হেফাজতের জরুরি সভায় ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রচারের প্রতিবাদ

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের এক জরুরি সভায় কয়েকটি প্রিন্ট মিডিয়ায় হেফাজতের নেতৃবৃন্দকে ঘিরে ‘জঘন্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ’ প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

গত রোববার দারুল উলূম হাটহাজারী মিলনায়তনে আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতসভায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা হাফেজ শামসুল আলম, মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা ফোরকান আহমদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনীর, মাওলানা ইলিয়াস ওসমানী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ আজাদী, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মীর মোহাম্মদ ইদ্রিস, মাওলানা হাফেজ মোজাম্মেল হক, মাওলানা মুনীর আহমদ, মাওলানা আব্দুল জব্বার, মাওলানা হাফেজ মো. তৈয়ব, মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী প্রমুখ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কয়েকটি প্রিন্ট মিডিয়ায় হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীপুত্র ও হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনাস মাদানী সম্পর্কে জঘন্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয় যে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাসী, কিন্তু বাকস্বাধীনতার নামে মিথ্যাচার করে সমাজে মানুষ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা জঘন্যতম অপরাধ। সাংবাদিকরা হলো জাতির বিবেক। কিন্তু হলুদ ও এম্বেডেড সাংবাদিকতার কারণে সমাজে অনৈতিকতা, হিংসা-বিদ্বেষ ও অনৈক্যের সৃষ্টি হচ্ছে। যেসব মিডিয়া ও সংবাদকর্মীরা দেশের সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও বুজুর্গ শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে সমাজে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ পরিবেশন করছে, তারা কেউ এই মিথ্যা রিপোর্টের কারণে আল্লাহ’র শাস্তি হতে রেহাই পাবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলো, মানবজমিন, আমাদের সময়, বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বকোণসহ কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় মাওলানা আনাস মাদানীকে জড়িয়ে যে-সংবাদ তারা প্রকাশ করেছেÑ তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং জনগণের কাছে দেশের শীর্ষ আলিম ও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী ও তাঁর সুযোগ্য পুত্রকে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং হেফাজত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ভাঙন তৈরি করে হেফাজতের আন্দোলনকে দুর্বল করার অপচেষ্টা মাত্র। তাঁরা বলেন, হেফাজতে ইসলাম একটি ঈমানী আন্দোলন। এখানে পার্থিব লোভ-লালসা বা অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা হাসিলের কোনো সুযোগ নেই। আল্লামা আহমদ শফী হচ্ছেন দেশের লক্ষ লক্ষ আলিম-ওলামার উস্তাদ, শায়খ ও মুর্শিদ। তিনি জীবনে অনৈতিকতার কোনো ছোঁয়া লাগেনি। তাঁর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম দেশের আপামর তৌহিদি জনতাকে সাথে নিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (স.) ইজ্জত রক্ষার বৃহৎ ঈমানি আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ বলেন, হেফাজত প্রতিষ্ঠার অনেক আগেই জমি ক্রয় করে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছেন। পূর্বকোণ পত্রিকায় প্রকাশিত ২০ কাঠা জমির উপর ৫টি ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এখানে কেবল একটি ভবন হুজুরের মালিকানাধীন। সম্পূূর্ণ নিজস্ব ইনকামের টাকায় এবং বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণ করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।

সভায় হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, হেফাজতে ইসলামের বিশেষ কোনো কর্তৃত্ব বা নেতৃত্ব মাওলানা আনাস মাদানীর হাতে নেই। এর যাবতীয় কার্যক্রম সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গৃহীত ও বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে তাঁর দ্বারা সংগঠনে প্রভাব বিস্তার বা কর্তৃত্ব খাটানোর প্রশ্নই আসে না। সৌদি আরবের ওমরাহ পালনকালীন সময়ে কারো কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা আল্লামা আহমদ শফী বা তাঁর পুত্র গ্রহণ করেননি। ৭১ লাখ টাকা গ্রহণের সংবাদটি সর্বৈব মিথ্যা এবং বানোয়াট। বরং এটি একজন মহান বুজুর্গ নেতাকে জনগণের সামনে হেয় করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। সংবাদটির বস্তুনিষ্ঠতা প্রশ্নবিদ্ধ হবার সবচেয়ে বড় দিকটি হলো, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের আগে সংবাদপত্রের নিয়ম বা রীতি অনুযায়ী তাঁদের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। সুতরাং সংবাদটি সম্পূর্ণ একতরফা ও মিথ্যাচারপূর্ণ।

সভায় তাঁরা আরও বলেন, গত ১১-১২ এপ্রিল লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত শানে রেসালত সম্মেলনের আগে সরকারের কোনো মন্ত্রী বা প্রতিনিধির সাথে আমীরে হেফাজত বা মাওলানা আনাস মাদানীর কোনো ধরনের বৈঠক হয়নি। এ বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যটি অবাস্তব এবং কল্পনাপ্রসূত। হেফাজতের সাথে সরকারের ‘আঁতাত’ বা অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণ সম্পর্কিত এসব মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত না করার জন্য আমরা সকল সংবাদমাধ্যমের প্রতি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাই। হেফাজতে ইসলাম তার নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে চিরদিন অটল-অবিচল থাকবে, আল্লাহ ও রাসূলের (স.) অবমাননাকারী নাস্তিক-মুরতাদদের শাস্তির বিধান প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত কখনও কারো সাথে আপস-সমঝোতা হতে পারে না।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় হেফাজতে ইসলাম, আল্লামা শাহ আহমদ শফী, দারুল উলূম হাটহাজারী ও হেফাজত নেতৃবৃন্দকে নিয়ে অনাকাক্সিক্ষতভাবে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার জন্য সকল মিডিয়াকর্মীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হেফাজতে ইসলাম বাধ্য হবে।

হেফাজত নেতৃবৃন্দ দেশের সর্বস্তরের তৌহিদি জনতা এবং ওলামায়ে কেরাম ও হেফাজতের নেতা-কর্মীদেরকে এসব মিথ্যা তথ্য ও সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানান।

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

You Might Also Like