ইবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ : গুলিবিদ্ধ ১

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত ও টেন্ডার নিয়ে ইবি শাখা ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ১ জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ১০জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিব ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড.কামাল উদ্দিন তার বিভাগের আহুত নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার জন্য ভিসি অফিসে যায়। ভিসিকে আজ দুপুর ২টায় পরিসংখ্যান বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার কথা বলে চলে আসে।

কিছুক্ষণ পরেই তার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি গ্রুপের ছাত্রলীগ পদ প্রত্যাশী নেতা জুয়েল রানা হালিম ও ফয়সাল সিদ্দিকি আরাফাত প্রায় ৩০ জন নেতা কর্মী নিয়ে একই সময়ে ভিসি অফিসে যায়।

এসময় তাদের সাথে বহিরাগত চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আশিকুর রহমান জাপান, তৌহিদুর রহমান হিটলার ভিসির কাছে চাকরির দাবি করে। তাদের চাকরি না দিয়ে কোন বিভাগের বোর্ড হবে না বলে ভিসির সাথে উচ্চ বাক্য বিনিময় করে। একই সাথে হালিম ও আরাফাতরা ভিসিকে কামাল উদ্দিনের পক্ষে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত ও টেন্ডার নিয়ে ভিসিকে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিতে থাকে।

এতে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার তাদেরকে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলে। এতে তারা ভিসির সাথে দূর্ব্যবহার করে। পরে তাদেরকে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয় এবং ভিসি অফিসের কলাপসিবল গেট আটকিয়ে দেয়। এতে তারা ভিসি অফিসের গেটে ভির জমাতে থাকে এবং ভিসিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা ভিসির অফিসের গেটের তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে।

এসময় ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের নেতা ও বঙ্গবন্ধু হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির ইসলাম বাবু ২০/২৫ জন কর্মীকে নিয়ে ভিসি অফিস যায়। আরাফাত ও হালিমদের ভিসির অফিসের গেট থেকে সেখান থেকে সরে যেতে বললে বাবুর সাথে ছাত্রলীগ নেতা হালিম ও আরাফাতের মাঝে বাক বিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হালিম আরাফাত, বহিরাগত জাপান ও চেকা জাহাঙ্গীর বাবুদের হুমকি দেয়। আর আরাফাতদের উস্কে দেয়।

একপর্যায়ে বাবু চড়াও হয়ে তার কর্মী নোমানের ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে আরাফাতের বুকে চেপে ধরে। এতে উভয় গ্রুপের কর্র্মীদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং উভয় গ্রুপের মাঝে ধস্তাধস্থি শুরু হয়ে।

এসময় উপস্থিত কর্মকর্তারা ভয়ে এদিক ও দিক ছোটাছুটি শুরু করে। এতে উভয় গ্রুপ প্রশাসন ভবনের দোতলার ভিসি অফিসের সামনে থেকে প্রশাসন ভবনের নিচে চলে আসে।

এসময় শিশির ইসলাম বাবু হালিমদের দিকে তাক করে গুলি ছোড়ে এতে হালিম গ্রুপের সাইদুর রহমান বাবু নামের এক কর্মীর পায়ে গুলি লাগে।

এতে হালিমরা বাবুর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের উপর হামলা করে এবং প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে ধাওয়া দিয়ে ছাত্রলীগের টেন্টে নিয়ে আসে। এসময় টেন্টে উপস্থিত থাকা ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামের উপর হামলা করে তাকে ব্যাপক মারধর করে।

এতে বাবু বাধা দিতে আসলে তার উপর হালিম গ্রুপের কর্মীরা হামলা করে। এতে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের রুপ ধারন করে এবং ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া চলে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনা স্থলে আসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ উভয় গ্রুপকে ছত্র ভঙ্গ করে দেয়।

বর্তমানে সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা তাদের টেন্টে ও সহ-সভাপতি গ্রুপের নেতা কর্মীরা তাদের বিপরীতে বিজ্ঞান ভবনের পূর্ব দিকে মুখোমুখি অবস্থান করছে।

এসময় উভয় গ্রুপের সংঘর্ষে সভাপতি সহ প্রায় ১০ জন আহত হয়। সভাপতি গ্রুপের নেতা ও কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে শিশির ইসলাম বাবুর মাথা ফেটে যায়। এছাড়াও অন্যন্য আহতরা হলেন, সভাপতি গ্রুপের কর্মী কম্পিউটার সাইন্সের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের আতাউর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের নোমান রবিন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের কামরুজ্জামান সাগর, রাজু আহম্মেদ, সহ-সভাপতি গ্রুপের গুলিবিদ্ধ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২০১৩-১৪৫ শিক্ষাবর্ষের সাইদুর রহমান বাবু ও জুয়েল রানা হালিম।

আহতদের প্রাথমিক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আর গুলিবিদ্ধ বাবুকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে মেডিকেলের কর্তব্যরত ডাক্তার বদিউজ্জামান জানিয়েছেন।

এব্যাপারে সহ-সভাপতি গ্রুপের নেতা হালিম জানায়, আমরা ভিসির সাথে কথা বলতে গেলে সভাপতি গ্রুপের বাবু আমাদের উপর গুলি ছোড়ে। আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছি মাত্র।

এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা সকাল থেকে শান্তি পূর্ণভাবে টেন্টে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ করে হালিম ও আরাফাতরা আমার উপর ও আমার কর্মীদের উপর হামলা করে। আমরা পরিসংখ্যান বিভাগের নিয়োগ বোর্ড সচ্ছ ভাবে হওয়ার জন্য ভিসিকে অনুরোধ করেছি। আর সচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া করার পক্ষে কথা বললে তারা এই ন্যাক্কার জনক হামলা চালিয়েছে। আমরা সাংগঠনিক ভাবে এর সুষ্ঠু বিচার করবো। প্রশাসনকে এর সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি জানান।

ইবি থানার ভাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা ক্যাম্পাসে যে কোন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রেখেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান জানান, ছাত্রলীগের এই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

You Might Also Like