নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: আটক আরও ৩০০

পৌর নির্বাচনে নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের প্রায় অর্ধেকই বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী।

সাতক্ষীরায় বিএনপি-জামায়াতের ২১ কর্মীসহ গ্রেফতার ৪৬

সাতক্ষীরায় নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ২১ কর্মীসহ ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত জেলার আটটি থানা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই এনামুল হক জানান, যৌথ অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির তিনজন ও জামায়াত-শিবিরের ১৮ কর্মীসহ বিভিন্ন মামলার ২৫ আসামি।

খুলনায় যুবদল-জামায়াত নেতাকর্মীসহ আটক ৫৩

খুলনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে যুবদল ও জামায়াতের নেতাকর্মীসহ ৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার রাতভর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকদের মধ্যে সোনাডাঙ্গা থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী জাকির, ২১ নং ওয়ার্ডের যুবদলের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল ফারাজী, দৌলতপুর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আকবর ও দিঘলিয়া থানা জামায়াতের আমীর সাইফুল মোল্লা উল্লেখযোগ্য। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

চট্টগ্রামে রাতভর অভিযানে গ্রেফতার ১১২

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে নাশকতা ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ ১১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও সন্দ্বীপে শনিবার রাতভর এ অভিযান চালানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ নাঈমুল হাছান জানান, গ্রেফতার হওয়া ১১২ জনের মধ্যে নিয়মিত মামলার ‍আসামি ২৬ জন, পরোয়ানামূলে ৮৬ জন আছে। এছাড়া পটিয়া থেকে ২৩৪ লিটার চোলাই মদ এবং সীতাকুণ্ড থেকে ৪৯পিস ইয়াবা ও সাত’শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

নীলফামারীতে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীসহ গ্রেফতার ৫৩

নীলফামারীতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীসহ ৫৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে নীলফামারীর ডিমলায় থানায় ১৪জন, ডোমার থানায় ৮জন, জলঢাকা থানায় ৯জন, কিশোরগঞ্জে ৭জন, সৈয়দপুর থানায় ৭জন ও নীলফামারী সদর থানায় ৮জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক সক্রিয় সদস্য ৩৮ জন ও আদালতের বিভিন্ন মামলায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের আত্মিয়-স্বজনদের আদালত পাড়া ও থানায় ভীড় করতে দেখা যায়। গ্রেফতারকৃতদের রোববার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বান্দরবান জেলা জামায়াতের আমির আটক

বান্দরবানে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে জেলা জামায়াতের আমির আব্দুস সালাম আজাদকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে শহরের চেয়ারম্যান পাড়ার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, মূলত নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী জেলা শাখার আমির আব্দুস সালাম আজাদকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহে জামায়াতের ৬ নেতাকর্মী আটক

ঝিনাইদহে নাশকতার আশঙ্কায় তিন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৬ জামায়াতের কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এর মধ্যে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় ৪ জন, হরিণাকুণ্ডুতে একজন ও কোটচাঁদপুরে একজন।

মেহেরপুরে ৬ জামায়াত কর্মী-সমর্থক আটক

নাশকতা বিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে মেহেরপুরের তিন উপজেলায় জামায়াতে ৬ কর্মী-সমর্থককে আটক করেছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। এদের মধ্যে সদর থানা পুলিশ ৪ জন, গাংনী ও মুজিবনগর থানায় একজন করে আটক হন।

শনিবার দিবাগত রাতের বিভিন্ন সময়ে সদর থানার ওসি আহসান হাবীব, গাংনী থানার ওসি আকরাম হোসেন ও মুজিবনগর থানার ওসি কামাল হোসেনসহ পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে জামায়াতের এসব কর্মী সমর্থককে আটক করে। তবে তাদের নামপরিচয় জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

নাশকতা মামলায় এসব আটক জামায়াত কর্মী সমর্থকদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানানো হয়।

বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন, তৃণমুলে বিএনপির সম্মেলন যাতে সফলভাবে সম্পন্ন না হয় এবং এর মধ্য দিয়ে বিএনপি যেন ঘুরে দাঁড়াতে না পারে এজন্য সরকার গণহারে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরপাকড় করছে।

অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকার পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী পক্ষকে দুর্বল করতেই পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতারের পথ বেছে নিয়েছে।

You Might Also Like