৭ খুনের চার্জশিটে মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে : হাইকোর্ট

বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে(চার্জশিট) মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার সাত খুনের মামলার অধিকতর তদন্ত চেয়ে করা আবেদনের শুনানিকালে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

আদালত আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, চার্জশিটে মারাত্মক ত্রুটি আছে, কিন্তু আমি এখন তা বলব না। আপনারা ভালো করে খুঁজে দেখেন।

আদালত বলেন, সাত খুনের মামলার বিচারের দিকে দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। এই মামলার ফলাফল কী হয়, মানুষ তা দেখতে চায়।

আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নুর হোসেন চার্জশিট দেওয়ার সময় দেশের বাইরে ছিলেন উল্লেখ করে মামলাটির পুনঃতদন্তের আবেদন জানান।

তখন আদালত বলেন, ‘ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে দেখেন, শতভাগ নিশ্চিয়তা দিতে গিয়ে যেন কারাগারে থাকা আসামিরা সুযোগ নিতে না পারে।’

এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ঠিক করেন আদালত।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার ও অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল মনিরুজ্জামান কবির।

গত সপ্তাহে সাত খুনের মামলার অধিকতর তদন্ত চেয়ে আবেদন করেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি।

গত বছরের ২৭ এপ্রিল দুপুরে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহরণ করা হয়। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং ১ মে অপরজনের লাশ পাওয়া যায়। নিহত অপর পাঁচজন হলেন- নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ফতুল্লা মডেল থানায় নূর হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, হাসমত আলী, আমিনুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ ছাড়া চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল একই ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একই থানায় আরেকটি মামলা করেন।

You Might Also Like