রোনালদো-বেনজেমার হ্যাটট্রিকে রিয়ালের বিশাল জয়

গ্যারেথ বেলের শূন্যতা বুঝতেই দিলেন না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও করিম বেনজেমা। দুজনে মিলে প্রতিপক্ষের জালে সাতবার বল জড়ালেন। মালমোকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরের ধাপে দুর্দান্ত কিছুর আভাস দিয়ে রাখল রিয়াল মাদ্রিদ।

ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে এ দিন একাই চার গোল করেন রোনালদো, তিনটি বেনজেমা। অন্য গোলটি মাতেও কোভাসিচের।

নকআউট পর্ব আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ওয়েলসের ফরোয়ার্ড বেলকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন রাফায়েল বেনিতেস। তাতে একটুও ভাবনায় পড়তে হয়নি কাউকে।

ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটেই বেনজেমার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বাঁ দিক থেকে রোনালদোর কোনাকুনিভাবে ডি-বক্সে বাড়ানো বল ধরেই শট নেন ইসকো। গোললাইনে দাঁড়ানো এক ডিফেন্ডার সেটা ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল পেয়ে নিখুঁত শটে জালে জড়ান বেনজেমা।

১২ মিনিট বাদে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বেনজেমা। এই গোলেও অবদান ছিল রোনালদোর। তার উঁচু করে বাড়ানো ক্রসে অসাধারণ এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফরাসি স্ট্রাইকার।

২৯তম মিনিটে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো, কিন্তু ফাঁকায় থেকেও বলে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি। ৩৭তম মিনিটে তার আরেকটি জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।

দুই মিনিট বাদেই স্কোরশিটে নাম লেখান রোনালদো। ডি বক্সের বাঁদিক থেকে জোরালো ফ্রি-কিকে বল জালে জড়ান তিনবারের বর্ষসেরা তারকা। গোলরক্ষক দেরিতে ঝাঁপ দেওয়ায় ঠেকাতে পারেননি।

বিরতির কিছু আগে দ্বিতীয় গোল পেতে পারতেন রোনালদো। কিন্তু ১২ গজ দূর থেকে তার শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তিন মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন রোনালদো, ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল।

৪৭তম মিনিটে ছয় গজ বক্সের একটু সামনে ফাঁকায় বল পেয়ে সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আর ৫০তম মিনিটে ডি বক্সের মধ্যে থেকে তার শট গোলরক্ষকের পায়ে লাগলেও ভেতরে ঢুকে যায়।

৫৬তম মিনিটে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়ে নিজের হ্যাটট্রিকের সুযোগ নষ্ট করেন গত শনিবার লা লিগায় গেতাফের জালে জোড়া গোল করা বেনজেমা।

৫৯তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান রোনালদো। ডান দিক থেকে ইসকোর বাড়ানো বলে প্রথম শটেই গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।

ক্যারিয়ারে রোনালদোর এটা ৮৮তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোল। এ নিয়ে ১১টি গোল করে এবারের আসরেও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলের মালিক তিনি।

৭০তম মিনিটে গোলবন্যায় যোগ দেন মাতেও কোভাসিচ। হেসে রদ্রিগেসের শট গোলরক্ষক উইলান্ড ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি শটে বল জালে জড়ান ক্রোয়েশিয়ার এই মিডফিল্ডার।

এই মৌসুমেই বের্নাবেউয়ে আসা কোভাসিচের এটা রিয়ালের হয়ে প্রথম গোল।

সুইডেনের ক্লাব মালমোর দু:স্বপ্নের এখানেই শেষ নয়। ৭৪তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণের মধ্য দিয়ে স্কোরলাইন ৮-০ করেন বেনজেমা। ডি বক্সের মধ্যে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।

ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় বেনজেমার এটা ৪৬তম আর এবারের আসরে চতুর্থ গোল।

দুর্দান্ত এই সাফল্যে অপরাজিত থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করা রিয়ালের পয়েন্ট ৬ ম্যাচে হলো ১৬।

‘এ’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে তাদের সঙ্গী পিএসজির পয়েন্ট ১৩। দিনের অন্য ম্যাচে তারা ২-০ গোলে ইউক্রেনের দল শাখতার দোনেৎস্ককে হারিয়েছে।

দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজির গোল দুটি করেন লুকাস মাউরা ও জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ।

You Might Also Like