‘সরকারের সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব’

সরকারে সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

 

রোববার দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমীতে দুদকের একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-২০১৫ এর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রফেসর আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি দমন বা নিয়ন্ত্রণের বড় শর্ত সুশাসন। দুর্নীতি দমনের চেয়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয় তবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে সে জন্য সরকারের সদিচ্ছা থাকাটা জরুরি। সরকার যদি চায় তাহলেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

 

শতকরা ৫ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এমন তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে ৫ শতাংশ লোক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। অর্থ্যাৎ ৯৫ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির বাইরে। তাই তারা যদি একত্রিত হয় তাহলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

 

স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্দেশ করে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি মানে শুধু আর্থিক সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি নয়, নিয়ম-নীতির ব্যতয় ঘটিয়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়াটাও দুর্নীতি। যেমন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগেও দুর্নীতি হয়।’

 

অনুষ্ঠানের সভাপতি দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কাজে সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতাও রয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে এক হাজার ৭৩ জন লোক কাজ করছেন। এর মধ্যে মাত্র ৩০০ জন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজে জড়িত। এতো স্বল্প সংখ্যক লোক দিয়ে এ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তবে দিন শেষে সাধারণ মানুষ দুর্নীতি দমনে দুদক কতটা সার্থক সেটাই বিবেচনা করে।’

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয় দুর্নীতি লাঘবের জন্য। দাতাগোষ্ঠীদের চাপে ওই সময়ে (২০০৪ সালে) কমিশন গঠিত হয়। কিন্তু কমিশন গঠন করা হলেও তাকে নির্জিব করে রাখা হয়। দৃশ্যমান কোনো কর্মকাণ্ডই সে সময় পরিলক্ষিত হয়নি।’

 

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতি অঙ্গনে পরিবর্তন আসে। ওই সময় বিরাজনীতিকরণে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ব্যবহার করা হয়। এক এগারের সময় এতোই আইনগত ত্রুটি ছিল যে সেগুলোর বোঝা এখনও আমাদের টানতে হচ্ছে। আমরা ওই জঞ্জালগুলো দূর করে প্রভাবমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরাদের কাছে যে কোনো পরিচয় মুখ্য নয়। আমাদের কাছে অপরাধই মুখ্য।’

 

বিগত সরকারের আমলে এমএলএম কোম্পানি যুবক দ্বারা হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হলেও তৎকালীন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি উল্লেখ করে দুদক কমিশনার বলেন, ‘যুবক দ্বারা হাজার হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হলেও একটি মামলাও করা হয়নি। এ ছাড়া ওই সময় ওরিয়েন্টাল ব্যাংক লুট হলেও মামলা হয়নি। আমরা এ সব বিষয়ে অনুসন্ধান ও মামলা করেছি।’

 

বিশেষ অতিথি দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা যে নেই তা বলা যাবে না। তবে আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছি। এ বছরই আমরা ভারতের সিভিআইসহ ১৪২টি দেশের অংশগ্রহণে একটি সভা করেছি। সেখানে পাচারকৃত অর্থ কীভাবে উদ্ধার করা যায় ও অর্থ পাচার কীভাবে বন্ধ করা যায় তা আলোচনা হয়েছে। অর্থ পাচার বিষয়ে তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে আমরা আশ্বাস পেয়েছি।’

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে কমিশনের কর্মকর্তাদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। অনুষ্ঠানে দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল, মহাপরিচালক ড. মো. শামসুল আরেফিন, ফরিদ আহমেদ ভূইয়া, জিয়া উদ্দিন আহমেদ, মো. মইনুল ইসলাম, পরিচালক নিরু শামসুন নাহার, মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্যসহ কমিশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

২১ নভেম্বর দুদকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হলেও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় রোববার এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দুদক।

You Might Also Like