জম্মু-কাশ্মিরে গুলিসহ ৪ টি একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে পুলিশকর্মী উধাও

জম্মু-কাশ্মিরে এক পুলিশ কর্মী ৪ টি একে-৪৭ স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশি তদন্তে ১৩ টি ম্যাগজিনও লোপাট হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। এক একটি ম্যাগজিনে ৩০ রাউন্ড করে গুলি ভর্তি থাকে।

শাকুর আহমেদ ওরফে মাশুক আহমেদ নামে ওই পুলিশ কর্মীর কয়েকদিন ধরে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে সমগ্র উপত্যাকায় সতর্কতা জারি করার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় পলাতক ওই কনস্টেবলের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ ওই পুলিশ কর্মীর সঙ্গে তার দুই বন্ধু গাজী ফইয়াজ দার এবং আকিব আহমদকেও পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ ওই তিনজনই একই গ্রামের বাসিন্দা।

এদিকে, নিখোঁজ ওই পুলিশকর্মী গেরিলা সংগঠনে যোগ দিয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার পুলিশের এক তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ‘প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে ওই কর্মী হিজবুল মুজাহিদীন-এ শামিল হয়েছে। নিখোঁজ ওই তিনজনের পরিবারের লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

কাশ্মিরের আইজিপি সাইয়্যেদ জাভেদ মুজতবা গিলানী জানান, ‘নিখোঁজ তিন জনকে খুঁজে বের করার জন্য বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।’ এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পুলিশকর্মী মাশুক বিজবেহারার এসডিপিও ইরশাদ আহমেদের নিরাপত্তা স্কোয়াডের সদস্য ছিল। গত ২৪ ডিসেম্বর পুলিশের ওই কর্মকর্তা গেরিলাদের সঙ্গে এক সংঘর্ষে আহত হন।

শাকুর আহমদ ওরফে মাশুক চলতি ২০১৬ সালে গেরিলা দলে শামিল হওয়া প্রথম পুলিশকর্মী। ২০১৫ সালে পুলিশ থেকে গেরিলা দলে শামিল হওয়ার ঘটনা ছিল ৪ টি। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ১৩০ জন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে গেরিলা সম্পর্ক থাকার অভিযোগে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

গত ২৭ মার্চ তৎকালীন মন্ত্রী আলতাফ বুখারীর বাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মী নাসির আহমদ পণ্ডিত দুটি অ্যাসাল্ট রাইফেল নিয়ে পালিয়ে গিয়ে হিজবুল মুজাহিদীনে শামিল হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর এবং ২৭ নভেম্বরও পৃথক পৃথক ঘটনায় বশীর আহমদ, মুহাম্মদ রিয়াজ এবং সাইয়্যেদ মুফিদ বাশীর ওরফে রাকিব নামে তিন পুলিশকর্মীও গেরিলা সংগঠনে যোগ দেয়।

You Might Also Like