বিএনপির অন্তর্কলহ ও ‘পেছনপন্থি’ রাজনীতি

বিভুরঞ্জন সরকার

২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকেই দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি খারাপ সময় অতিক্রম করছে। নানা বিপদ-বিপর্যয় বিএনপিকে নাজুক অবস্থায় এনে দাঁড় করেছে। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অনেক চেষ্টা করেও বিএনপি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারছে না। ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করেছিল বিএনপি। ব্যাপক বিজয়ের এক মেয়াদ শেষেই তাদের মহাবিপর্যয় প্রত্যাশিত ছিল না। ২০০১-এর নির্বাচনে বড় বিজয়ই হয়তো বিএনপির জন্য কাল হয়েছিল। বর্তমানে বিএনপি নানা সমস্যায় জর্জরিত। জনসমর্থনের বিচারে বিএনপি এখনো হয়তো ভালো অবস্থাতেই আছে কিন্তু সাংগঠনিক দিক থেকে বিএনপির এখন চলছে ভঙ্গুর দশা। দলের মধ্যে নানা ধরনের টানাপড়েন চলছে। গ্রুপিং-লবিংয়ে জর্জরিত বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট প্রবল। দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা না থাকায় সমস্যা এত প্রকট হয়েছে যে, খালেদা জিয়া নিজে উদ্যোগ নিয়েও জট খুলতে পারছেন না।
দল পুনর্গঠনের কথা বলা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকেই কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না। একদিকে সন্ত্রাস-নাশকতার অভিযোগে হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, অন্যদিকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত চরম কোন্দল-দলাদলিতে বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। দলের শীর্ষ নেতাদের জিজ্ঞাসা করা হলে হয়তো বিষয়টিকে হালকা করার জন্য বলবেন যে, বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই কিংবা বিএনপির মতো বড় দলে মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। সবাই সব সময় সব ইস্যুতে একমত হয়ে চলবেন- এটা হতে পারে না। বিএনপির ভালো যারা দেখতে চায় না, তারাই দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কথা বড় করে প্রচার করছে। সরকারের দমন-পীড়ন কিছু কমলেই দলের সব স্তরের নেতাকর্মীরা আবার গা-ঝাড়া দিয়ে উঠবে।
বলা হয়েছিল, খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে দেশে ফেরার পরই দল পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে। দুই মাস লন্ডনে কাটিয়ে বেগম জিয়া দেশে ফিরেছেন গত ২০ নভেম্বর। তারপর দুই মাস কেটে গেছে। এখন পর্যন্ত দল পুনর্গঠনের তেমন কোনো উল্লেখ করার মতো খবর নেই। এর মধ্যে বিএনপির ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদপত্রে যেসব খবর বের হচ্ছে, তা দলটির শুভানুধ্যায়ীদের উৎসাহিত করার মতো নয়। একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বিএনপির বিরুদ্ধে বিএনপির লড়াই’ শিরোনামে ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত খবরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা কোনোভাবেই বিএনপি শিবিরে স্বস্তির বাতাস দেবে না।
দুই.
বিএনপির রাজনীতি এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব সম্পর্কে কি লেখা যায় সেটা ভাবতে ভাবতে পুরনো কাগজ খুঁজতে গিয়ে ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বরের একটি জাতীয় দৈনিকের পাতায় চোখ আটকে গেল। সেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি লেখা ছাপা হয়েছে। সম্ভবত ওটাই খালেদা জিয়ার নামে ছাপানো প্রথম লেখা। এরপর আর দেশের কোনো পত্রপত্রিকায় তার লেখা ছাপা হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। ‘ডানপন্থির বামে, বামপন্থির ডানে’ শিরোনামে জীবনের প্রথম লেখাটি খালেদা জিয়া শুরু করেছেন এভাবে : ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জিয়াউর রহমান এসেছিলেন আকস্মিকভাবে। কিন্তু তার আগমন ছিল অবশ্যম্ভাবী। নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ করতে সময়ের চাহিদা এবং দেশের দাবিতে তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। কোনো চোরাগোপ্তা পথে নয়, রাতের অন্ধকারে ষড়যন্ত্র করে নয়, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর নতুন ভোরের আলোয় সর্বস্তরের লক্ষকোটি মানুষ এবং দেশপ্রেমিক সৈনিদকদের মুহুর্মুহু স্লোগান আর পুষ্পবর্ষণের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের অভিষেক হয়েছিল। দেশের নেতৃত্ব চলে এসেছিল তার হাতে।’
রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের অভিষেক সম্পর্কে খালেদা জিয়া যে সহজ-সরল-নির্দোষ বর্ণনা দিয়েছেন, প্রকৃত সত্য কি তাই? রাজনৈতিক অঙ্গনে জিয়াউর রহমান কি সত্যি আকস্মিকভাবে এসেছিলেন নাকি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে তিনি তার আগমন অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিলেন? জিয়ার জীবনের কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলে এটা প্রমাণ করতে কষ্ট হবে না যে, তিনি ছিলেন অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। এই উচ্চাভিলাষ বাস্তবায়নের জন্য প্রকৃতপক্ষে পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছেন, সহজ কথায় বললে উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য চোরাগোপ্তা এবং রাতের অন্ধকারে ষড়যন্ত্রের পথই তিনি বেছে নিয়েছিলেন। এটা যারা অস্বীকার করে তারা ইতিহাসের সত্যকে হয় আড়াল করতে চায় অথবা স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করে।
খালেদা জিয়ার মতে, নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে জিয়া রাজনীতিতে এসেছিলেন। প্রশ্ন হলো, নেতৃত্বের এই শূন্যতা কীভাবে তৈরি হয়েছিল? কে বা কারা করেছিল? বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে, জেলখানার মধ্যে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করে যারা দেশকে নেতৃত্ব শূন্য করেছিল, তাদের সঙ্গে কি জিয়াউর রহমানের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না? স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেনারেল কে এম সফিউল্লাহকে সেনাবাহিনী প্রধান নিযুক্ত করায় জিয়াউর রহমান অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এই অসন্তোষ ও ক্ষোভ তিনি গোপন রাখতে পারেননি। অনেকেরই তা জানা। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন করার ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের সঙ্গে জিয়ার যে যোগাযোগ ছিল তা মার্কিন গোপন দলিলপত্রের মাধ্যমে এখন প্রকাশ হয়ে পড়ছে। আত্মস্বীকৃত খুনিরাও জিয়ার সম্পৃক্ততার কথা একাধিকার প্রকাশ্যে বলেছে। এই খুনিদের প্রতি যে জিয়ার বিশেষ দরদ বা অনুকম্পা ছিল সেটাও বোঝা গেছে তাদের বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দেয়া এবং হত্যার অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেয়ার ঘটনা থেকেই।
খালেদা জিয়া লিখেছেন : ‘শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাকশাল নামের একটি দল গঠন করে আর সব দল নিষিদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে দেশে এক দলের শাসন কায়েম করা হয়েছিল। গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল। সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছিল। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো খর্ব করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রেসিডেন্ট পদে উন্নীত করে তার হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল সর্বময় ক্ষমতা। ভোট ছাড়াই সরকারের মেয়াদ তিন বছরের জন্য বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করা সত্ত্বেও শেখ মুজিবুর রহমান আবির্ভূত হয়েছিলেন একদলীয় বাকশালী স্বৈরশাসন ব্যবস্থার জনক হিসেবে। এসব তৎপরতা ছিল আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ বিরোধী।’
সাধারণভাবে বেগম জিয়ার লেখার এই অংশের সঙ্গে অনেকেই হয়তো দ্বিমত প্রকাশ করবেন না। সত্যি যে, পঁচাত্তর সালে দেশের এক বিশেষ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করেছিলেন। বাকশাল ব্যবস্থাটা স্থায়ী নাকি অল্প সময়ের জন্য করা হয়েছিল, তিনি কোন বুঝ-বিবেচনা থেকে এটা করেছিলেন সে বিষয়ে তর্কে না গিয়েও বলা যায় যে, তাঁর এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই সঠিক বলে মনে হয়নি। প্রশ্ন হলো, এ জন্য তাকে বর্বরভাবে হত্যা করা কি গণতন্ত্র সম্মত হয়েছিল? এই নারকীয়তা কি সমর্থন করা যায়? বেগম জিয়া তার লেখায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নিন্দা-সমালোচনা করেননি। তিনি কি তাহলে হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতা বদলকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলে মনে করেন? বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বৈরশাসন ব্যবস্থার জনক’ বলে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও বিদ্রƒপাত্মক মন্তব্য করা থেকে বিরত না থাকলেও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করার ব্যাপারে তিনি ঠিকই বিরত থেকেছেন। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি পদে উন্নীত করে তাঁর হাতে ‘সর্বময় ক্ষমতা’ তুলে দেয়া যদি নিন্দনীয় হয়ে থাকে তাহলে সামরিক শাসনের অধীনে জিয়াউর রহমান যে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তাতে কি তখন তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হননি? ‘ভোট ছাড়াই সরকারের মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়ে’ বঙ্গবন্ধু যদি অন্যায় করে থাকেন তাহলে জেনারেল জিয়া কি করেছিলেন? তিনি কোন ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেছিলেন? একজন মিলিটারি ডিকটেটরকে ‘গণতন্ত্রী’ সাজিয়ে বেগম জিয়া সুখ অনুভব করতে পারেন, কিন্তু ইতিহাস তাতে সায় দেবে কি?
খালেদা জিয়া লিখেছেন : ‘পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মুসলিম লীগ নেতৃত্ব দিয়েছিল কিন্তু পরে তারা যুগের চাহিদা মেটাতে পারেনি। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পুরোভাগে আওয়ামী লীগ ছিল। কিন্তু পরে তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতার পটভূমিতেই বিএনপির জন্ম, একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী রাজনীতি করার অঙ্গীকারে।’
বেগম জিয়া যেভাবে দুই লাইনের মধ্যে দেশের রাজনীতিতে অস্তিত্বহীন মুসলিম লীগ এবং প্রবল প্রতাপশালী দল আওয়ামী লীগকে এক কাতারে ফেলে এবং বাতিল করে দিয়ে বিএনপির জন্ম ঘোষণা করেছেন, বাস্তব ঘটনা অতটা সহজ-সরল হলে কি আর আজ বিএনপিকে এতিম বানিয়ে বেগম জিয়াকে না-সংসদে, না-রাজপথে অবস্থায় দুঃখভারাক্রান্ত মনে দিনযাপন করতে হতো? কোথায় মুসলিম লীগ আর কোথায় আওয়ামী লীগ! বেগম জিয়ার আকর্ষণটা বোধহয় মুসলিম লীগের দিকেই বেশি। মুসলিম লীগ আর আওয়ামী লীগের ব্যাপারে বেগম জিয়ার শব্দ ব্যবহারও লক্ষণীয়। মুসলিম লীগ ‘যুগের চাহিদা মেটাতে পারেনি’ আর আওয়ামী লীগ ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ’।
রাজনীতি সম্পর্কে যাদের সামান্য জ্ঞানবুদ্ধি আছে তারা কি বেগম জিয়ার এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হতে পারবেন? ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ একটি দল জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কীভাবে ক্ষমতায় আসে? বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের চেয়ারপারসন হিসেবে বেগম জিয়া সংবাদপত্রে প্রথম একটি লেখা লিখেছিলেন অথচ কীভাবে এই দলটির জন্ম হলো তা একটু বিস্তারিত উল্লেখ করেননি? বেগম জিয়া জানেন যে, বিএনপি নামক দলটি কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জন্মলাভ করেনি। সেনা ছাউনিতে বসবাস করে, রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদ দখলে রেখে, সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে, সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে, নানা লোভ-প্রলোভন দেখিয়ে সুযোগ সন্ধানীদের নিয়ে বিএনপির জন্ম দেয়া হয়েছিল সামরিক শাসকের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার অভিলাষে। বিএনপির জন্মকে যদি গৌরবের বলা হয় তাহলে একই প্রক্রিয়ায় এরশাদের জাতীয় পার্টির জন্ম দেয়াকে অগৌরবের বলা অনুচিত হবে।
খালেদা জিয়া তার লেখা শেষ করেছেন এইভাবে : ‘আমাদের ডানে যাদের অবস্থান তারা ডানপন্থি, আমাদের বামে যাদের অবস্থান তারা বামপন্থি। আমাদের অবস্থান ডানপন্থির বামে এবং বামপন্থির ডানে। আমাদের অবস্থান কেন্দ্রে এবং এ দেশের রাজনীতির কেন্দ্র আমরাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলই এ দেশের মূল ধারা। বিএনপিই বাংলাদেশের জাতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।’
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে বেগম জিয়ার মন্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারবেন না অনেকেই। বস্তুত বেগম জিয়া যেভাবে লেখার উপসংহার টেনেছেন তা শব্দের চাতুর্য ছাড়া আর কিছু নয়। বিএনপি যদি সত্যি কেন্দ্রের অর্থাৎ মধ্যপন্থার দল হতো, তাহলে দ্বিধাহীন চিত্তে তার প্রশংসা করা যেতো। কিন্তু এখন বিএনপি তো ডানের দিকে, প্রতিক্রিয়ার দিকেই ঝুঁকে পড়েছে বেশি মাত্রায়। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, জাতীয় স্বার্থের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থের অনুক‚ল অর্থনৈতিক কর্মসূচিই মধ্যপন্থার রাজনীতির বড় বৈশিষ্ট্য- যা থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে বিএনপি। সে জন্য অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই মনে করেন, বিএনপির রাজনীতি বামের ডানে তাতে কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু ডানের বামে কোনোভাবেই নয়। ধর্মীয় ও উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মাখামাখি করে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান না নিয়ে তাদের রাজনীতি বরং এখন ডানেরও ডানে গিয়েছে। জনপ্রিয় কলামিস্ট ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বেগম জিয়ার লেখার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছিলেন- ‘ডান বা বামপন্থি নয় বিএনপি হচ্ছে পেছনপন্থি’। সত্যি তাই। পশ্চাৎপদ ধ্যানধারণা নিয়ে রাজনীতি করার কারণেই বিএনপি এখন পথহারা পথিকের মতো ঘুরপাক খাচ্ছে। দলটির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যখন দলের সর্বস্তরে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বেশি জরুরি, তখন অন্তর্কলহ বিএনপিকে পুড়িয়ে মারছে। সব দোষ সরকারের ওপর চাপিয়ে বিএনপি আত্মরক্ষার চেষ্টা করছে ঠিকই কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হবে কি?
বিভুরঞ্জন সরকার : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

You Might Also Like