাষায় ভারত বাংলাদেশের চিরস্থায়ী বন্ধু, ভারত একতরফাভাবে ব্যারেজ ও বাধ নির্মাণ করে বাংলাদেশের সব নদীকে শুকিয়ে মারছে, এত আলোচনা ও চুক্তি সত্ত্বেও সীমান্তে বাংলাদেশের মানুষকে বিএসএফ হত্যা করেই চলছে, বাংলাদেশের সাথে সীমানা নির্ধারণ না করে কাটাতারের রেড়া তৈরি করেই চলছে, কথিত অবৈধ বাংলাদেশী বলে সীমান্তে পুশ-ব্যাক করেই চলছে, আরোও করবে না হয় বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে নিবে বলে ভারতের হবু প্রধানমন্ত্রী হুমকি দিচ্ছে। অপর দিকে ছোট প্রতিবেশী মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে জোর করে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটা বিরাট নিরাপত্তাজনিত ও আর্থিক সমস্যা সৃষ্টি করেছে, এই ছোট দেশটার এত বড় স্পর্ধার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার মত আমাদের সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও এবং এত কিছুর করার পরেও যখন ভারতের সাথে আমাদের যুদ্ধের কোন সম্ভাবনা নাই, সুতরাং দরিদ্র দেশের সামরিক বাহিনীর জন্য এত অস্ত্র কেনার প্রয়োজন কোথায়? এ টাকাটা দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অন্য কোন জরুরী খাতে খরচ করা যায়। সবচেয়ে মারাত্মক খবর হল হাসিনা সরকার অতি সম্প্রতি সেনাবাহিনীর নতুন নতুন ক্যান্টনমেন্ট ও আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশের ৪০ হাজার একর জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্যান্টনমেন্ট ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য বনাঞ্চল নিধন ও আবাদী জমি দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। নিজের ক্ষমতা বা গদিকে নিরাপদ রাখার জন্য দেশের অর্থ, মাটি, মানুষ ও প্রকৃতিকে ধ্বংশ করে সামরিক বাহিনীকে সন্তুষ্ট রাখার এই আত্মঘাতি কর্মকান্ড ও সিদ্ধান্তের পরিনতি নিশ্চয়ই একদিন ভোগ করতে হবে এবং জাতিকেও এর খেসারত দিতে হবে। শুধু সামরিক বাহিনীই নয় ইদানিংকালে শেখ হাসিনা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার অর্থাৎ দেশের সকল সশস্ত্র বাহিনীর কোন অনুষ্ঠানই বাদ দিচ্ছে না। আর সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিকর ও আপত্তিজনক বিষয় হল শেখ হাসিনা সামরিক বাহিনীসহ জন প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার অর্থাৎ সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানের যে কোন অনুষ্ঠানে গিয়ে বিরোধী দলের নেত্রী (খালেদা জিয়া) ও তার পরিবার এবং বিরোধী দলের (বিএনপি-জামায়াত) সমালোচনা করে রাজনৈতিক ভাষণ বা বক্তব্য রাখে- যা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ও বেমানান। এখানে ভাষণ ও বক্তব্য হবে একান্তই প্রশাসনিক দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ বিষয়ক।
আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে তখনই অপরাধের একেকটা নতুন নতুন রূপ ও ধরনের জন্ম নেয়। এ দেশের মানুষ হাইজ্যাক বা ছিনতাই নামক অপরাধের সাথে পরিচিত হয়েছে ৭২-৭৫ সময়ের শাসনামলে, তখন হাইজ্যাকের ভয়ে মানুষ সন্ধ্যার আগে ঘরে ফিরেছে, ছিনতাইকারীরা যদি ছিনতাই করতে গিয়ে কারো কাছে টাকা-পয়সা না পেত তবে হাতের ঘড়িটা বা শুধু নিচের জাইঙ্গাটা রেখে প্যান্ট-শার্টও খুলে নিয়ে যেত। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারের আমল পেরিয়ে ছিনতাই এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে এবং এখন শুধু রাতে নয় প্রকাশ্য দিবালোকেই বেশি হয় এবং ছিনতাইকালে এখন খুনের ঘটনাও ঘটে। বাংলাদেশের মানুষ সর্বপ্রথম ব্যাংক ডাকাতির ঘটনার সাথেও প্রথম পরিচিত হয় আওয়ামী লীগের ৭২-৭৫ সময়ের শাসনামলেই। সোনালী ব্যাংকের ঐ ডাকাতির ঘটনা নিয়ে বহু কাহিনী রয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের শাসনামলেই (এখনকার ১০০ দিনের মধ্যেই) সোনালী ব্যাংকের চাঞ্চল্যকর ও বিরাট বিরাট ডাকাতির ঘটনা  ঘটেছে। ইভ-টিজিং এই অপরাধমূলক শব্দটা বা ঘটনার সাথেও এ দেশের মানুষ পরিচিত হয়েছে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর। এই ঘটনায় বহু মেয়েকে আত্মহত্যা করে জীবন দিতে হয়েছে। নারী বান্ধব সরকার বলে দাবি করলেও শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই এসিড নিক্ষেপ ও ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, ভিকারুন্নেছাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা শেখ হাসিনার বর্তমান নারী-শাসিত শাসনামলেই বেশি ঘটছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজের ছাত্রীদের হোস্টেলে ঢুকে ছাত্রীদেরকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে শেখ হাসিনার ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরাই। এখন রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা গুম, খুন, অপহরণের কারণে বহু নারী অল্প বয়সে বিধবা বা স্বামীহারা হচ্ছে, বহু মা সন্তানহারা হচ্ছে, বহু মেয়ে পিতৃহারা হচ্ছে। অতএব এই অর্থে শেখ হাসিনার কথাই সত্য যে আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে দেশের মানুয কিছু পায় বা দেশের মানুষকে আওয়ামী  লীগ (নতুন) কিছু দেয়।
আওয়ামী লীগের নেত্রী ও তার দলের দোষর ও সমর্থকরা ইদানিং প্রায়ই উচ্চারণ করে যে বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুঁড়ি নয়, ১৯৭২-৭৫ সময়ে আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার এই মন্তব্য করেছিলেন, আওয়ামী ঘরনার লোকেরা এখন বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল বলেই আমেরিকা তখন বাংলাদেশকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছিল। তারা মনে করছে বাংলাদেশের ঐ সময়ের ইতিহাস মনে করার মত সব মানুষ এখন কেউই জীবিত নাই, তাই তারা এখনকার বা নতুন প্রজন্মকে নতুন কাহিনী শোনাচ্ছে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশকে পুনর্গঠনের জন্য আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব তখনকার বাংলাদেশ সরকারকে উদার ও ব্যাপকভাবে আর্থিক সহায়তা করেছিল, কিন্তু ঐ সময় দেশে দুর্নীতি ও লুটপাট এমন সীমাহীন মাত্রায় পৌঁছেছিল যে বিদেশী সাহায্য-সহযোগিতা সব দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের পেটে চলে যেত, ঐ সময়ের ত্রাণমন্ত্রী গাজী গোলাম মোস্তফাকে মানুষ “রিলিফ চোর” বলে উপাধি দিয়েছিল। তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেছিলেন, “মানুষ দেশ স্বাধীন হলে পায় সোনার খনি, কিন্তু আমি পেয়েছি সব চোরের খনি”, “যেদিকে তাকাই শুধু চোর আর চোর”, রসিকতাছলে তিনি এও বলেছিলেন, “বিদেশ থেকে সাড়ে সাত কোটি কম্বল এসেছে, কিন্তু আমার কম্বলটা কই?” সুতরাং ঐ সময় আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের শাসনাধীন বাংলাদেশ সম্পর্কে যথার্থই মন্তব্য করেছিল।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল তখন তাদের মেয়াদের শেষ বছরেই (যার সমীক্ষা আরো আগে থেকেই শুরু হয়েছিল) বাংলাদেশ দুর্নীতিতে প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, এরপর বিএনপি’র আমলে তার ধারাবাহিকতা পর পর আরো ৪ বছর চলতে থাকে। ঐ সময়েও প্রথমবারের মত বাংলাদেশে বিরাট শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি হয়েছিল। ২০০৬-২০০৮ পর্যন্ত জেনারেল মইনের সেনাসমর্থিত কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ ১৪টা দুর্নীতির মামলা হয়েছিল, কিন্তু ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দুর্নীতির মামলাকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে দেখিয়ে সব মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে দুর্নীতিকে আরো ব্যাপক আকার দিয়েছে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি, হলমার্ক দুর্নীতি, ডেসটিনি দুর্নীতি, আওয়ামী লীগের লোকদের দ্বারা গঠিত পরিচালনা পরিষদের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকসহ সকল রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে বড় বড় দুর্নীতি এবং শেয়ার বাজারের সবচেয়ে বড় ধরনের কেলেঙ্কারির ঘটনা বর্তমান শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের আমলেই ঘটছে। এখন দেশের জনপ্রশাসন, আইন, বিচার, পুলিশ, রেল বিভাগসহ সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি নতুন নতুন রূপে ও নতুন নতুন অভিনব কায়দায়  সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। দুর্নীতিও এ সরকারের আমলে মনে হয় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হলফনামায় স্বেচ্ছায় তাদের যে আয় প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে বিগত ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে তাদের আয় হাজার হাজার গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের সেবাদাস দুর্নীতি দমন কমিশন লোক দেখানো মামলা বা জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদেরকে দুর্নীতি করে নাই বলে পবিত্র করার (আবুল হোসেনের মত)  দায়িত্ব পালনের কাজ শুরু  করেছে।
সারা দেশে ঔষধসহ এমন কোন খাদ্যদ্রব্য নাই যেটা রাসায়নিক বা ভেজাল মিশিয়ে বিষ বানিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জীবন শেষ করার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে, সরকারি দলের লোকেরা বা তাদের ছত্রছায়ার দুস্কৃতিকারী, ভুমিদস্যু, জলদস্যুরা বাংলাদেশের জলাশয় খাল-বিল, নদ-নদী সব ভরাট করে দখল করে নিচ্ছে, পাহাড়, গাছপালা কেটে পাহাড় ও বনজসম্পদ সব উজার করে দিচ্ছে, বাংলাদেশের জলবায়ুকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। শেখ হাসিনার বা তার সরকার এসব দেখে বা শুনেও চোখ বন্ধ করে আছে, শুধু তার দলের লোকদের লুটপাট তথা বাংলাদেশেকে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য (যেজন্য বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছে) গায়ের জোরে দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যে বিরোধী দলকে দমন করার কৌশল বা নিপীড়ণ-নির্যাতনের নতুন নতুন কায়দা-কানুন প্রনয়ন নিয়েই ব্যস্ত আছে। শেখ হাসিনা এখন বেশি ব্যস্ত শুধু গানের সাথে ঠোঁট মিলিয়ে গান গেয়ে অনুষ্ঠান ঘোষণা করা, উপহার-পদক প্রদান, ফিতা কেটে উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা ও ফলক উন্মোচন করার অনুষ্ঠান উপভোগ করায়। এই আনন্দে পুলকিত থাকার জন্যই সে যেনতেনভাবে হলেই ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া ও বদ্ধপরিকর।
শেখ হাসিনার সরকার বিগত ৫ বছর এবং বর্তমানে ক্ষমতাসীন হওয়ার ১০০ দিনেও কেবল ঢাকা শহরের যানজটের কোন সমাধান করতে পারেনি, শুধু কথিত উন্নয়নের দৃশ্য যাতে লোকের চোখে পড়ে এবং নির্মানের ঠিকাদারী দিয়ে দলীয় লোকদের পকেট ভারী করার জন্য তাড়াহুড়া করে (কত বছর স্থায়ী হয় আল্লাহ জানেন) ঢাকা শহরে কয়েকটা ফ্লাইওভার নির্মাণ করা ছাড়া যানজট নিরসনের আর কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখনও ঢাকার মানুষকে ঢাকার একস্থান থেকে আর এক স্থানে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার জ্যামে আটকে থাকতে হচ্ছে। যাতায়াত বা চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত পরিসরে রাস্তা না থাকলেও ক্রয় বাণিজ্যে চুরি বা দুর্নীতি করার জন্য শত শত বাস নামিয়ে ঢাকার রাস্তাকে আরো চলাচল অনুপযোগী করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের এবারের শাসনামলেই ঢাকাকে বিশ্বের নি¤œমানের নগরের মধ্যে তালিকার শীর্ষে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং তাদের আমলেই ঢাকা শহরকে বসবাস অনুপযোগী নগরী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার বিগত ৫ বছরেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন সাশ্রয়ী বা স্থায়ী ব্যবস্থা করার উদ্যোগ না নিয়ে শুধু দলীয় লোকদের টাকা বানানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই কুইক-রেন্টাল পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে বেশি উৎসাহী থাকতে দেখা যাচ্ছে। কুইক-রেন্টালের ভর্তূকী দেওয়ার জন্য বার বার ঘন ঘন বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সাধারন মানুষের গলা কেটে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা আদায় করে নেওয়া হয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশে পানি সঙ্কট, গ্যস সঙ্কটসহ না অসুবিধায় জনগন ভোগছে। সাংবাদিকদের সাথে মারামারি করে ডাক্তাররা ধর্মঘট করে চিকিৎসাধীন রোগী মেরে ফেলছে, অর্থাৎ এই সরকারের আমলে চতুর্দিকেই বিশৃংখলা, নৈরাজ্য ও অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে, তারপরেও শেখ হাসিনা ও তার দল বলছে দেশের মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক ভাল আছে।
শেখ হাসিনার সরকার ও তার সমর্থক গোষ্ঠ এবং কিছু কিছু আত্মতৃপ্তি-খোজা লোক মাঝে-মধ্যে প্রায়ই বলে থাকে শত প্রতিকূলতা সত্তেও বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে অনেক দেশের চেয়ে বেশি উন্নতি করেছে, সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে না উন্নতি হয়েছে এমন অদৃশ্য কিছু সূচকের উদাহরণ দেয়। হ্যাঁ উন্নতি অবশ্যই কিছু হয়েছে, কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পর ৪৩ বছরে বাংলাদেশের যা উন্নয়ন এবং জনগণের জীবন-মানের দৃশ্যমান যে উন্নতি হতে পারতো শাসক শ্রেণীর দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও ব্যর্থ ঢাকার জন্যই এমন শান্তনামূলক উক্তি করা হয়। তবে হ্যা যে উন্নয়ন বা উন্নতি দৃশ্যমান বা চোখে পড়ার মত তা হলো পাকিস্তান আমলে কোটিপতি ২২ পরিবার ছিল, এখন স্বাধীন বাংলাদেশে ২২ লাখ কোটিপতি পরিবার সৃষ্টি হয়েছে, স্বাধীনতার পূর্বে বাঙালির সংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি, স্বাধীনতার পর এখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা  উন্নীত হয়ে ১৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
শেখ হাসিনা ও তার বর্তমান ক্ষমতা দখলকারী সরকার প্রায়ই বলে দেশে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। কথাটা আসলেও সত্য, কিন্তু এই বাড়ার কারণ কি?  এটা কি অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সরকারের সফলতার কারণে? মোটেও নয়। প্রথম কারণ হলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত গার্মেন্টস খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, দ্বিতীয় ও প্রধান কারণ হল ৮০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী আগে যে পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠাত এখন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশে জীবন ব্যয় অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসীরা তাদের শ্রমের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে অর্থাৎ আরো বেশি পরিশ্রম করে বা খেটে দেশে পরিবারের জন্য বেশি অর্থ পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। হাসিনার সরকার বিগত ৫ বছর ও বর্তমান ১০০ দিনে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানীর পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে নাই যে তাদের পাঠানো বাড়তি অর্থে রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বরং তার আমলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানীর বাজার সংকোচিত ও বন্ধ হয়েছে, জনশক্তি রপ্তানী খাতে ধস নেমেছে বলে প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রচারিত হচ্ছে। বরং তার সরকারের আমলে আরো কয়েক লাখ লোক দেশে ফেরত এসেছে। তৃতীয়ত দেশে উৎপাদন খাত ও নতুন নতুন মিল-কারখানা স্থাপন স্থবির হয়ে পড়ায় বিদেশ থেকে কাচামাল ও যন্ত্রপাতি বা যন্ত্রাংশ আমদানি কমে যাওয়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হচ্ছে না, এই সরকারের আমলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণও প্রায় সীমিত বা নাই বললেই চলে, ফলে এ কারণেও বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ পড়ছে না। যে কারণে রিজার্ভ জমা হয়ে আছে। এই অর্থের রিজার্ভ দিয়ে লাভ কি যদি অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি না পায়, মানুষের কাজের সুযোগ বা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না পায় ? দেশে দিন দিন শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা মারাত্মক হারে বাড়ছে, বিপরীতে সমান তালে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বাড়ছে না, দেশে যুবক কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি বা অবৈধ পথে আয় করার আগ্রহ ও  অসুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়ার এটাও অন্যতম প্রধান কারণ। শুধু ক্ষমতা ধরে রাখার ফন্দি-ফিকির করা ছাড়া ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকারের বিগত ১০০ দিনের কর্মকান্ডে আর কিছু খুঁজে পাওয়ার মত নাই।
শেখ হাসিনা প্রায়ই বলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নাকি বৃদ্ধি পেয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ জীবন পরিচালনার সবকিছুরই মূল্য বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে মরার উপর খারার ঘা হিসেবে সরকারও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বহুগুন বৃদ্ধি করেছে। এই বর্ধিত মূল্য বা ব্যয় মেটানোর জন্য মানুষকে বাধ্য হয়ে “বাড়তি আয়” করতে হচ্ছে, বাড়তি ব্যয় মেটানোর জন্য শ্রমিক তার দৈনিক মজুরী বাড়িয়ে দিয়েছে, রিকশা, ট্যাক্সি, গাড়িচালক ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে ঘুষের সুযোগ ছিল না সেখানেও ঘুষ চালু হয়ে গেছে, যেখানে ঘুষ চলে সেখানে ঘুষের অংক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, মুনাফাখোররা তাদের লাভের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে, বাড়িওয়ালারা বাসা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে, উৎপাদনকারী, খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতারা তাদের পন্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে (শুধু দেশের মূল শক্তি কৃষক মধ্যসত্বভোগী ও ফরিয়াদের কারণে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেনা), বাড়তি আয়ের এই প্রক্রিয়া বা প্রবনতাকে কি অর্থনীতির ভাষায় ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া বলা হয়? নাকি এটা শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক সংজ্ঞায় বা  ভাষায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া?  এই বাড়তি ব্যয় বা খরচ মেটাতে গিয়ে মানুষ অবৈধ পথে আয় করার জন্য বেপরোয়া ও মরিয়া হয়ে গেছে, দেশে দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ার এটাও অন্যতম কারণ।
২০০৯ সালের নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা ও তার দল বলেছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমিয়ে মানুষের নাগালের বা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসবে। কিন্তু তার ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ে সবকিছুর দামই না কমে বরং আকাশ-ছোয়া হয়েছে, লবণের ও কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকা কেজি হয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছিল, আর এবার ক্ষমতা দখলের পর বিগত ১০০ দিনে বাংলার মানুষকে রেকর্ড মূল্যে (১২০ টাকা কেজিতে) পেয়াজ খেতেও বাধ্য করেছে, বাংলার মানুষ এখন কোন আনন্দ-পার্বনে ইলিশ মাছ চোখে দেখে না, দেখলেও একটা ছোট-খাটো কোরবানীর ছাগলের দামে কিনতে হয়, অর্থাৎ আরো ভালো ও আরো সুখে থাকার জন্য যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার পর শাসক দল ৪৩ বছর পর ২০১৪ সালে এসে বাংলাকে সত্যিই গুম খুন সন্ত্রাস দূর্নীতি ও নৈরাজ্যের “সোনার বাংলায়” পরিনত করে ছাড়ল!! তারপরেও কি শেখ হাসিনা ও তার দল বলবে বাংলার মানুষ এখন তার সরকারের অধীনে বা আমলে অনেক সুখে আছে?
লেখক : জাহিদ হাসান
রিয়াদ, সউদী আরব ।

You Might Also Like