করের হার না বাড়িয়ে আওতা বাড়ানো দরকার : এফবিসিসিআই

এফবিসিসিআই-এর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামী বাজেটে করের হার না বাড়িয়ে আওতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগী হওয়া দরকার। এতে যারা নিয়মিত কর দিচ্ছেন তাদের উপর চাপ সৃষ্টি হবে না। পরোক্ষ করের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল না হয়ে প্রত্যক্ষ কর আদায়ে জোর দেয়া প্রয়োজন ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও এফবিসিসিআই-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৩৫তম সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিত করায় দেশের প্লাষ্টিক, সিরামিকসহ আরো কয়েকটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের বিষয়ে জোর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে  টিকফাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে ইতিমধ্যে ডি-মিউচালাইজেশন কার্যকর করা হয়েছে। তবে স্টক এক্সচেঞ্জগুলিকে আইপিও’র আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে ব্যক্তিখাত কমে যাওয়া। কেননা আমাদের অর্থনীতি হচ্ছে বেসরকারি খাত কেন্দ্রিক। বিগত অর্থবছরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ কমেছে জিডিপি’র ১ শতাংশ। বিনিয়োগের মূল বাধা হচ্ছে দুর্বল কাঠামো। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাংকের উচ্চসুদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপর্যাপ্ততা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্প প্লটের অপর্যাপ্ততা ইত্যাদি বাধাগ্রস্ত করেছে। টেকসই প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র বিমোচন করতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতেই হবে। এবং আগামী বাজেটে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এফবিসিসিআই-এর সভাপতি আরো বলেন, সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যই আমাদের সুশাসন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের সকল স্তরের কার্যক্রমে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি অন্যথায় কাঙ্খিত বিনিয়োগ হবে না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। এছাড়া বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এম এ সামাদসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like