আলেমদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে….

আমি মাদ্রাসায় পড়ুয়া এবং এখনো পড়ছি । প্রাইমারী এবং স্নাতকজীবন বাদ দিলে আমার গোটা শিক্ষাজীবনটাই মাদ্রাসা কেন্দ্রিক । শুধু মাদ্রাসা পড়ুয়া হিসেবে নয় বরং একজন অতি সাধারণ মুসলিম হিসেবে আলেমদের প্রতি ভালোলাগা-ভালোবাসা চিরদিনের । শুধু মাদ্রাসায় পড়ার কারণেই আলেমদেরকে ভালোবাসি না বরং আল্লাহ ও তার রাসূল আলেমদেরকে ভালোবাসতে বলেছেন বলেই আলেমদেরকে ভালোবাসি । আলেমের সংজ্ঞা নিয়ে বেশ মতানৈক্য থাকলেও আমরা সাধারণত আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ফাযিল/কামিল পাশ কওমী মাদ্রাসা থেকে দাওরাসমমানের কিংবা ধর্মীয় লাইনের গভীর জ্ঞানীদেরকেই আলেম হিসেবে জানি । প্রচলতি সংজ্ঞায় একজনের আলেমের পরিচয় হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পাঞ্জাবী-টুপি পরিহিত ও দাড়িওয়ালাদেরকে আলেম হিসেবে পরিগণিত করা হয় । ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে আলেমরা অন্য সকল মানুষের কাছে বিশেষ করে মুসলিমদের কাছ থেকে অনেক বেশি সম্মানিত হয় । তবে বর্তমান কতিপয় আলেমদের কর্মকান্ডে মানুষ যদি গোটা আলেমদের দোষারোপ করে বসে তবে সাধারণ মানুষের সে কাজকে কি ফতোয়া দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে ?

তুরুস্কের শাসক রেজা শাহ পাহলভীর শাসনামলে আলেমরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে । তৎকালীন সময়ে বেশ্যার সাথে আলেমদের তুলনা করা হত । গণপরিবহনে আলেমদেরকে নেয়া হত না । এ ঘটনা শুনে আমরা আস্তাগফেরুল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ বলে অস্থির হয়ে যাই । কিন্তু দেশের কতিপয় আলেম নামের কলঙ্কের কারণে দেশের গোটা আলেম সমাজের ভাগ্য যে সে দিকেই ধাবিত হচ্ছে সেটার খোঁজ-খবর কি আমরা রাখি ? কোন শাসককের উদ্যোগী হয়ে আলেমদের কতিপয়কে নিকৃষ্ট মানসিকতার প্রমাণ করতে হবে না বরং আলেমরা আলেমদের দোষ বর্ণনা করে, মারামারি করে সে দিকেই ধাবিত হচ্ছে । কতিপয় নামধারী আলেমের কারণে গোটা আলেম সমাজের ওপর মানুষের আস্থা-ভক্তি উঠে যাচ্ছে সেটা জনে জনে কে জানান দিবে ? এ লেখার কারণে হয়ত বুজুর্গ(!) কিছু ব্যক্তিবর্গ দাবী করে বসবেন যে আমার ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে ! এও বলে বসতে পারেন আমি ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছি কিংবা ফাসেকী আক্কীদা আমার ওপর ভর করেছে ! আমার চিন্তা করে লাভ নাই কেননা আমি নিজেকে প্রচলিত সংজ্ঞার আলেমও দাবী করিনা আবার আলেমের বিরুদ্ধাচরণও করি না । আমি চাই, এই সমাজে আলেমদের মর্যাদা-সম্মান সবার ওপরে থাকুক । আর আলেমরা সম্মানিত অবস্থানে থাকলে আলেমদেরই সবচেয়ে বেশি উপকার হবে ।

নদীর মাঝখান দিয়ে ভেসে যাওয়া কোন মড়ককে লক্ষ্য করে কুকুরের দল যেমন নদীর পাড়ে পাড়ে খেউ খেউ করতে করতে দৌড়ায় অথচ মড়কের নাগাল পায়না তেমন অবস্থা হয়েছে এদেশের কতিপয় নামধারী আলেমের । তা না হলে আলেম দাবীদাররা দুনীয়াবী স্বার্থ অর্জনের জন্য প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে একপক্ষ আরেকপক্ষের ওপর হামলা করতে পারে ? আচ্ছা ! দাড়ি-টুপি ওয়ালা জুব্বা পরিহিতরা রাজপথে নিজেদের মধ্যে মারামারি করলে সেটা দেখতে কেমন দেখায় ? তখন সাধারণ মানুষ আলেমদের সম্মন্ধ্যে কেমন ধারণা পোষণ করে ? যাইহোক, আজও মানুষ আলেমদের ভক্তি-শ্রদ্ধা করে । মানুষের সে ভক্তির স্থান নষ্ট করা কোন আলেমের জন্য উচিত নয় কিন্তু আলেমদের একাংশ যেন এটা প্রতিযোগীতার মাধ্যমেই ধ্বংস করার সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করছে । আলেমদের বিরুদ্ধে কিছু লিখতে হাত কেঁপে ওঠে । কেউ আলেমদের মন্দ বললে বুঁকের হাড় ভেঙ্গে যেতে চায় । অথচ আলেমরা যখন বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যায় তখন লজ্জায় আর কিছু বলতে ইচ্ছা করে না । সাবধান হন ! চরমভাবে অপমানিত হতে রেজাশাহ পাহলভীর মত কাউকে লাগবে না । যেভাবে এগুচ্ছেন তাতে দেশের মানুষই ঘৃণার সবটুকু দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে । নিশ্চিত করে জানি, আলেমদের মধ্যে সিংহভাগ উত্তম চরিত্রের অধিকারী । কিন্তু কোন আলেমের যখন দোষ বের হয় সেটার ঝাপটা সব আলেমের ওপরেই সমভাবে লাগে । আকাম-কুকাম করবেন সেটা তো কেউ নিষেধ করেনি; শুধু দয়া করে আলেমের লেবাস-সুরৎ ত্যাগ করে করুণ ।

রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।

You Might Also Like