দিল্লিতে কাশ্মিরি বিধায়কের মুখে কালি দিল ‘হিন্দু সেনা’, নিন্দার ঝড়

জম্মু-কাশ্মিরের নির্দলীয় বিধায়ক ইঞ্জিনিয়ার রশিদের মুখে কালি লেপে দেয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে ‘হিন্দু সেনা’র অভিযুক্ত দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীপক শর্মা (৩০) এবং দেবেন্দ্র উপাধ্যায় (৩৩) নামে ধৃত ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১ এবং ৩৫৫ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার দিল্লিতে ইঞ্জিনিয়ার রশিদ যখন প্রেস ক্লাব ইফ ইন্ডিয়ায় সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন, তখন তার মুখে ৩ উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্মী কালি মাখিয়ে দেয়।
এ ঘটনার পরে আক্রান্ত বিধায়ক ইঞ্জিনিয়ার রশিদ বলেছেন, ‘লোকে পাকিস্তানে তালেবানিকরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে থাকে। কিন্তু দেখুন ভারতে এসব কি হচ্ছে। যারা এ সব করছে তারা মানসিকভাবে অসুস্থ।’
বিধায়ক রশিদ বলেন, ‘কাশ্মিরে ৮০ হাজার মানুষ মারা গেছে। এক ইঞ্জিনিয়ার রশিদের মুখে কালি মাখিয়ে দিয়ে কিছু পরিবর্তন হবে না। আমি চাই সারা দুনিয়া দেখুক এসব লোক কিভাবে কাশ্মিরিদের কণ্ঠস্বর বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে।’
বিধায়ক রশিদ জম্মু-কাশ্মিরে উধমপুরে পেট্রোল বোমা হামলায় নিহত ট্রাক চালক জাহিদের হত্যা প্রসঙ্গে তাদের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন। তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে বেরোনোর মুখেই তাকে ঘিরে ধরে ‘হিন্দু সেনা’র কর্মীরা ‘গো-মাতা কা অপমান, নেহি সহেগা হিন্দুস্তান’ স্লোগান দিয়ে তার মুখে কালি মাখিয়ে দেয়ার পাশাপাশি পোড়া মোবিলের কালো তেল ছুঁড়ে দেয়। পরে রশিদকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় বাইরে বের করে আনা হলে তিনি কাশ্মির ভবনের বাইরে ধর্নায় বসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যেতে দেয়ার দাবি জানান।

সম্প্রতি গরু হত্যার গুজবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে উধমপুরে একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের পেট্রোল বোমা হামলায় কাশ্মিরের অনন্তনাগের বাসিন্দা ট্রাক চালক জাহিদ নিহত হয়।
কিছুদিন আগে জম্মু-কাশ্মিরে বিধায়ক হোস্টেলে ‘বিফ পার্টি’র আয়োজন করার অভিযোগে তার উপর বিধানসভার মধ্যেই হামলা চালিয়েছিল বিজেপি বিধায়করা। এবার দিল্লিতে এসে হিন্দুত্ববাদীদের হামলার মুখে পড়লেন তিনি। গত ১৫ দিনের মধ্যে এটি রশিদের উপর হিন্দুত্ববাদীদের দ্বিতীয় হামলা।

মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিধায়ক রশিদ বলেন, ‘আমি নিজে বিফ, মটন বা চিকেন কিছুই খাই না। কিন্তু আমি কর্মকর্তাদের এটা বোঝানোর জন্য প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম যে কোনো ধর্মীয় বিষয়ে যেন হস্তক্ষেপ না করা হয়।’ উধমপুরের ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন বিধায়ক রশিদ।

রশিদ বলেন, ‘যদি দাদরির ঘটনায় উত্তর প্রদেশ সরকারকে দায়ী করা হয়, তাহলে বিজেপিও উধমপুরের ঘটনার জন্য পিডিপির সঙ্গে সমানভাবে দায়ী।’
রশিদ বলেন, ‘বিশ্বকে আজ জানা উচিত এটা মোদির ভারত, মহাত্মা গান্ধীর ভারত নয়।’
জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘সংবিধান সকলকেই মত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে। রশিদ তার মতামত জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর যা হচ্ছে, তাতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। শুধু ভারতেই নয়, বিদেশেও হচ্ছে।’

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিডিপি নেতা এবং বিজেপি’র শরিক মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ বলেছেন, ‘ভারতের মতো গণতন্ত্রে বিরোধী মতকে মর্যাদা দিতে হবে। যেভাবে একের পর এক অপ্রিয় ঘটনা ঘটছে তা খুবই চিন্তার বিষয়।’

সিপিএম বিধায়ক ইউসুফ তারিগামি বলেছেন, ‘মানুষের বাক স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে।’

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার রশিদের উপরে আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কড়া ভাষায় এর নিন্দা জানাচ্ছি। অসহিষ্ণুতা এবং সহিংসতার পরিবেশ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা।’ এ ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য এবং উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

You Might Also Like