মোদিকে হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা। মোদিকে হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হলে সাম্প্রতিক প্যারিস হামলা কিংবা ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ে পরিচালিত হামলার মতো গণহারে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিগোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে ভারতের আরো কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের রাজনীতিককে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল লস্কর-ই-তাইয়েবা। এ উদ্দেশ্যে নভেম্বর মাসে জঙ্গি সংগঠনটির চারজন সদস্য ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশও করেছে। তবে তাদের এ হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে ভারতের গোয়েন্দারা। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার

গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) ও দিল্লি পুলিশ ওই চার জঙ্গিকে ধরতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সহায়তায় গোয়েন্দারা দুই জঙ্গিতে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

ভারতের উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানায়, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে অনু্প্রবেশকারী ওই চার জঙ্গি প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার জন্য লস্কর-ই-তাইয়েবার কমান্ডার আবু দুজানার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

আটককৃত দুই জঙ্গি জানান, তাদের দুটি উদ্দেশ্য ছিল। এক, মোদির সমাবেশে প্যারিস হামলা কিংবা ২০০৮ সালে ২৬ নভেম্বর মুম্বাই হামলার মতো কোনো হামলা পরিচালনা করা। এ ক্ষেত্রে জঙ্গিরা যদি প্রধানমন্ত্রী মোদির নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাঙতে না পারে তবে আত্মঘাতী গ্রেনেড হামলা চালাবে।

দ্বিতীয়ত, যদি মোদির ওপর হামলা চালানো একান্তই সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে জঙ্গিরা দিল্লি কিংবা জম্মু ও কাশ্মীরের কোনো উচ্চপর্যায়ের রাজনীতিকের ওপর কিংবা জনসমাবেশে হামলা চালাবে।

দিল্লি পুলিশের দায়ের করা প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) থেকে জানা যায়, জঙ্গিরা নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ‘ভিআইপি’ শব্দটি ব্যবহার করত।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, লস্কর-ই-তাইয়েবার নতুন কমান্ডার আবু দুজানা ভারতে তার উপস্থিতি জানান দিতে এ হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় এ হামলার পরিকল্পনাকে ‘আইএসআই-লস্কর প্ল্যান’ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, এ হামলার পেছনে আল-কায়েদার ভারতীয় শাখার জড়িত থাকার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ভারতীয় গোয়েন্দারা।

গত ১ ডিসেম্বর দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা লস্কর-ই-তাইয়েবার এমন হামলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জঙ্গি সংগঠনটির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করে।

এ মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সতীশ রানা এফআইআরে বলেন, গত ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি লোধি কলোনিতে তার কার্যালয়ে ছিলেন। এমন সময় একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তার কাছে গোপন খবর আসে যে, পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা তাদের উদ্দেশ্য প্রচারের লক্ষ্যে দিল্লি এবং ভারতের অন্যান্য অংশে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছে। জঙ্গিরা দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের রাজনীতিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে ‘ফিদায়িন (আত্মঘাতী)’ ও গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করেছি।

সূত্র জানায়, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের (এসওজি) যৌথ অভিযানে লস্কর-ই-তাইয়েবার সাব্বির আহমেদ মালিক নামের এক সদস্যকে গত ২৪ নভেম্বর আটক করা হয়। সাব্বির গত ২০ নভেম্বর থেকে জম্মুতে ছিলেন এবং দক্ষিণ কাশ্মীরের বাথিনডি এলাকায় আমির আলম গুজার নামের একজনের বাসায় অবস্থান করছিলেন। আটকের সময় সাব্বিরের সঙ্গে আরো দুজন ছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইন্সপেক্টর সঞ্জয় দত্ত ও গোবিন্দ শর্মার নেতৃত্বাধীন দিল্লি পুলিশের একটি দল জম্মু ও কাশ্মীরে যান। সাব্বির ও তার সঙ্গে আটককৃত আরেকজনকে দিল্লি পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক কর্মকর্তা জানান, সাব্বিরকে ৪৭ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের চারজনকে দিল্লি কিংবা ভারতের অন্য কোথাও মুম্বাই হামলার মতো কোনো হামলা পরিচালনা করার কথা বলা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে টাইমস অব ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা সাড়া দেয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা নস্যাতে অভিযান এখনো চলছে। বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না।

You Might Also Like