ছোবল খেয়েও বিষাক্ত কেউটেকে কৌটায় ভরে রাখলেন!

সন্ধ্যার দিকে ঝোপঝাড়ে ঘেরা টিউব-কলে পানি তুলতে গিয়ে কেউটের লেজে পা দিয়েছিলেন বছর পঁয়ত্রিশের মহিলা। মুহূর্তেই ফনা উঁচিয়ে তাঁর পায়ে ছোবল বসায় বিষাক্ত সাপটি। আর্ত চিৎকারে ভিড় জমে। লাঠি দিয়ে সাপটিকে মারতে যান কয়েকজন গ্রামবাসী।

সবাইকে নিরস্ত্র করেন আক্রান্ত সুরকুই বোদরা! তিনি বলেন, ‘‘ও তো নিরীহ প্রাণী। ভয় পেয়ে কামড়ে দিয়েছে। ওকে মেরো না।’’ ১৪ ডিসেম্বর সোমবার এমনই কাণ্ড ঘটে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সরাইকেলায়।

শুধু তাই নয়। দু’ ফুটের সাপটিকে হাতে তুলে মাটিতে পড়ে থাকা একটি প্লাস্টিকের কৌটোয় ভরে নেন সুরকুই। হাসপাতালে সঙ্গে নিয়ে যান কৌটোটিকে। তিনি জানিয়েছেন— সুস্থ হলে সাপটিকে নিরাপদ কোনও জায়গায় ছেড়ে দেবেন। এখন ওই গৃহবধূর চিকিৎসা চলছে সরাইকেলার জেলা হাসপাতালে। নিজের বিছানার পাশেই রেখেছেন বোতলবন্দি কেউটে।

সরাইকেলার বড়াবাম্বো গ্রামের বাসিন্দা সুরকুই গত রোববার বিকেলে জল ভরতে গিয়েছিলেন। তখনই তাঁর পা পড়ে কেউটের লেজে। ছোবল মারে সাপটি। সেখানে কয়েক জন মহিলা ছিলেন। তাঁদের চিৎকারে ভিড় জমে। লাঠি নিয়ে সাপটিকে মারতে যান সকলে। চিৎকার করে তাঁদের নিষেধ করেন সুরকুই। এলাকার বাসিন্দা মনোজ মুন্ডা বলেন, ‘‘সাপটা ঝোপে ঢুকে গিয়েছিল। সুরকুই সেটাকে হাতে ধরে একটা কৌটোয় ভরে ফেলে। পায়ে যেখানে সাপ কামড়েছিল, তার একটু উপরে ব্লেড দিয়ে শিরা কেটে ফেলে জায়গাটা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধেও নেয়।’’ কৌটোবন্দি কেউটে সঙ্গে নিয়েই হাসপাতালে যান সুরকুই।

ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামে সাপের কামড় খাওয়ার ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে। রাঁচির রিমস হাসপাতাল সূত্রের খবর, এ বছর সাপের কামড়ে শ’তিনেক মানুষ ভর্তি হয়েছেন। কয়েক জন মারাও যান। তবে সুরকুইয়ের মতো সাহস আগে দেখেছেন বলে মনে করতে পারছেন না চিকিৎসকরা। চিকিৎসক আর প্রসাদ জানান, বিষাক্ত সাপ নিয়ে হাসপাতালে থাকাও বিপজ্জনক। অন্যান্য রোগীর নিরাপত্তার কথা ভেবে কৌটোয় রাখা সাপটাকে সরিয়ে দিতে বলা হয়েছিল। সুরকুই রাজি হননি। হাসপাতালের কর্মীরা বোতলটির মুখ আপাতত ভাল ভাবে ‘সিল’ করে দিয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুরকুই চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল।

আচ্ছন্ন অবস্থাতেই সুরকুই বলছেন, ‘‘নিরীহ প্রাণীটাকে মারলে আমার বাচ্চাদের জীবনে অমঙ্গল নেমে আসতে পারত। কোনোভাবেই সাপটাকে এখন কাছছাড়া করবো না। সুস্থ হলে ওকে কোথাও ছেড়ে দেব।’’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

You Might Also Like