কুনিও হোশি হত্যায় জেএমবি জড়িত

জাপানের নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা এবং বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমীন, সুরেশ্বরী মাজারের খাদেম রহমত আলী ও ইতালির নাগরিক ডা. পিয়েরো পিচম হত্যাচেষ্টায় জেএমবি সরাসরি জড়িত।

মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হুমায়ুন কবির এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জাপানের নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা এবং মাজারের খাদেম রহমত আলী, বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমীন ও দিনাজপুরে ইতালীয় চিকিৎসক ডা. পিয়েরো পিচম হত্যাচেষ্টার সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) সরাসরি জড়িত। এসব হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার অস্ত্রের জিম্মাদার হলেন রংপুরের পীরগাছা থেকে গ্রেফতারকৃত জেএমবি নেতা ইসহাক।

ডিআইজি জানান, গত ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর মহানগরীর উপকণ্ঠ কাউনিয়ার আলুটারী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি। ৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় রংপুর বাহাই কেন্দ্রের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী রুহুল আমীনকে নগরীর আইডিয়াল মোড়ে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। ১০ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় কাউনিয়ার চৈতার মোড় বাজেমজকুর মাশরুম পাড়ায় স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী ও সুরেশ্বরী মাজারের খাদেম রহমত আলীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। ১৮ নভেম্বর দিনাজপুরে ইতালির নাগরিক ডা. পিয়েরো পিচমকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এই চার ঘটনাতেই জেএমবি সরাসরি জড়িত।

তিনি বলেন, কুনিও হোশি হত্যাকাণ্ডসহ চারটি ঘটনারই প্রধান অভিযুক্ত জেএমবি নেতা মাসুদ রানার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইসহাক। আদালতে জবানবন্দিতে সে তা স্বীকার করেছে। এই অঞ্চলে সংঘটিত সকল ঘটনার অস্ত্রের জিম্মাদার ইসহাক। সে শ্রমিক হিসেবে আগে ইরাকে ছিল। তার বড় ভাই ইনছার আলী ছিল উত্তরাঞ্চলের শীর্ষ জেএমবি নেতা। সে লিবিয়াতে মারা গেলেও তার লাশ পাওয়া যায়নি।

ডিআইজি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য জেএমবি রংপুর অঞ্চলে সংগঠিত হচ্ছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের তৎপরতা নষ্ট করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই রংপুরের মাসুদ রানা, ইসহাকসহ পাঁচজন, দিনাজপুরে সাতজন, গাইবান্ধায় সোহাগসহ তিনজন ও লালমনিরহাটে তিনজন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অত্যাধুনিক তিনটি অস্ত্র, গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন আলামত। এসব ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর পরই বলা যাবে উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়েই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না।

এর আগে কুনিও হোশি হত্যায় তার ব্যবসায়িক বন্ধু হুমায়ুন কবির হীরা, বিএনপি নেতা রাশেদ উন নবী খান বিপ্লব, ভরসা কাজল, কালা রুবেল ও মেরিল সুমনকে গ্রেফতার দেখিয়ে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

You Might Also Like