আজ জিতলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শুভসূচনাই হয়েছে। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার সুযোগ আজ দ্বিতীয় ম্যাচে। মালয়েশিয়া লিগের পঞ্চম দল ফেল্ডা ইউনাইটেড ধারেভারে এমন বড় প্রতিপক্ষ নয়। ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা তো আছেই।

ম্যাচ জয়ের সবচেয়ে বড় রসদটা অবশ্য বাংলাদেশ দলে আমদানি হয়েছে গত ম্যাচে। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ লোডভিক ডি ক্রুইফ যুগের শুরুতে মারিয়ানা আইল্যান্ডের জালে দেওয়া গিয়েছিল ৪ গোল। এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে ওই গোল উৎসবের পর শ্রীলঙ্কাকে ৪ গোলে হারানো বাংলাদেশ দলের জন্য ‘গোলে ফেরার’ টনিকই।

সাফ-ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এটিকে নতুন দিনের শুরুর ইঙ্গিত ধরে নিতে পারেন অতি আশাবাদীরা। কিন্তু বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বাংলাদেশ দল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতেও এখন ভয় পান! শুনে মামুনুলদের রক্ত টগবগিয়ে ওঠার কথা। সত্যিই সেটি হলে আজ ধারালো এক বাংলাদেশকেই দেখার প্রত্যাশা থাকছে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু ম্যাচে।

মালয়েশিয়ার দলটির দিকে তাকালে অবশ্যই বাংলাদেশ দল এগিয়ে। যদিও গত বঙ্গবন্ধু কাপের ফাইনালে মালয়েশিয়া যুব দলের কাছে হেরেছিল পুরো শক্তির বাংলাদেশ দল। তবে সেই দলের তুলনায় এবারের দলটি একটু কম নম্বরই পাচ্ছে। ক্লাব দল পাঠালেও দলটা খেলছে মালয়েশিয়া একাদশ নামে। নেপালের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে একটু বেকায়দায়ও পড়েছে দলটি। টুর্নামেন্টে ‘বিদেশি’ খেলানোর নিয়ম না থাকায় ফেল্ডা ইউনাইটেড এসেছে সব স্থানীয় খেলোয়াড় নিয়েই।

লড়াইয়ের আগুনটা তাই ঠিক জ্বলছে না। তবে মালয়েশিয়ার দলটিকে সমীহ করেছেন লাল-সবুজের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম, ‘গতবারের চেয়ে এটি ভালো দল।’ জানেন নিজেদের করণীয়ও, ‘এই দলের সঙ্গে আমাদের অনেক ভালো ফুটবল খেলতে হবে।’

মালয়েশিয়ার কোচ ইরফান বাকতি অবশ্য স্বাগতিক দলকেই কঠিন চ্যালেঞ্জ বলছেন, ‘শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচটা দেখেছি। বাংলাদেশ খুব ভালো দল। আমাদের জন্য ম্যাচটা কঠিনই ভাবছি।’ কথাবার্তায় বোঝালেন বাংলাদেশের আক্রমণভাগ তাঁকে চিন্তায় রেখেছে, ‘বাংলাদেশের উইঙ্গারদের নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ওরা উইং দিয়ে ভালো আক্রমণ করে।’ মামুনুল ইসলামের জার্সি নম্বর উল্লেখ করে বললেন, ‘ওকে আমাদের আটকানো চাই।’

১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু কাপে চ্যাম্পিয়ন অনূর্ধ্ব-২৩ মালয়েশিয়া দলের কোচ ছিলেন এই ভদ্রলোক। কাল বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বসে তা নিয়ে স্মৃতিচারণা করলেন, ‘সেবার ইন্দোনেশিয়ার একটা দলকে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেই ট্রফি নিয়েছিলাম।’

কিন্তু এবার বাংলাদেশ জাতীয় দলের হাতে ট্রফিটা ওঠা উচিত বলছেন অনেকে। বাস্তবতা অবশ্য বলছে, কাজটা সহজ নয়। প্রথম ম্যাচে অমন জয়েও রক্ষণটা হাঁ হয়ে গিয়েছিল। দুটি গোল খাওয়া সেটিরই মাশুল। রক্ষণ নিয়েই তাই যত চিন্তা। সাফে ভরাডুবির সবচেয়ে পেছনে তো রক্ষণের ‘অবদান’ই সবচেয়ে বেশি। ধারাবাহিকভাবেই ইয়াসিন, ইয়ামিনদের রক্ষণটা ভঙ্গুর দেখাচ্ছে। কাল বাংলাদেশ দলের সংবাদ সম্মেলনেও এটিই মূল আলোচ্য হয়ে থাকল।

কোচ মারুফুল হকও স্বীকার করলেন সমস্যাটা। জানালেন এ নিয়ে কাজ করে যাওয়ার কথা, ‘রক্ষণের সমস্যা নিয়ে কাজ করছি। তবে এটি রাতারাতি দূর হবে না, সময় লাগবে। আশা করি, মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সমস্যাটা বড় হয়ে দেখা দেবে না।’

You Might Also Like