‘জিয়া অবৈধ হলে বৈধতা থাকে না আওয়ামী লীগেরও’

‘জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল সম্পূর্ণ অবৈধ’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল তার নিজ ফেস বুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘জিয়াউর রহমান বৈধ প্রেসিডেন্ট না হলে বাংলাদেশে বর্তমান রাজনীতি, সংসদ, সংবিধান, অসামরিক শাসন, রাজনৈতিক দল কোনো কিছুরই বৈধতা ও ধারাবাহিকতা থাকে না। বৈধতা থাকে না আওয়ামী লীগেরও।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মারুফ কামাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এ স্ট্যাটাস দেন।

প্রসঙ্গত, গণভবনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় জিয়াউর রহমান ও এরশাদকে ‘অবৈধ রাষ্ট্রপতি’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘হাইকোর্টের স্পষ্ট রায় আছে, জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল সম্পূর্ণ অবৈধ। এরশাদের ক্ষমতা দখল অবৈধ। তাই পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল ঘোষিত হয়েছে। কাজেই সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বা জিয়াউর রহমান, কেউ কিন্তু আর রাষ্ট্রপতি নন। কারণ তারা অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী।’

মারুফ কামালের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হল-

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সব অমর কীর্তি এবং ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা বাদ দিলেও তিনি আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গঠনের অনুমতি দিয়েছিলেন। তাঁর ওপর যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পিত হয় এর আগে থেকেই দেশে সামরিক শাসন বলবৎ এবং সংবিধান স্থগিত ছিল। তিনি সামরিক শাসন প্রত্যাহার এবং সংবিধান পুনঃপ্রবর্তন করেন।

শহীদ জিয়া দায়িত্ব গ্রহণের আগেই দেশে কোনো রাজনৈতিক দল ও রাজনীতি ছিল না। একদলীয় বাকশাল পদ্ধতি প্রবর্তনের সময় বাদবাকি সব দল নিষিদ্ধ হয়েছিল। খন্দকার মুশতাক আহমদ বাকশালও বিলুপ্ত করায় কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। সামরিক আইনের আওতায় রাজনৈতিক তৎপরতাও নিষিদ্ধ ছিল। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পলিটিক্যাল পার্টি রেগুলেশন (পিপিআর) জারি করেন এবং এর আওতায় আওয়ামী লীগসহ সকল রাজনৈতিক দল গঠনের ব্যবস্থা করেন। তিনি রাজনৈতিক তৎপরতা চালু করেন। নির্বাচন আয়োজন করেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবিধান পুনঃপ্রবর্তন করেন। জিয়াউর রহমান বৈধ প্রেসিডেন্ট না হলে বাংলাদেশে বর্তমান রাজনীতি, সংসদ, সংবিধান, অসামরিক শাসন, রাজনৈতিক দল কোনো কিছুরই বৈধতা ও ধারাবাহিকতা থাকে না। বৈধতা থাকে না আওয়ামী লীগেরও।

You Might Also Like