টেনিসে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কালোছায়া

ম্যাচ ফিক্সিং ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করেছে বেশ আগেই। ফুটবলেও মাঝেমধ্যে শোনা যায়। তবে এবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে টেনিসে।

সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম আসর অস্ট্রেলিয়ার ওপেন। আর মাঠে খেলা গড়ানোর আগেই টেনিসের ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে বোমা ফাঁটানো খবর দিলো সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ ও ‘বাজফিড’।

গত এক দশকে টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৫০ জনের মধ্যে ছিলেন এমন ১৬ জন খেলোয়াড় ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত বলে তারা জানিয়েছে। এদের মধ্যে গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন এমন খেলোয়াড়ও আছেন। টেনিসের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহি ও গৌরবের গ্র্যান্ড স্লাম আসর উইম্বলডনেও ম্যাচ ফিক্সিং হয়েছে বলে তাদের দাবি। এছাড়া ওই ১৬ জনের মধ্যে চলমান অস্ট্রেলিয়ার ওপেনেও ৮ জন খেলছে বলে তাদের দাবি।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র দাবি , ‘গত এক দশকে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৫০-এ আছেন এমন ১৬ জন খেলোয়াড় সম্পর্কে ক্রমাগত ‘টেনিস ইন্টিগ্রিটি ইউনিট’কে (টিআইইউ) অবগত করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তারা অর্থের বিনিময়ে বেশ কয়েকবার ম্যাচ ছেড়েছে। কিন্তু টেনিসের দুর্নীতি দমন শাখা টিআইইউ তেমন গুরুত্ব দেয়নি। এমন কি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ওই খেলোয়াড়সহ অন্যদের তারা খেলে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো বাঁধা দেয়নি।’

বিবিসি ও বাজফিড-এর দাবি ২০০৭ সালে এটিপি’র করা একটি তদন্ত রিপোর্টসহ বহু তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে আছে। ওই তদন্তে রাশিয়া, ইতালি ও সিসিলি’র জুয়াড়ি সিন্ডিকেট এর তথ্য আছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ- টেনিসকে ঘিরে জুয়াড়িরা কোটি কোটি ডলার হাত বদল করছে।

বিবিসি আরো জানিয়েছে, ২০০৮ সালে টেনিসের ওপর একটি গোপন রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল গোয়েন্দারা। সেখানে তারা প্রমাণসহ ২৮ জন খেলোয়াড়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি সামনে এগোয়নি।

অন্যদিকে বাজফিড-এর দাবি, বড় টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়দের সঙ্গে হোটেলে দেখা করতো জুয়াড়িরা। সেখানে একটি ম্যাচ ছেড়ে দেয়ার জন্য খেলোয়াড়কে ৫০ হাজার কিংবা তারচেয়ে বেশি ডলার প্রস্তাব দিতো তারা। এমন খবর প্রকাশের পর নড়েচেড়ে বসেছে বিশ্ব টেনিসের কর্তারা।

যদিও ইতোমধ্যে কোনো ঘটনা ধামাচাপা দেযার কথা অস্বীকার করেছে এটিপি’র প্রধান ক্রিস কারমোড। বলেন, ‘আমরা কখনও দুর্নীতিকে হালকাভাবে নেই না। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রধাম চেয়ে যাওয়ার অভিযোগ মোটেও সত্য নয়।’

You Might Also Like