উপকূল বাঁচলে দেশ বাঁচবে

এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আযাদ

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ বদ্বীপ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি সততই দুর্যোগপ্রবণ। প্রতি বছরই বাংলাদেশে হানা দেয় কোনো-না-কোনো দুর্যোগ। দুর্যোগের লাগাতার আঘাতে কোটি কোটি মানুষের জীবন, সম্পদ, অধিকার মর্যাদা তথা বেঁচে থাকার মানবিক অধিকারটুকু পর্যন্ত বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। Intergovernment Panel on Climate Change (IPCC)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে চলা, আবহাওয়ার উপাদানগুলোর পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় বিশ্বের যে ক’টি দেশের পরিবেশ বিপর্যয়সহ জনমানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তন্মধ্যে বাংলাদেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল অন্যতম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০০১ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ১৯টি উপকূলীয় জেলা। এ ১৯টি জেলার ১৪৭টি উপজেলায় দেশের মোট জনসংখ্যা এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ বসবাস করে। ইতোমধ্যেই উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের সর্বত্র জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব লক্ষণীয়। ঘন ঘন ভূমিকম্প, আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের প্রবণতা বেড়ে যাওয়া, জোয়ারের দীর্ঘস্থায়িত্ব, মাটি ও পানিতে লবণাক্ততা, সুন্দরবনে সুন্দরীগাছের মড়ক ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লক্ষণই বটে।
উপকূলবাসীর জীবনপ্রবাহ
বাংলাদেশের এক-দশমাংশ এলাকা উপকূল। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাস করে গড়ে ৭৪৩ জন মানুষ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০ বছরে অন্তত ৬৪ বার মনে রাখার মতো বড় ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। ফলে কুতুবদিয়া-মহেশখালীসহ সমুদ্র উপকূলে জনগণকে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক প্রতিকূল পরিবেশের সাথে সংগ্রাম করে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ নিজেদের জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি দেশের উৎপাদন ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যের অভাবে বেশির ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। শিক্ষার হারও কম, স্যানিটেশন-ব্যবস্থা ভালো নয়, নারীদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো বেশি খারাপ, ধনী-দরিদ্রের অবস্থান সুস্পষ্ট। তাদের মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব, নিরক্ষরতা, পুষ্টিহীনতা, নিরাপদ পানি, পুঁজির তীব্র অভাব ও কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণসহ নানা ধরনের সমস্যা। কিন্তু তাদের জীবনের গতি থেমে থাকে না, বাঁচার তাগিদে উপার্জনের পেছনে ছুটে চলে।
তবুও উপকূলের লড়াকু মানুষেরা প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবেলা করেই সাহসের সাথে বেঁচে আছে এবং যুগ যুগ ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের সম্পদ-সম্ভাবনা
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল তেল-গ্যাস, গন্ধকসহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদে ভরপুর। জাতীয় নীতিমালা ও পরিকল্পনার অভাবে এ সম্পদ আহরণ ও ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ থাকে না। ফলে এ সম্পদ গোটা দেশের এবং বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের কোনো কাজেই আসছে না। এ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত সরকারি বাজেট বরাদ্দ প্রদান করা হলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার মানোন্নয়নের সাথে সাথে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে উপকূলীয় অঞ্চল ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে এ অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগনোর লক্ষ্যে উপকূলীয় এলাকার যেসব সম্পদ ভূমিকা রাখবে তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নি¤েœœ তুলে ধরা হলো :
১. সমুদ্র উপকূল এলাকার লবণ একটি অন্যতম শিল্প। হাজার হাজার পরিবার এ শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও নীতিমালার অভাবে এ শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে। লবণচাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। লাভ তো দূরের বিষয় উৎপাদন খরচও তারা পায় না। তা ছাড়া লবণচাষিরা পুঁজির জন্য স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনদের কাছে বন্দী। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে চাষিরা লবণ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হলে আমাদের লবণের জন্য সম্পূর্ণভাবে বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হবে।
২. পর্যটন শিল্প উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একটি আকর্ষণীয় ও অর্থকরী কর্মকাণ্ড। এ শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থান হতে পারে। প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আয় হতে পারে এ শিল্প থেকে। কক্সবাজারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত বলতে গেলে আমরা নামকাওয়াস্তে ব্যবহার করি। অথচ কক্সবাজার দেশী-বিদেশী ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে সমাদৃত স্থান। কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতজুড়ে এক দিকে সাগর, অন্য দিকে পাহাড় আর বন। প্রাকৃতিক এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যই কাছে টানে মানুষকে। মাস্টার প্লানের আওতায় কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন হিসেবে গড়ে তোলা গেলে এবং দীর্ঘ ৮৪ কি.মি. মেরিন ড্রাইভ সড়কসহ প্রতিশ্রুত রেলপথ ও এশিয়ান হাইওয়ে নির্মিত হলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বৈপ্লবিক ধারা সূচিত হবে। এ ছাড়া পতেঙ্গা, কুয়াকাটা, সুন্দরবন, হিরণ পয়েন্টসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত উপকূলীয় এলাকাকে পরিকল্পিত উপায়ে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশের উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো এগিয়ে যাবে।
৩. মাছ উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য আরেকটি অর্থকরী সম্পদ। দেশের মাছের চাহিদা পূরণের জন্য সামদ্রিক মাছের কোনো বিকল্প নেই। চিংড়ি দেশের রফতানি আয়ের দ্বিতীয় উৎস। হোয়াইট গোল্ড নামে খ্যাত চিংড়ি চাষ ও রফতানিতে সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। চিংড়ি চাষ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা ব্যবস্থাসহ চিংড়ির খাদ্য হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আরটিমিয়া আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয়ভাবে লবণ মাঠগুলোতে তা চাষ করার জন্য গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের পৃষ্ঠাপোষকতা আবশ্যক।
৪. উপকূলীয় অঞ্চলে শুঁটকি, পান, ধান, বৃক্ষসহ অসংখ্য অর্থকরী ফসল ও সম্পদ রয়েছে; যার উন্নয়নের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার উদ্যোগসহ বাস্তবমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন। বঙ্গোপসাগরের আহরিত মাছের প্রায় ৩০ শতাংশ শুঁটকিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে শুঁটকি রফতানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হচ্ছে। এ ছাড়া মহেশখালীর মিষ্টি পান খুবই জনপ্রিয়।
৫. বিদ্যুৎ হচ্ছে উন্নয়নের চালিকাশক্তি। উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষ করে দ্বীপ অঞ্চলের মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশাল সম্ভাবনাময় বায়ুবিদ্যুৎ দেশে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। ডেইলি স্টার (২০ এপ্রিল ২০০৮) সূত্রে জানা যায়, ভারতে আট হাজার মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশে সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় কাছাকাছি পরিমাণ। বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এর কয়েক গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এমনিভাবেই বাংলাদেশের পুরো উপকূলে বিপুল পরিমাণ বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদ সম্ভব। বায়ুবিদ্যুতের পাশাপাশি মহেশখালী-কুতুবদিয়াসহ উপকূলীয় অঞ্চলে টাইডাল বিদ্যুৎ, বায়ু-গ্যাসবিদ্যুৎ এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।
৬. ভোলা, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তেল-গ্যাসসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদ রয়েছে। যেমন- ১৯৭৭ সালে কুতুবদিয়ায় একটি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়, যার মজুদের পরিমাণ ১০০০ ট্রিলিয়ন ঘন ফুট বলে এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। কুতুবদিয়া ও মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের পশ্চিমে সৈকত বালিতে জিরকন, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, কয়নাইট ও মোনাজাইটের মতো মূল্যবান খনিজ পদার্থ আছে। তা ছাড়া বাংলাদেশে কুতুবদিয়া দ্বীপে গন্ধকের খনি পাওয়া গেছে। এই গন্ধকসহ প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে উত্তোলন করা হলে দেশের অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধি লাভ করবে।
৭. বাংলাদেশের সুন্দরবন ও মহেশখালী-কুতুবদিয়াসহ সমগ্র উপকূলব্যাপী বিস্তৃত এলাকাজুড়ে যে প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ) রয়েছে তা উপকূল রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে বড় ধরনের অবদান রাখছে। এ ছাড়া জ্বালানি, গৃহনির্মাণ, উপকূলীয় বাঁধ রক্ষা, পলি জমা, ঘূর্ণিঝড় ঠেকানোসহসহ বিভিন্ন কাজে ওই বনের ভূমিকা অপরিসীম।
৮. বাংলাদেশের সমুদ্রে মৎস্য ও নানা প্রজাতির প্রাণিসম্পদ ছাড়াও সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। এসব সম্পদ বিশেষ করে গ্যাস ও তেল নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা এ সম্পদ সমুদ্রের নিচে রেখে দিতে চাই না এটা ঠিক। তবে নানা কৌশলে এবং জনগণকে অন্ধকারে রেখে কেউ নামমাত্র বিনিময়ে জাতীয় সম্পদ বহুমাত্রিক কোম্পানির হাতে তুলে দিয়ে যাবে, তা কিন্তু উপকূলের সংগ্রামী জনগণ কখনো মেনে নেবে না।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে যা করা প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্ধ করা সম্ভব না হলেও দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। তা করতে হলে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচির চেয়ে প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই। সেই সাথে বাংলাদেশের সুন্দরবন রক্ষা করা জাতীয় দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে অন্তত ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ক্ষতিকর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে সরকারকে বিরত থাকতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণতা কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো সোচ্চার হতে হবে। কার্বন নিঃসরণকারী শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।
উপকূল বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো মূল ভূখণ্ডের রী বা প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে। সমুদ্রের বুকে অবস্থিত ভোলা, সন্দ্বীপ, মহেষখালী, কুতুবদিয়া, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি দ্বীপসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ভাঙন বা অন্য কোনো কারণে দ্বীপগুলো সমুদ্রগর্ভে বিলীন হলে বঙ্গোপসাগরের বিশাল ঢেঊ দণি-পশ্চিম মওসুমি বায়ুর প্রভাবে আঘাত হানবে দেশের মূল ভূখণ্ডে। ফলে ওই সব অঞ্চলের ভূখণ্ডে প্রচণ্ড ভাঙনের সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশ বিপর্যয়সহ অনেক বনসম্পদের মারাত্মক তি হবে। এখানে বসবাসরত মানুষগুলো বাধ্য হয়ে ঠাঁই খুঁজতে রাজধানীসহ নিকটস্থ শহর ও গ্রাম এলাকায় আশ্রয় নেবে। তখন জাতীয় জীবনেও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। হুমকির মধ্যে পড়বে রাষ্ট্রীয় কাঠামো। তখন শুধু উপকূলের জনগণ নয়, পাশাপাশি মূল ভূখণ্ডের মানুষও মহাবিপযর্য়ের মুখোমুখি হবে। এসব বিবেচনায় এনে সরকারকে কালপেণ না করে দেশের অর্থনীতি ও ভূখণ্ড রা এবং মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলা সর্বোপরি বাংলাদেশকে বাঁচানোর প্রয়োজনে উপকূলকে বাঁচানোর জন্য টেকসই উন্নয়ন নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুতুবদিয়া ও মহেশখালীসহ গোটা উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে জীবন যাপন করে। প্রাকৃতিক গ্যাস, মৎস্যসম্পদ, লবণ, চিংড়ি, পর্যটন শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় ও অর্জনে এ অঞ্চলের রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান।
তাই এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার দানে এবং সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য উপকূলীয় অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি প্রদান এখন সময়ের দাবি। এ পরিপ্রেক্ষিতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার সুবিধার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো উপকূলীয় অঞ্চল বিষয়ক একটি পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপকূলীয় জনমানুষের জীবনমান উন্নতির নিশ্চয়তা প্রদানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার উপকূলবাসীর মনে শুধু চিরস্থায়ী হয়েই থাকবে না বরং উপকূল বেষ্টিত অন্যান্য দেশের সরকার ও মানুষের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
লেখক : সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও সভাপতি বাংলাদেশ উপকূল বাঁচাও আন্দোলন (বাউবা)

You Might Also Like