শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন যুক্তরাষ্ট্র উদীচীর

দেশে দুইজন যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র উদীচী। উদীচীর যুক্তরাষ্ট্র শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের দিন যেমন খুশী ও আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিলাম, ঠিক একইভাবে আনন্দে আত্মহারা হয়েছি দুই শীর্ষ ঘাতক সাকা চৌধুরী এবং মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলানোর সংবাদ দেখে। খুশির এ ঢেউ গোটা বাঙালির মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এজন্যে প্রবাসের সর্বস্তরের বাঙালির পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে অভিনন্দন।’

২২ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় ঘাতক সাকা চৌধুরী এবং মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলানোর পরিপ্রেক্ষিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের লাগাতার কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন যুক্তরাষ্ট্র উদীচীর উদ্যোগে ‘শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে অভিনন্দন’ জানানো হয়।

গণসঙ্গীতের ফাঁকে বিশিষ্টজনরা এতে বক্তব্য রাখেন। উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জীবন বিশ্বাস এটি পরিচালনা করেন। হিমেল হাওয়া সত্ত্বেও আশপাশের পথচারীরা বিপুল উৎসাহে বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতির তথ্য জানতে সেখানে জড়ো হন এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহবান জানান।

প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মুহম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকারের গৃহিত পদক্ষেপকে নস্যাৎ করতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। প্রবাসীদের সজাগ থেকে সে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে একাত্তরের চেতনায়।’

‘বাংলাদেশকে মৌলবাদ আর জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে জামাত-শিবির এবং তাদের দোসরেরা’-উল্লেখ করেন সৈয়দ মুহম্মদ উল্লাহ।

লেখক ও সমাজ সংগঠক বেলাল বেগ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন রাজাকার শাহ আজিজ। সেই শাহ আজিজ বিএনপি সম্পর্কে সে সময় প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, বিএনপির অর্থ হচ্ছে ‘বেসিক্যালি নট পলিটিক্যাল পার্টি’। অর্থাৎ বিএনপি সৃষ্টি করা হয়েছে জামাতকে রক্ষার জন্যে। সময়ের বিবর্তনে এখন তা পরিষ্কার হচ্ছে। তাই বিএনপি আর জামাতকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকারকে কালক্ষেপণের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।’

যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক ড. এম এ বাতিন, সমাজ-সংগঠক নাসিুমন্নাহার নিনি এবং মুজাহিদ আনসারী, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ মালেক প্রমুখ ছিলেন নেতৃবৃন্দের। উদীচীর শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগানিয়া সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

You Might Also Like