মাদারীপুরের হ্যাপির লাশ উত্তোলনের নির্দেশ

হাইকোর্ট মাদারীপুরে কিশোরী হ্যাপির (১৫) লাশ তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, যাকে অপহরণের পর নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

হ্যাপির মায়ের করা এক আবেদনের শুনানি করে রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৩ অগাস্ট মাদারীপুর সদরের মোস্তফাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রী সুমাইয়া (১৪) ও তার সহপাঠী প্রতিবেশী হ্যাপি (১৫) স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বিকেলে মাদারীপুর হাসপাতালে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

সুমাইয়া আক্তার মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামের বিল্লাল শিকদারের এবং হ্যাপি একই গ্রামের হাবিব খানের মেয়ে। ওই ঘটনায় ওইদিনই সুমাইয়ার বাবা বিল্লাল শিকদার বাদী হয়ে ৫/৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

মাদারীপুর কোতোয়ালি থানার ওসি জিয়াউর মোর্শেদ সে সময় জানিয়েছিলেন, ধর্ষণের বিষয়টি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আলামত পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল প্রতিবেদনের পরে বলা যাবে তাদের ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের ডা. শফিকুল ইসলাম সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ১৪ অগাস্ট দুজনের ময়নাতদন্ত করে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পেয়েছেন তারা।

এরপর হ্যাপির মা মুক্তা বেগম তার মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যার অভিযাগ এনে ১৩ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেন। তিনি লাশ তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন জানালে ১৮ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে তা খাজির হয়।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে ১৫ নভেম্বর আপিল করেন হ্যাপির মা, যার ওপর শুনানি নিয়ে রোববার হাইকোর্ট আদেশ দিল।

আদালতে আবেদনকারীপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাসুদ হাসান দোলন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী অদ্বিতী রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শহীদুল ইসলাম খান।

আইনজীবী মাসুদ হাসান দোলন বলেন, আপিল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট হ্যাপির লাশ তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

You Might Also Like