মানি লন্ডারিংয়ে কোনো ছাড় নেই: এনবিআর

জঙ্গি কার্যক্রম ও নাশকতা দমনের লক্ষ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে জোরালো ভূমিকা রাখবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে নিয়মিতভাবে মুদ্রা পাচার বা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্তদের শনাক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

বৃহস্পতিবার এনবিআর সম্মেলনকক্ষে ‘জনকল্যাণে রাজস্ব : রাজস্ব আদায়ে চাই অব্যাহত সহযোগিতা’ শীর্ষক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগে মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত ও মামলা দায়েরের এখতিয়ার কেবল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ছিল। এখন এর আওতা বাড়ানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি এনবিআরও এই বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সরকার এখন চোরাচালানের বিরুদ্ধে অনেক বেশি সোচ্চার।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) বুধবার বিশ্বের উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রা পাচার নিয়ে যে সমীক্ষাপত্র প্রকাশ করেছে, সে সম্পর্কে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘রিপোর্টটি আমরা আমলে নিয়েছি। তবে এটি পুরোপুরি সত্য কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরে এনবিআর ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ সময়ে ১২ হাজার ৬৮ কোটি ২ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত বছরের নভেম্বর মাসের চেয়ে ২৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি।

তিনি জানান, সার্বিকভাবে এই পাঁচ মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৪ শতাংশ। প্রথম চার মাসে এ হার ছিল ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। রাজস্ব আদায়ের সূচক ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী।

অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি ছন্দ কেটে বলেন, ‘কর প্রদানে ফুলেল বরণ, কর ফাঁকিতে বাঘের ছোবল’।

নজিবুর রহমান আরো বলেন, এনবিআরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যোগ্য কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে হয়রানি রোধে ব্যবস্থা নেওয়া, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিদের কর আদায়ে সম্পৃক্ত করা এবং রাজস্ব আদায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এই সচিব আরো বলেন, কর প্রদান বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্কুল-কলেজের পাঠ্যসূচিতে রাজস্ব বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিসিএস (প্রশাসন) একাডেমি, বিসিএস (কর) একাডেমি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি, কাস্টসম এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিসহ সকল একাডেমিতে প্রশিক্ষণের জন্য রাজস্ব বিষয়ক কোর্স ক্যারিকুলাম প্রেরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like