চুয়াডাঙ্গায় জোড়া খুন: আ’লীগ-যুবলীগ নেতাসহ ৪২ জনের নামে মামলা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গঙ্গাদাসপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে আ’লীগ নেতাকর্মীদের বোমা হামলায় মোহাম্মদ আলী (৫০) ও শাহাবুদ্দীন (৬০) নামের দুই ভূমিহীন হত্যায় সীমান্ত ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মালেক মোল্লা, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মিল্টন, আ’লীগ নেতা আব্দুল হাই টুকু ও বাদলসহ ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে নিহত মোহাম্মদ আলীর ছোট ভাই আব্দুস সালাম বাদী হয়ে জীবননগর থানায় এ মামলা দায়ের করেছে।

এ ঘটনার পর থেকে মামলা আতঙ্কে আসামিপক্ষের লোকজন গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ৭টার দিকে উপজেলার গঙ্গাদাসপুর গ্রামের ভূমিহীন মোহাম্মদআলী, শাহাবুদ্দীন, আমির হোসেন ও আব্দুল গফুরসহ ৭/৮ জনের বাড়ীতে সীমান্ত ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি মালেক মোল্লার নেতৃত্বে আ’লীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। এরপর তারা ৪/৫ টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে মৃত জবেদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী, আব্দুল গফুর, মৃত কাদের শেখের ছেলে শাহাবুদ্দিন, স্ত্রী মালেকা খাতুন, তার ছেলে চঞ্চল, মৃত মকছেদ আলীর স্ত্রী সুরাতন নেছা, ফজের আলীর ছেলে আমির হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাদেরকে উদ্ধার করে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু হয়। এরপর অন্যদেরকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ১১টার দিকে শাহাবুদ্দীনের মৃত্যু হয়। পুলিশ রাতেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত আনছার আলীর ছেলে রেজাউল, তার স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন ও বাদলের স্ত্রী মিনু খাতুনকে আটক করে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের জানুয়ারী মাসে ৬২টি ভূমিহীন পরিবারের ১১৬ বিঘা জমি দখল করে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দেয় আ’লীগ নেতা মালেক মোল্লাসহ তার লোকজন। দীর্ঘদিন পর ২০১৫ সালের ২২ জুলাই জাতীয় সংসদের হুইপ ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার সেলুনের স্মরণাপন্ন হয়। এরপর প্রশাসনের সহযোগীতায় সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার সেলুন ভূমিহীনদেরকে গঙ্গাদাসপুর গ্রামের পূর্ণবাসন করলে সকল ভূমিহীনরা বাড়িতে ফিরে আসে। এ ঘটনার পর থেকে উভয় গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে আসছে। এরপর সোমবার সন্ধ্যায় আ’লীগ নেতা মালেক মোল্লার লোকজন হামলা চালিয়ে তাদেরকে আহত করলে মোহাম্মদ আলী ও শাহাবুদ্দীন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

মোহাম্মদ আলীর চাচাতো ভাই রমজান আলী জানান, আ’লীগ নেতা মালেক মোল্লাসহ তার লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

সীমান্ত ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি মালেক মোল্লা জানান, এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জীবননগর থানার ওসি হুমায়ন করিব জানান, জমি-জমা বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পরেই সঠিক তথ্য জানা যাবে।

এ ব্যাপারে নিহত মোহাম্মদ আলীর ভাই বাদী হয়ে মালেক মোল্লাসহ ৪২ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে বলেও জানান তিনি।

You Might Also Like