মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্র

Emazuddinমুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রের বড় দুর্দিন। মরুভূমির কর্কশ বালুকণায় গণতন্ত্রের প্রবাহ নিষ্প্রাণ, স্তব্ধ যেন। কারণ কী? ইসলাম কি গণতন্ত্রের প্রতিদ্বন্দ্বী? গণতন্ত্রবিরোধী? পাশ্চাত্যের কোনো কোনো পর্যালোচক বলেন, এ জন্য ইসলামই দায়ী। ১৯৭৯ সালে লিখিত প্রবন্ধে স্টিফেন হামফ্রেজ বলেছিলেন, খ্রিষ্টধর্মে যেমন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমাজের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান, ইসলামে তেমন পার্থক্য নেই। ঠিক ১০ বছর পরে, ১৯৮৯ সালে আর্নেস্ট গেলনার বলেছেন, খ্রিষ্টধর্মে যেমন ঈশ্বর ও রাজার (God and Caesar) অধিকারে যুগ্ম সাম্যাবস্থা বিদ্যমান, ইসলামে তা নেই। খ্রিষ্টীয় তত্ত্বে সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, ‘রাজার যা প্রাপ্য তা রাজাকে দাও আর ঈশ্বরের প্রাপ্য ঈশ্বরকে দাও’ (Render unto Caesar things that are Caesar’s and to God that belong to Him.)। ইসলামে কিন্তু মুসলমানদের কাছ থেকে দাবি করা হয়েছে অনেক বেশি। ইসলামে বিশ্বাস করা হয়, শাসক হবেন একজন বিশ্বাসী, ধর্মপ্রাণ। খেলাফতে বিশ্বাস করা হয়, একজন উত্তম নাগরিক সর্বপ্রথম হবেন একজন সৎ ব্যক্তি, একজন বিশ্বাসী, একজন নীতিনিষ্ঠ মুলসমান। ইসলামি রাষ্ট্রে ‘শরিয়াহ’ হবে মৌল বিধিবিধান। শরিয়াহ এবং কুরআন-বিশেষজ্ঞ হবেন নীতিনির্ধারক। সরকারি নীতিনির্ধারণে উলেমার ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের বৈধতা এবং সরকারি নীতির গ্রহণযোগ্যতার মূল নিহিত রয়েছে ধর্মীয় অনুশাসনে, ধর্মতত্ত্বে, সঠিকভাবে ধর্মের অনুশাসন ব্যাখ্যার দক্ষতায়। এসব থেকে পাশ্চাত্যের পণ্ডিতেরা অনুমান করেছেন, ইসলামি ভাবধারা গণতন্ত্রের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করেনি এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপূর্ণ অবয়ব গঠনে ইসলাম হয়ে ওঠেনি সহযোগী। এসব অভিযোগ কতটা সঠিক? কতটা বাস্তব?

এসব অভিযোগ বিশ্লেষণ করার আগে মুসলিম বিশ্বের দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক। বিশ্বের ৫৭টি রাষ্ট্রে মুসলমানেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই ৫৭টি রাষ্ট্রের কোনোটিতে গণতন্ত্রের শেকড় সমাজের গভীরে প্রোথিত হয়নি। কোনোটিতেই সমাজজীবনকে অন্তরঙ্গভাবে গণতন্ত্র স্পর্শ করেনি। কোথাও গণতন্ত্র সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের প্রধান নিয়ামক হয়ে ওঠেনি। বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর রয়েছে আঞ্চলিক বৈচিত্র্য। রয়েছে জলবায়ু ও আবহাওয়া সংক্রান্ত ভিন্নমুখিতা। কুলগত বৈচিত্র্য। সম্পদের দিক থেকে কোনো কোনোটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়। কোনোটি আবার দরিদ্রতম। সংস্কৃতি, জীবনবোধেও রয়েছে প্রচুর পার্থক্য। মিল কিন্তু এক জায়গায়। গণতন্ত্রের উৎসবে কোনো মুসলিম রাষ্ট্র এখনো তেমন উজ্জ্বল হয়ে ওঠেনি। বলিষ্ঠ গণতান্ত্রিক জীবনবোধে কোনোটি এখন পর্যন্ত সিক্ত হয়নি।

দীর্ঘ দিন ধরে একমাত্র তুরস্কই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কাছাকাছি এসেছে। এ সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন, তুরস্কের পক্ষে তা সম্ভব হয়েছে শুধু কামাল আতাতুর্কের জন্য। তিনি সমাজ ও রাজনীতির ক্ষেত্রে ইসলামি তত্ত্ব পরিত্যাগ করে তুরস্ককে ইহজাগতিক, ধর্মনিরপেক্ষ একটি জাতিরাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে তুরস্কের অভিজ্ঞতা তা সত্ত্বেও হয়ে ওঠেনি সুখকর। অন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর অভিজ্ঞতাও তেমনি তিক্ত। পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে অন্তত তিনবার। বাংলাদেশে এরই মধ্যে দু-দুবার উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। এখনো কিন্তু বলা যাচ্ছে না এসব দেশে গণতন্ত্র সুনিশ্চিত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তুরস্কে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হয়েছে মাঝে মাঝে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। পাকিস্তানে কিন্তু স্বৈরশাসনে মাঝে মধ্যে ছেদ পড়েছে গণতন্ত্রের আগমনে, খানিকটা অপ্রত্যাশিতভাবে। ২০ বছরের স্বাধীন বাংলাদেশ স্বৈরশাসনের সাথে ঘর করেছে ১৩ বছর।

আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একমাত্র লেবাননেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। খ্রিষ্টান ও মুসলমান জনসমষ্টি সহাবস্থানের লক্ষ্যে নিজেদের মতো করে রচনা করেছে একধরনের ন্যায়ভিত্তিক গণতন্ত্র (Consociation Democracy)। তা-ও কিন্তু টিকল না। খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মধ্যে দীর্ঘকালীন গৃহযুদ্ধের কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে শ্যামল প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের চারাগাছটি। ফ্রিডম হাউজের বার্ষিক প্রতিবেদনে ১৯৯০ সালে ঘোষণা করা হয়, ৫৭টি মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র দু’টি কিছু দিনের জন্য মুক্ত ও গণতান্ত্রিক থেকেছে। গ্যামবিয়া দুই বছরের জন্য এবং উত্তর সাইপ্রাস চার বছরের জন্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একমাত্র মালয়েশিয়া গণতন্ত্রের অবয়ব ঠিক রেখেছে, কিন্তু গণতন্ত্রের মর্মবাণী জনগণের রাজনৈতিক জীবনে এখনো হয়নি স্পন্দিত। ইরান পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে ইসলামি গণতন্ত্রের নীতিকে কেন্দ্র করে, কিন্তু ইতিহাসের মহা পরীক্ষায় এখনো উত্তীর্ণ হয়নি। সম্প্রতি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা পাঁচটি প্রজাতন্ত্র গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় যোগ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় এশিয়ার পাঁচটি রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের হাওয়া কতটুকু বেগবতী হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তাই হাজারো মনে অসংখ্য প্রশ্ন : কেন এমনটি হচ্ছে? ইসলামে এমনকি আছে যা গণতন্ত্রের ভিত্তি দৃঢ় হতে দিচ্ছে না? কেন মুসলিম রাষ্ট্রগুলো গণতন্ত্রের প্রবাহে আবেগসিক্ত হয়ে উঠছে না?

এর উত্তর সহজ নয়, নয় সহজলভ্য। উত্তর দেয়ার লক্ষ্যেও এ নিবন্ধ রচিত হয়নি। এ সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তোলাই এর প্রধান লক্ষ্য। সত্যিই কি ইসলাম গণতন্ত্রবিরোধী? গণতন্ত্রের অবশ্য রকমফের রয়েছে। রয়েছে এর বিভিন্নতা। কিন্তু সব ধরনের গণতন্ত্রে কয়েকটি শর্ত অবশ্যই পালিত হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস যে জনগণ এবং জনগণের সম্মতিসাপেক্ষেই যে বৈধ সরকার পরিচালিত, তা গণতন্ত্রের সব ধারায় স্বীকৃত পূর্বশর্ত। প্রতিনিধিত্বমূলত সরকার, সরকারের দায়িত্বশীলতা, আইনের শাসন গণতন্ত্রের মৌল বক্তব্য। এদিক থেকে বিচার করলে ইসলামি দর্শনের যে ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে, তা কিন্তু অত্যন্ত উজ্জ্বল। আর্নেস্ট গেলনার নিজেই বলেছেন, ‘ইসলামের উন্নতমানের সংস্কৃতি অনেক দিক থেকেই বিশিষ্ট। একত্ববাদ, নৈতিকতাভিত্তিক শাসন-প্রশাসন, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, ধর্মগ্রন্থের প্রতি অগাধ বিশ্বাস, নীতিনিষ্ঠা, স্তরভেদ ও কারো মাধ্যমে চলার প্রতি অনীহা, অতিপ্রাকৃতের প্রতি ঔদাসীন্যÑ সবই আধুনিকতা বা আধুনিকীকরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিসম্পন্ন (High culture form of Islam is endowed with a number of features-unitarianism, a rule-ethic, individualism, scripturalism, puritanism, an egalitarian aversion to mediation and hierarchy, a fairly small load of magic… that are congruent, presumably, with requirements of modernity of modernization.)। কিন্তু বাস্তবে অবস্থাটা ভিন্ন কেন?

পাশ্চাত্যের গবেষকেরা একটা ক্ষেত্রে মস্তবড় ভুল করেছেন বলে আমার মনে হয়। তারা স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে ধরে নিয়েছেন, গণতন্ত্রের ক্ষেত্র রচনা করে ধর্ম। তার শর্ত নির্ধারণ করে দেয় ধর্ম। কোনো সমাজে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে কি হবে না, হলে গণতন্ত্র স্থিতিশীল হবে কি না, তার মুখ্য নির্ধারক আর্থ-সামাজিক পরিবেশ, আত্মশাসন এবং মননশীলতার বৃহত্তর ক্ষেত্রে অগ্রগতির মাত্রা; সবকিছুকে ছাপিয়ে সমাজজীবনে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ব্যাপক বিস্তৃতি।

মুসলিম সমাজে সংস্কৃতির রূপরেখা নির্ধারণে এবং সাংস্কৃতিক জীবনের মান উন্নয়নে ইসলাম নিশ্চয়ই গভীর প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু আর্থ-সামাজিক পরিবেশ বিনির্মাণে ধর্ম ছাড়াও রয়েছে অনেক উপাদান। অভ্যন্তরীণ সঙ্কট, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আধুনিক চিন্তাভাবনার প্রসার, এমনকি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণও এ ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। তাই শুধু ইসলামের দোহাই দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অগণতান্ত্রিক প্রবণতা ব্যাখ্যা করা যথার্থ নয়; বরং ইসলামের অনেক দিকই গণতন্ত্রকে পরিপুষ্ট করতে পারে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, নীতিনিষ্ঠতা, একত্ববাদে বিশ্বাস, সাম্য ও মৈত্রীর বিশ্বজোড়া আহ্বানের মতো ইসলামি মূল্যবোধ গণতন্ত্রের আদর্শকে আরো অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারে। তাই স্বৈরতন্ত্রের সাথে ইসলামের আদর্শকে এক করে ভাবা যথার্থ নয়।

পাশ্চাত্যের পণ্ডিতেরা আরো একটি ক্ষেত্রে বরাবর ভুল করে এসেছেন। তাদের ধারণা, মুসলমান মানেই মৌলবাদী। অতীতের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যাবে, সবচেয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানও মধ্যযুগের চার্চ গুরুদের চেয়ে অনেক কম মৌলবাদী। ইসলাম অনেকটা মুক্ত চেতনার ধর্ম। বিবেক জাগ্রত রেখে ধর্মাচরণে বিশ্বাস। সবাইকে সাথে নিয়ে অগ্রসর হওয়ার নৈতিকতা। কোনো সঙ্কীর্ণ গহ্বরে মুখ লুকিয়ে নিজেদের সবকিছুকে শ্রেষ্ঠতম ভাবার ধর্ম ইসলাম নয়। অতীতে চার্চের একাধিপত্যের যুগে মানবসন্তান যেভাবে ধর্মের নামে বলি হয়েছে, ইসলাম তা সমর্থন করে না।

মুসলিম বিশ্বে যা ঘটেছে, তার পর্যালোচনা করলে এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে ওঠেÑ এখানে গণতন্ত্র বিধ্বস্ত হয়েছে প্রধানত সেনানায়কের দ্বারা। এখানে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটেনি প্রধানত বংশানুক্রমিক রাজা-বাদশাহদের কারণে। ইসলাম এ জন্য কতটুকু দায়ী?

বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। জনসমষ্টির শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে ইসলাম শুধু ধর্ম নয়, ইসলাম একধরনের বলিষ্ঠ মূল্যবোধ, জীবনস্পর্শকারী একপ্রকার নৈতিকতা। অনেকের কাছে ইসলামি ঐতিহ্য, আদর্শ ও প্রতিষ্ঠান দৈনন্দিন জীবনের অংশ। অনেকের কাছে একমাত্র সামাজিক সত্তা ও সচেতনতার মূর্ত রূপও। কিন্তু তা সত্ত্বেও পূর্ববাংলার মুসলমানেরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে এতটুকু দ্বিধা করেনি। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সর্বাত্মক ত্যাগের বিনিময়ে তুলে এনেছে স্বাধীনতার লাল গোলাপ, এক রক্তসমুদ্র সাঁতরে।

স্বাধীন বাংলাদেশে মুসলমানেরা গণতন্ত্রকে রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেই শুরু করেছিল সগর্বে রাজনৈতিক অভিযাত্রা। বাংলাদেশের মুসলমানেরা গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে পারেনি। মাত্র ক’বছরের মধ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এক-পা দু’পা করে রূপান্তরিত হয় এক কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থায়। বলবেন কি, এ রূপান্তর ঘটেছে ইসলামের জন্য? কে বলবেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পরাজয় ঘটেছে ধর্মের জন্য। সত্যি বটে, কোনো কোনো বলদর্পী অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেদের আড়াল করেন ইসলামের পেছনে। কেউ বা নিজের অগ্রহণযোগ্য অবস্থানকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের মুসলিম জনতা ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণাকারীকেও ক্ষমা করেনি। ক্ষমতার দাবির মুখে তিনিও হারিয়ে গেছেন। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী ইসলামের দোহাই দিয়ে রক্ষা পাননি। তাই বলছি, ইসলামকে স্বৈরশাসনের সহযোগী রূপে চিহ্নিত করা সঠিক নয়।

গণতন্ত্র সুষম আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় কার্যকর হতে পারে। মননশীলতার উচ্চতর পর্যায়ে, সজ্ঞান উদ্যোগে গণতন্ত্র বিকশিত হয়। উন্নত রাজনৈতিক কৃষ্টি এবং উন্নততর রাজনৈতিক নেতৃত্বে আশীর্বাদ লাভ করে গণতন্ত্র স্থিতিশীল হয়। এসব ক্ষেত্রে ইসলাম প্রতিবন্ধক নয়, নয় কোনো বাধা। বরং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ইসলামই উৎসাহ জোগায়। সত্যি বটে, মুসলিমবিশ্ব এখন পর্যন্ত তেমন সৃজনশীল নেতৃত্বের স্পর্শে আন্দোলিত হয়নি, হয়নি উন্নত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুকরণে স্পন্দিত। মুসলিম বিশ্বের আর্থ-সামাজিক অবস্থাও এমন নয়, যেখানে সুশাসন এবং স্বশাসন দুই-ই সার্থক হয়ে উঠতে পারে। তাই মুসলিমবিশ্ব গণতন্ত্রের সংগ্রামে এত পেছনে, যেমন রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার ক্যাথলিক বিশ্ব বা আফ্রিকার প্রোটেস্টান্ট-ক্যাথলিক বিশ্বের একাংশ।

You Might Also Like