আমি নই, মঞ্জুরই জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে: এরশাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড হয়েছিল ১৯৮১ সালে। ওই মঞ্জুরই জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল। এ নিয়ে সেনা বিদ্রোহ হয়েছিল। বিদ্রোহী সৈনিকরাই আবার মঞ্জুরকে হত্যা করেছে। ওই সময় বিএনপির সাত্তার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি বিদ্রোহ দমনের জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বিদ্রোহ দমন করেছিলাম। এ জন্য তিনি আমাকে প্রশংসাপত্র পাঠিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। ওই সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বিএনপি। সে সময় তো মঞ্জুর ও জিয়া হত্যার মামলার কথা ওঠেনি।এরশাদ বলেন, “১৪ বছর ৯ মাস পর কেন মঞ্জুর হত্যা মামলা দেয়া হলো আমার নামে, তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো। জিয়া ও মঞ্জুর হত্যার বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন, এতে আমি বিস্মিত হয়েছি। বিএনপি কয়েকবার ক্ষমতায় ছিল, আর খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেশ কয়েকবার। তখন তারা এমন প্রশ্ন তোলেননি।”তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর ৩৩ বছর পর আমাকে জড়িয়ে এমন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের আমি নিন্দা জানাই।”

এরশাদ বলেন, “মঞ্জুর হত্যা মামলার রায় এখনো হয়নি। এরই মধ্যে ২২-২৩ জন জজ পরিবর্তন হয়েছেন। তার কারণ কী, তা বুঝতেই পারছ তোমরা; আমার বলার প্রয়োজন নেই। যারাই হোক না কেন, তারা চায়, এ মামলা যাতে নিষ্পত্তি না হয়, আমি যেন মুক্ত মানুষ না হই।”

এরশাদ বলেন, “মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড ১৯৮১ সালের। মামলা দেয়া হয়েছে ১৪ বছর ৯ মাস পর আমার নামে। এ মামলা দেয়া হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে হ্যারাজ (হয়রানি) এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য। এ মামলা এখনো চলছে। এটি আমার জীবদ্দশায় শেষ হবে বলে মনে হয় না। না হলেও আমার ক্ষতি নেই।”

মঞ্জুর হত্যা মামলার বিষয়ে এরশাদ আরো বলেন, “ওই মামলায় আমার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষী নেই। আমার নাম কেউ উচ্চারণ করেনি।”

তিনি বলেন, “রায় দিলে আমাকে মুক্ত করতে হবে মামলা থেকে, সে কারণে রায় দেয়া হচ্ছে না। মামলা চলুক, আমার কিছুই বলার নেই।”

সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, “১৯ বছর ধরে মামলা চলছে, সাক্ষী আর্গুমেন্ট শেষ, জজ চেঞ্জ হচ্ছেন একটার পর একটা, ইচ্ছাকৃতভাবে এসব করা হচ্ছে।”

এরশাদ বলেন, “জিয়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য সম্পর্কে আমার দলের মহাসচিব সাংবাদিকদের বিবৃতি দিয়েছেন। তাই এ বিষয়ে আমি বেশি কিছু বলব না।”

You Might Also Like