পিয়াস করিমের লাশ ও নিষিদ্ধ শহীদ মিনার

এক. গতকাল ১৩ অক্টোবর ছিল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক সমাজবিজ্ঞানী ও টিভি টকশোর সাহসী মুখ অধ্যাপক ড. পিয়াস করিমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের এই দিনে খুব ভোরে ফজরের পর ফোন পেলাম পিয়াস ভাই আর নেই। ছুটে গেলাম স্কয়ার হাসপাতালে। সোজা সিঁড়ি বেয়ে বেইজমেন্টের হিমঘরে। কর্তব্যরত চিকিৎসক যাকে দেখালেন তিনি ততণে লাশে রূপান্তরিত হয়ে গেছেন। হাসপাতাল থেকে পিয়াস ভাইয়ের ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাক্সভর্তি জিনিসপত্র দেখতে পেলাম। শোকে মূর্ছাপ্রায় ড. আমেনা মহসিন জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার ছেড়ে এ মাসেই তারা উঠেছেন এই নতুন ফ্যাটে। তবে জিনিসপত্র এখনো তেমনটা গোছাতে পারেননি। গত পরশু পিয়াস ভাই আমেরিকা থেকে ফিরেছেন। হঠাৎ করেই গত রাতে বুকে বেশি ব্যাথা উঠলে হাসপাতালে যেতে যেতেই মারা গেলেন। ভাবীকে কী ভাষায় সান্ত্ব—না দেবো, তা জানা ছিল না। ততণে বাসাভর্তি টিভি ক্যামেরা ও সাংবাদিক ভাইদের সাথে পিয়াস ভাইয়ের সুহৃদ ও বন্ধুজনের ভিড়ে মরহুমের দাফন ও সৎকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছিল। এর মধ্যে আসিফ নজরুল ভাই জানালেন, কয়েকটা টিভি চ্যানেলে মৃত পিয়াস করিমকে নিয়ে আপত্তিকর প্রতিবেদন দেখানো শুরু করে দিয়েছে।

দুই. উপস্থিত ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বললেন, পিয়াস ভাইয়ের ছাত্রছাত্রী ও শুভানুধ্যায়ীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কিছুটা উন্মুক্ত জায়গায় লাশ রাখার ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হয়। উপস্থিত প্রায় সবাই তখন এতে মত দিলে পিয়াস করিমের ভাইবোন ও সহধর্মিণীর ইচ্ছামতে ঠিক হলো, জানাজার আগে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য লাশ শহীদ মিনারে কিছুণের জন্য রাখা হবে। টিভি স্ক্রলে এই সংবাদ প্রচার হওয়া মাত্রই দ্রুতগতিতে ভুঁইফোড় কিছু নাম না-জানা সংগঠনের নাম উল্লেখ করে সংবাদ পরিবেশন করে বলা হয়Ñ মরহুম পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে রাখতে দেয়া যাবে না। পিয়াস ভাই জীবিত থাকতে কেউ কখনো শোনেনি যে তিনি রাজাকার ছিলেন। অথচ মরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকেসহ তার মৃত পিতা-দাদা-নানাকে রাজাকার বানিয়ে দেয়া হলো! দু:খ তো লাগছিলই, তবে কষ্টটাও আরো বেড়ে গেল। ভাবলাম নোংরা রাজনীতি একটা লাশকে পর্যন্ত ছাড়ল না! পৃথিবীর সবকিছুর ঊর্ধ্বে যে মানুষটি আজকে হাসপাতালে লাশের হিমঘরে নিথর শুয়ে আছেন তার আবার দল কিসের? বাসা থেকে বের হওয়ার পথে টিভি সাংবাদিকেরা আরো অনেকের সাথে আমারও অনুভূতি জানতে চাইলেন। কিছুটা বিব্রতই লাগছিল। অনুভূতি প্রকাশের এর চেয়ে কঠিন সময় বোধহয় আর কোনোটাই থাকতে পারে না। তবুও সাংবাদিক ভাইয়েরা লাশ শহীদ মিনারে রাখতে দেয়া যাবে না বলে যে দাবি উঠেছে, সে ব্যাপারে কিছু শুনতে আগ্রহী। একটু দুঃখ করেই বললাম, জীবিত পিয়াস করিমের চেয়ে মৃত পিয়াস করিমও দেখি আজকে তাদের কাছে আরো বেশি শক্তিশালী। তার প্রাণহীন লাশ এখনো সেই অপশক্তির বিরুদ্ধেই লড়াই করে চলেছে।

তিন. সিদ্ধান্ত হলো তিন দিন পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমে নামাজে জানাজা এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধানিবেদনের জন্য লাশ রাখা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক ড. সি আর আবরার, ড. বোরহানউদ্দিন খান ও ড. মামুন আহমেদ জানালেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ মৌখিক অনুমতি দিয়ে বলেছে, লিখিতভাবে একটি চিঠি দেয়ার জন্য। সে মোতাবেক পরিবারের প থেকে চিঠি দিয়ে শহীদ মিনারে লাশ রাখার অনুমতি চাওয়া হলো। যদিও এর আগে কখনোই শহীদ মিনারে এ ধরনের অনুমতি নেয়ার কোনো নজির পাওয়া যায়নি। এত দিন যারা টিভি টকশোতে পিয়াস ভাইয়ের যুক্তিনির্ভর সত্যের বিরোধিতা করতে অহরহ মিথ্যা বলেও কূলকিনারার নাগাল পাননি, এবার তারা রাতের টকশোতে তাদের সদ্য পরলোকগত ‘প্রতিপকে’ রাজাকার বানিয়েই ছাড়লেন! অথচ তাদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে পিয়াস করিমকে একজন প্রগতিশীল বাম রাজনীতির মানুষ হিসেবেই জানতেন।

চার. সকালবেলা পিয়াস ভাইয়ের নামাজে জানাজা ও দাফনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পথে আমার পুরনো এক সহপাঠীর ফোনকল পেলাম। প্রায় বিশ বছর পর তার কণ্ঠ শুনে মনটা ভালো হয়ে গেল। দীর্ঘ দিন তার সাথে কোনো কথাবার্তা হয় না। আমার এই বন্ধুটি এখন দেশের শীর্ষপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা। তাকে অবশ্য পাওয়াও কঠিন। হাসতে হাসতে বন্ধুটি আমাকে তাড়াতাড়ি টিভি দেখতে বলল। আমি বললাম রাস্তায় আছি, কোনো খবর আছে কি না? তার মাধ্যমে জানলাম, চিহ্নিত কয়েকটি টিভিতে শহীদ মিনার থেকে সরাসরি লাইভ নিউজে আমিসহ দেশের নয়জন ব্যক্তির ফাঁসির দাবি প্রচার করা হচ্ছে। পুলিশ বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, আমরা আবার কাকে খুন করলাম? প্রত্তুতরে বন্ধুটি জানাল, মরহুম পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে রাখার কথা বলে আমরা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছি, যার একমাত্র সাজা মৃত্যুদণ্ড। বন্ধুত্বের সুবাদে আমাদের সবাইকে পালিয়ে যাওয়ার সদুপদেশও দিলো সে। আমাকেসহ আরো যাদেরকে শহীদ মিনারে ’অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসেবে ফাঁসি চাওয়া হচ্ছে, তাদের নাম-পরিচয় গটগট করে এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলল।

পাঁচ. লিস্টের সবাই আমরা টিভি টকশোর আলোচক। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় ‘মধ্যরাতের সিঁধেল চোর’। এদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে উঠে আসা সাংবাদিকতা জগতের কিংবদন্তির প্রাণপুরুষ মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, যিনি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে অলৌকিকভাবে রা পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা-উত্তর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা, জেলখাটা নিভীক এই সাংবাদিক সত্য কথা বলার অপরাধে কেমন করে স্বাধীনতাবিরোধী হয়ে গেল? দেশের মানুষের প্রিয়মুখ সবার মতি ভাই মূলত টকশোতে আলোচনার চেয়ে উপস্থাপনাই করেন বেশি। তাও আবার চুপ করেই থাকেন বেশি সময়ে। নিরপেভাবে সঞ্চালনার একটা সুনাম তার রয়েছে। তা ছাড়া সত্য প্রকাশে দ্বিধাহীন এই মানুষটি দলবাজি ও চাটুকারী রাজনীতির বিরুদ্ধে তার অনুষ্ঠানে একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় মধ্যপন্থী ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত। তালিকায় আরেকজন যিনি রয়েছেন তিনি সরকারের সব অন্যায়-অত্যাচারকে অসাধারণ যুক্তি, সততা ও নিরপেতার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরেন, তিনি সাংবাদিক জগতের উজ্জ্বল নত্র নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর। প্রবীণ সাংবাদিক সর্বজনশ্রদ্ধেয় মাহফুজ উল্লাহর মেধাবী সৎ উচ্চারণে কুপোকাত চাটুকাররা তাকেও কী করে স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যা দেয়ার সাহস দেখায়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলÑ যিনি জাহানারা ইমামের আন্দোলনের একজন নিউকিয়াস। জনতার আদালতে প্রতীকী ফাঁসি দেয়ার অন্যতম অভিযুক্ত এই শিক পর্যন্ত সরকারের সমালোচনার অপরাধে আজ স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায়! দেশের প্রথিতযশা চিন্তাশীল, গবেষক, বরেণ্য দার্শনিক ফরহাদ মজহার। প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক মুক্তচিন্তার অসাধারণ মেধাবী ও জ্ঞানের আধার ফরহাদ মজহারের মতো ণজন্মা মানুষটিকে পর্যন্ত সত্য প্রকাশের অপরাধে স্বাধীনতাবিরোধী বানিয়ে দেয়া হলো! টকশোর আরেক প্রিয়মুখ স্পষ্টভাষী মেধাবী সাংবাদিক গোলাম মোর্তুজা কখনো কাউকে ছেড়ে কোনো কথা বলেন না। সত্যকে সাহসের সাথে বলেন, মিথ্যাকে যুক্তি দিয়ে খণ্ডান। স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যা পাওয়ার মতো কী অন্যায় তিনি করেছেন, তা বোধগম্য নয়। অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরীর সত্য ও সাহসী বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা তাকে কী করে এক নিমেষে রাজাকার বানিয়ে দিলো! স্বামীর লাশ হিমঘরে রেখে শোকে মুহ্যমান সদ্যবিধবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিনকে পর্যন্ত রাজাকারের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হলো না! তথাকথিত ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’ ’বঙ্গবন্ধুর সৈনিক প্লাটুন’ ও ‘সিপি গ্যাং’ নামে সরকার রচিত ভুঁইফোড় সংগঠন দিয়ে জাতির সম্মানিত বরেণ্য মানুষগুলোকে এভাবে অশালীন ভাষায় হেয়প্রতিপন্ন করে সরকার কী অর্জন করতে চেয়েছে, জানি না। অথচ সবাই আমরা কমবেশি লেখালেখি, টকশো ও সভা সমাবেশে সরকারের কড়া সমালোচনা করি। ব্যস, এতটুকু অপরাধেই আমরা ‘স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার’ খ্যাত হয়ে ফাঁসিতুল্য অপরাধ করে ফেললাম!

ছয়. অথচ আর্শ্চযজনকভাবে সরকারের সাথে সুর মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ পর্যন্ত বলল, পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে রাখা যাবে না। বেলা ১১টায় শহীদ মিনারে লাশ নিয়ে যাওয়ার ণ নির্ধারিত ছিল। সকাল থেকেই হাজারো মানুষের ভিড়ে পিয়াস করিমের ধানমন্ডির বাসার সামনের সব পথ বন্ধ হয়ে গেল। রাস্তার ওপরই জানাজার নামাজে অংশ নিলো হাজারো মানুষ। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দ্বিতীয় জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি যেন একটি গণসমাবেশে রূপ নিলো। ধানমন্ডি থেকে শাহবাগ হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী মোতায়েন করে রাখা হলো লাশ শহীদ মিনারে না নিতে পারার জন্য। অথচ দেশের মানুষ শহীদ মিনারের বদলে জাতীয় মসজিদকেই বেছে নিলো।

সাত. ইকোনমিকস অ্যান্ড সোস্যাল সাইন্সের জনপ্রিয় শিক ড. পিয়াস করিম একজন পাবলিক ইনটেলেকচুয়াল হিসেবে জনগণের প্রত্যাশিত বলিষ্ঠ ভূমিকাই পালন করেছেন। তিনি যা বিশ্বাস করতেন, তা শাণিত যুক্তি ও প্রজ্ঞার সাথে তুলে ধরতেন। এ কারণেই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জনমানুষের অধিকারের পে কথা বলার প্রিয়মুখ হয়ে ওঠেন। চিন্তা ও চেতনার জগতে পিয়াস করিম ছিলেন আধুনিক প্রগতিশীল বন্ধুবৎসল সাদা মনের একজন মানুষ। অথচ দর্শনগত অবস্থানের কারণে মৃত্যুর সাথে সাথে তার পিতাসহ তাকে রাজাকার বলে প্রচারণা চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সত্যের পে দৃঢ় অবস্থান নিলে এই অহেতুক মিথ্যা প্রপাগান্ডার পরিসমাপ্তি ঘটে। আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘সদ্যপ্রয়াত ড. পিয়াস করিমকে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পে প্রচারপত্র বিলি করার সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী আটক করেছিল। তিনি রাজাকারের নাতি বা ছেলে নন, মুক্তিযুদ্ধের পে থাকায় তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পিয়াস করিমের ব্যাপারে অনেক কিছুই জানি। যেটা আমি বলছি তা আমি প্রমাণও করতে পারব। আমি দায়িত্ব নিয়েই বলছি। তার রাজাকার হওয়ার খবরটি গণজাগরণ মঞ্চ কিংবা অন্যরা প্রচার চালাচ্ছে এটা ঠিক না।’ আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘পিয়াস করিমের নানা কুমিল্লা জেলার আওয়ামী লীগের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পিয়াস করিমের বাবা আইনজীবী ছিলেন। তিনি কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্য ছিলেন। তাই ভাবতে অবাক লাগে, তিনি কী করে রাজাকারের নাতি, ছেলে বা রাজাকার হন।’

আট. এ নিয়ে প্রখ্যাত গবেষক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ তার নিবন্ধে লেখেনÑ ‘কিন্তু যারা এখনো মরেননি এবং ২০৪১ সালের আগেই হয়তো মারা যাবেন, তাদের উপায় কী? এ এক মারাত্মক পরিহাস! মারা গেলে যাদের লাশ নেয়া যাবে না শহীদ মিনারে, জীবিত থাকতে তাদের ছবি টাঙিয়ে দেয়া হলো সেই শহীদ মিনারেই। তারা মহাজোটের তারিফ করে টকশোতে টেবিল চাপড়াতে না পারেন, কেউ কেউ এই সরকারের পতনও চাইতে পারেন ২০১৯-এর আগেই এরশাদ সাহেবের মতো, কিন্তু তারা স্বাধীনতাবিরোধী ও পাকিস্থানপন্থীÑ সে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ এক আশ্চর্য অবমাননার উপত্যকা। বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক তার পিলগ্রিমস প্রগ্রেসে যা বলেছিলেন : দ্য ভ্যালি অব হিউমিলিয়েশন।’

নয়. ড. পিয়াস করিমের মৃত্যুর আগের দিন সর্বশেষ তার সাথে আমার কথা হয়েছিল। নিয়মিত ফোন করে পরিচিতজনের খোঁজখবর নেয়াটা তার অভ্যাস ছিল। আমার টকশো ও পত্রিকার কলামগুলো পর্যবেণ করে নিয়মিত ফলোআপ করতেন। বিভিন্ন রকমের বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলাপচারিতা করতেন। দেশ ও মানুষের কথাগুলোই বারবার তার আলোচনায় চলে আসত। ভাবতেন দেশকে নিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎকে নিয়ে। আরটিভি ভবনে টকশোতে অংশ নেয়ার সময় আমার ওপর সশস্ত্র হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করা হলে পিয়াস ভাই সবার আগে ছুটে আসেন। এ ন্যক্কারজনক বর্বরতার নিন্দা জানিয়ে দেশের বুদ্ধিজীবীদের প্রতিবাদলিপিতে সবার কাছে নিজে গিয়ে সই করিয়ে আনেন। এরপর আমার ওপর একাধিকবার বোমা হামলার ঘটনায়ও ছুটে আসেন পিয়াস ভাই। সহমর্মিতা জানিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন। সতর্ক করেছেন আমাকে তার মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত। প্রত্তুত্যরে আমি বলেছিলাম, ‘মরতে তো হবে একদিন সবাইকেই, আল্লাহর কাছে কী নিয়ে যেতে পারব সেটাই একমাত্র বিবেচ্য।’ কিন্তু সত্যি সত্যি পরের দিনই এভাবে আপনি মারা যাবেন তা কখনো ভাবিনি, পিয়াস ভাই। মানুষ আপনাকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসা মানুষের ভালোবাসার চেয়ে ল কোটি গুণ বেশি। মহান আল্লাহর মা ও ভালোবাসা আপনাকে পরিবেষ্টিত রাখুক, সেই দোয়াই করি। আপনার জেহাদ কবুল হোক। কারণ অত্যাচারী জালিম শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলাটাও যে অনেক বড় জেহাদ।

লেখক : সুপ্রিম কোর্টের আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

e-mail: drtuhinmalik@hotmail.com

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

You Might Also Like