টাকা পাচারে জড়িত কোম্পানির তালিকা হচ্ছে : এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেছেন, টাকা পাচারে জড়িত কোম্পানিগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়া দেশের বাইরে অর্থপাচারের পাশাপাশি বিদেশ থেকে যেনো অবৈধ উপায়ে অর্থ দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

আজ সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে (আইডিইবি) বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার প্রতিরোধমূলক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

কর্মশালায় শুল্ক ও গোয়েন্দার ৫০ কর্মকর্তা অংশ নেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘আমরা দেশের বাইরে অর্থপাচারের বিষয়ে নজরদারির পাশাপাশি বিদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে অর্থ যেনো দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখছি। কারণ ওই অর্থ দিয়ে অপরাধীচক্র দেশে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘উন্নত ও বড় দেশগুলোতে অর্থপাচারের বিরুদ্ধে আমাদের তৎপরতা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কারণ অনেক দেশেই ওই অর্থ বিনিয়োগে কোনো বাধা দেয় না।’

বিদেশে অর্থপাচারে প্রসঙ্গে নজিবুর রহমান আরো বলেন, ‘অপরাধীরা নতুন নতুন কৌশলে কর্মকাণ্ড করে থাকে। তাই আমাদের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরণের কর্মশালাসহ বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। এর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।’

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অর্থপাচারের বিষয়টি এনবিআর অধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি গবেষণাগার করা হয়েছে। এর আগে শুধু আয়কর শাখা অর্থপাচারের বিষয়টি দেখত। এখন এনবিআরের সকল শাখা এ বিষয়ে সক্রিয় আছে।

তিনি বলেন, এক সময় যে সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দিত তাদের স্মার্টনেস বেশি ছিল। এনবিআরের তৎপরতার কারণে এখন তারা অনেকেই আতঙ্কে আছেন। তবে খারাপ ব্যবসায়ীর চেয়ে ভাল ব্যবসায়ীর সংখ্যা অনেক বেশি। এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে নজিবুর রহমান বলেন, ‘যেসব কোম্পানি টাকা পাচার বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের তালিকা করা হচ্ছে। যারা অসৎ কাজের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে ধরা হচ্ছে। আর তা অতি গোপনীয়তার সঙ্গে করা হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আগে তা প্রতিরোধ করতে।’

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজস্বে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমি সকল স্তরে আবেদন করেছিলাম। এ আবেদনে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আগের চাইতে আমাদানি-রপ্তানিতে শুভ হাওয়া বইছে। তাই আশা করছি, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাজ অনেকটা এগিয়ে যাবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ৭৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যেখানে বাংলাদেশের মোট বাজেট হয় প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে অবৈধভাবে যে মুদ্রা আসে, তা অত্যন্ত কুৎসিত খাতে ব্যবহার করা হয় এবং সেটি দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রবেশ করে। আমাদের এ বিষয়ে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। চট্টগ্রামে যে কোকেন আটক করা হয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচারকারীদের যোগসাজশ পাওয়া গেছে।

You Might Also Like