কুয়েট ছাত্র খুন, দ্বিতীয় স্ত্রী পালিয়েছে

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) এক ছাত্রকে হত্যা করে ঘরের মধ্যে লাশ রেখে তার স্ত্রী পালিয়ে গেছে। সোমবার রাতে নগরীর বৈকালীর আফজালের মোড় এলাকার বাসা থেকে রকি আলমের (২৭) লাশ পুলিশ উদ্ধার করে।

রকি আলম কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার দাসপাড়া গ্রামের মোবারক আলীর পুত্র।

রকির পিতা মোবারক জানান, দুই-তিন দিন ধরে রকিকে মোবাইল ফোনে না পাওয়ায় তার সন্ধানে সোমবার সন্ধ্যায় মহানগরীর বৈকালীর আফজালের মোড়ের নুরুল ইসলামের ভাড়া বাসায় আসেন তিনি। ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগানো এবং ভেতর থেকে পচা গন্ধ পাওয়ায় স্থানীয়দের সহায়তায় তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। ঘরের খাটের ওপরে লেপ দিয়ে ঢাকা অবস্থায় রকির লাশ দেখতে পাওয়া যায়। এরপর পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ৪/৫ দিন আগে তাকে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রকির স্ত্রী আমেনা আক্তার কবিতা (২০) ও দেড় বছরের শিশু সন্তান নিখোঁজ রয়েছে। খালিশপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, মোবারক দরিদ্র। ছেলের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে ৭ বছর আগে বিয়ে দেন। নওগাঁয় গ্রামের বাড়িতে প্রথম স্ত্রী বসবাস করে। রকি প্রথম স্ত্রীর পিতার অর্থে কুয়েটে লেখাপড়া করছিল। বছর দুই আগে সে ঢাকার মেয়ে যাত্রার নর্তকী আমেনা আক্তার কবিতাকে বিয়ে করে। কবিতার ঘরে তার দেড় বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। রকির অনুপস্থিতিতে বাসায় নানা ধরণের লোকজনের যাতায়াত ছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে ছিল। এর জের ধরে রকিকে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যা করে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে খালিশপুর থানায় রকির পিতা মোবারক আলী বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ কবিতাকে গ্রেফতারের চেষ্ট করছে।

You Might Also Like