প্রতিবাদী নারী লেখককে ধর্ষণের হুমকি

ভারতজুড়ে বেড়ে চলা সাম্প্রতিক ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে উদ্বেগ-বিক্ষোভ আর প্রতিবাদের মধ্যেই এবার হুমকির মুখে পড়লেন সেদেশের একজন নারী চলচ্চিত্রকার ও লেখক।

গরু বেচাকেনা নিয়ে সরব হওয়া এবং হিন্দু সংস্কারকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপসহ বিভিন্ন হুমকি দেয়া হয়েছে তাকে। এনিয়ে ওই লেখক অভিযোগ করলে পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, গত একবছর ধরে তিনি হুমকি পেয়ে আসছেন ওই লেখক-চলচ্চিত্রকার চেতনা তীর্থ থলি। হিন্দু সংস্কারের সমালোচনা করে মুসলিম-প্রকাশনাসহ বিভিন্ন ম্যাগাজিনে তিনি নিবন্ধ লেখার পর থেকেই হুমকি পেয়ে আসছেন বলে জানান চেতনা। গরু কেনা-বেচার সমর্থনে ব্যাঙ্গালুরুতে বিপুল পরিমাণ লেখক ও নারীবাদীর সাম্প্রতিক মিছিলটিতেও ছিলেন তিনি। পুলিশকে চেতনা জানিয়েছেন, গেল কয়েকমাস ধরে ফেসবুকে অব্যাহতভাবে হুমকি পেয়ে আসছেন তিনি। সব বিবেচনা করে শনিবার হনুমন্থ নগর পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে তিনি জানান, ৫/৬ মাস হলো তিনি বিভিন্ন হুমকি সমেত মেসেজ পেয়ে আসছেন। প্রথমদিককার সব বার্তাই আসতো ভুয়া প্রোফাইল থেকে। এগুলো ছিল আমার ফেসবুক পোস্ট নিয়ে। আমি সেগুলো পাত্তা দিতাম না। কিছুদিন পর মধুসূদন আমাকে অব্যাহতভাবে বার্তা পাঠাতে থাকে, বিশেষত সাম্প্রতিক প্রতিবাদী মিছিলের পর থেকে। তার বার্তাগুলো সাম্প্রদায়িক, নারীবিদ্বেষী এবং অশ্লীল। সংবাদমাধ্যমকে বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কালুবুর্গির হত্যাকা- এবং সে ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি না হওয়াতে তিনি আর নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না। আমি হয়তো কালুবুর্গির মতোন বড় মানুষ নই। তারপরও আমি ভীত। ঠিক তখনই আমি পুলিশে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিই যখন আমি দেখি ধারাবাহিকভাবে কিছু মানুষ আমার সব গতিবিধি এবং পোস্ট ফলো করছে এবং প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এর আগে গরুর মাংস খাওয়া এবং সংরক্ষণ করার গুজবকে কেন্দ্র করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশে মোহাম্মদ আখলাক নামে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আর পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুরশিদ মাহমুদ কাসুরির বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে শিবসেনার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন আয়োজক সুধেন্দ্র কুলকার্নি। কট্টর এ হিন্দুত্ববাদী দলটির কর্মীরা প্রকাশে সুধেন্দ্রর মুখে কালি ঢেলে দেয়।

You Might Also Like