জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেনকে নিয়ে এবি প্রেসক্লাবের বিদায়ী আড্ডা

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ৬ বছর ২ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিচ্ছেন এ মাসে। বিদায় লগ্নে এই সফলকূটনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে এক বিদায়ী আড্ডার আয়োজন করেছিল আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব।

গত ১২ অক্টোবর  নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের হাট-বাজার মিলনায়তনে অায়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে অকপটে নিজের পেশাগত বর্ণিল কর্মকান্ডের নানা অভিজ্ঞতার কথা বলেন ড. মোমেন। নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে কীভাবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের ইমেজ সৃষ্টি করেছেন, কীভাবে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে আমাদের সেনা-পুলিশ বাড়িয়েছেন ও নৌ-বাহিনীর সদস্য সম্পৃক্ত করেছেন, কীভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লীডারশিপ প্রতিষ্ঠিত করেছেন, আবার নানা সময়ে রহস্যজনক কারণে অনেক প্রতিযোগিতা থেকে কীভাবে বাংলাদেশ সরে এসেছে- এ সবের ঝুলি ভরা গল্প তিনি করেছেন এই আড্ডায়। আলাপচারিতায় তিনি এও জানিয়েছেন- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ ইউরোপের অনেক দেশ সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সেনা সদস্য সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। অধ্যাপনা থেকে একজন সফল কূটনৈতিক হবার কারণ স্পষ্টভাবে না বললেও গল্প করার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জাতিসংঘের কার্যক্রম অধ্যায়ন, বুদ্ধি-বিবেচনার প্রয়োগে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নোয়নের মধ্য দিয়ে তিনি অনেক কাজে সফলতা পেয়েছেন। কাজ করতে গিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে গ্রহণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বলেও মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রদূত ড. মোমেন। তিনি আরো বলেছেন,  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ভাল কূটনৈতিককে সম্মান দিতে চায় না। বরং ভাল কাজ যিনি করেন, তারা উল্টো যেন অভিযুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি জাতিসংঘে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পেরেছিলেন বলে জানান। এই আড্ডায় ড. মোমেন ইউএন সদর দপ্তরকে একটি ট্রেড সেন্টার বলে অভিহিত করেছেন।

momin_press1

এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক পরিচয়ের সম্পাদক নাজমুল আহসান এবং সভা পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এটিএন বাংলা ইউএসএর বার্তা সম্পাদক দর্পণ কবীর। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ড. মোমেনকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে একটি স্মারক প্রোক্লেমেশন প্রদান করা হয় এবং তাঁকে ক্লাবের সহযোগী সদস্যপদ প্রদান করে একটি স্মারক কোটপিন পরিয়ে দেয়া হয়।

এ আড্ডায় বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক এখন সময়’ সম্পাদক কাজী শামসুল হক, সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদক লাভলু আনসার, সাপ্তাহিক বর্ণমালার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সাপ্তাহিক প্রবাস-এর সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল, দৈনিক ইত্তেফাক-এর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম, স্থানীয় টিভি টিবিএন টুয়েন্টিফোর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি আশরাফুল হাসান বুলবুল, দৈনিক ভোরের কাগজ-এর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি এবং অনলাইন দৈনিক প্রবাস নিউজ ডট কমের সম্পাদক শামীম আহমেদ, বাংলা টিভির পরিচালক ও প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ রিজু মোহাম্মদ, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি কাউসার মুমিন প্রমুখ।

এ ছাড়া আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক আজকাল এর বিশেষ প্রতিনিধি শওকত ওসমান রচি, এখন সময়ের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক নিহার সিদ্দিীকী, টিবিএন টুয়েন্টি ফোর এর বিশেষ প্রতিবেদক পিনাকী তালুকদার, সাংবাদিক সন্তোষ মন্ডল, মিডিয়া কর্মী মল্লিকা খান মুনা, বাংলাভিশন টিভির প্রতিনিধি অভি আজিম, আরটিভির প্রতিনিধি শাহাদাত সবুজ, এটিএন বাংলার প্রতিনিধি কানু দত্ত, প্রবাস নিউজ ডটকমের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাবর,রেজাউল করীম রাজু, বাংলা টিভির পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন লিটন প্রমুখ।

দুই ঘন্টাব্যাপী প্রাণবন্ত আড্ডায় উঠে আসে ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের বর্ণময় কূটনৈতিক এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা অধ্যায়।  ড. মোমেন ৬ বছর দুইমাসেজাতিংঘে বাংলাদেশের অর্জন এবং চলে যাবার সময় তার কিছু আক্ষেপের কথাও সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন এইদায়িত্ব আমাকে দিয়ে বললেন গত ৫ বছর আমরা বিশ্বে এক নম্বর দুর্নীতিগ্রস্থ এবং সন্ত্রাসী দেশ। আমি চাই এই ইমেজ থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনবেন।তো আমি সেই প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করলাম। তখন মিশনে অফিস শুরু হতো সাড়ে নয়টায়। আমি যেহেতু মাস্টার মানুষ সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যস। আমি সাড়ে আটটায় অফিসে চলে আসতাম। অফিসে পা রেখে প্রথমেই আমার চোখে পড়লো বিরাট অংকের অর্থের অপচয়। মিশনের অফিসের ভাড়া বাবদ প্রতিমিাসে ৩৯ হাজার ডলার দিতে হতো। আমি এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললাম। বললাম একটা অফিস কেনা হলে একটা বিরাট অংকের টাকা সাশ্রয় হবে। তিনি সায় দিলেন। অফিস কেনা হলো। এখন প্রতি মাসে অফিস ভাড়া বেঁচে যাচ্ছে প্রায় ৩২ হাজার ডলার।

ড. মোমেন বলেন, দায়িত্ব নিয়ে জাতিসংঘে গিয়ে দেখি সেখানে আসলে মাঝে মধ্যে লিখিত বিবৃতি পড়া ছাড়া আমার কোন কাজ নেই। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েযেসব ফোরামে কথা হয়, সিন্ধান্ত হয়, সেখানে আমাদের কথা বলার কোন এক্সেস ছিলোনা। খবর নিয়ে জানলাম, এসব ফোরামে কথা বলতে হলে নির্বাচিত হয়েকথা বলতে হয়। নির্বাচনে অংশ নেয়া এবং জেতার কৌশল সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া শুরু করলাম। এক সময় তা আয়ত্ব করলাম। এরপর আমরা একটার পরএকটা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জেতা শুরু করলাম। যেটাতেই যাই সেটাতেই জিতি। এভাবে আমরা ৪২ থেকে ৪৪টা নির্বাচনে জিতে গেছি। এতে ইউএন-এ আমাদেরকথা বলার অধিকার পাকাপোক্ত হলো। সিদ্ধান্ত নেয়ার বেলায়ও অনেক কিছুতে আমরা অগ্রাধিকার পেয়ে গেলাম। এভাবে জাতিসংঘের এই মুহুর্তের সবচেয়ে বড় মিশন সাসটেইনবল ডেভলপমেন্ট গোল বা এসডিজির এজেন্ডার মধ্যে আমাদের প্রস্তাব করা ১৭টা ইস্যু রয়েছে। যা দিয়ে আমাদের দেশ ব্যাপক উন্নয়নেরঅগ্রযাত্রায় শামিল হবে পারবে।

এই আড্ডায় প্রেসক্লাব সভপতি নাজমুল আহসান বলেন, ড. আব্দুল মোমেন ৬ বছর বাংলাদেশ মিশনে থাকলেও আমার সঙ্গে তার পরিচয় ১৯৮৭ সাল থেকে।তিনি তখন বোস্টনে শিক্ষকতা করতেন। সে সময়ে বাংলাদেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলছিলো। নিউইয়র্কে প্রবাসীরা এই আন্দোলেন একাত্মতা প্রকাশকরে জাতিসংঘের সামনে মিছিল মিটিং করতো। ড. মোমেনকে দেখেছি সেই আন্দোলনে যোগ দিতে তিনি প্রায়ই নিউইয়র্কে আসতেন। তিনি আরো বলেন,মোমেনভাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় কাজ করেছেন তিনি যখন সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তখন বাংলাদেশী শিশুদের সেখানে উটেরজকি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তিনি সেখানে দায়িত্ব নিয়ে তা বন্ধ করে দিলেন। নাজমুল আহসান বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের ইমজে ভালো ছিল না।তিনি দায়িত্ব নেবার পর নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশকে সম্মানের এমন এক জায়গায় তুলে ধরার, যেটা ঈর্ষণীয়-অভাবনীয় এবং অতুলনীয়।

দর্পণ কবীর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, আমরা এই অনুষ্ঠানের নাম দিয়েছি বিদায়ী আড্ডা। কিন্তু ড. মোমেন আসলে বিদায় নিচ্ছেন না। কিন্তু তিনি যাচ্ছেন না।তিনি থাকছেন। তিনি থাকবেন। আমাদের সবার হৃদয়ে।

ড. মোমেনের বন্ধুত্ব এবং অতিথি পরায়নতার নানা বিষয় উল্লেখ করে এখন সময় সম্পাদক কাজী শামসুল হক বলেন, ড. মোমেন একজন কুটনীতিক নন, তিনি একজন অনন্য মানুষও। তিনি দেশকে ভালোবাসেন, মানুষকে ভালোবাসেন। বিশেষ করে প্রবাসী সাংবাদিকদের সঙ্গে একটা আত্মিক টান তৈরী করেছেন তিনি। তিনি ছিলেন একজন মিডিয়া বান্ধব ব্যাক্তি, ‘নিউজ মেকার’- যিনি সংবাদকর্মীদের হাতে সংবাদ তুলে দিয়েছেন। তাই যে কোন অর্থেই তিনি সফল। একটা মানুষের মধ্যে মানবিক গুণ থাকলে তিনি যেখানে যাবেন সেখানেই সফল হবেন। তিনি বলেন, ড. মোমেন বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে সম্মানজনক এবং সফলভাবে তুলে ধরেছেন।

সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদক লাভলু আনসার বলেন, ৬ বছর ২ মাস ড. মোমেনের সঙ্গে কাজ করেছি আমরা। তিনি ২৪ ঘন্টা ফোন ধরেন। রাত ৩টায় তাকেফোন করেছি। তখনও তিনি জেগে থাকেন। জাতিসংঘ ২৪ ঘন্টা জেগে থাকে। তিনিও জেগে থাকেন। কাজ করেন। তিনি কাজ ভালোবাসেন। বাংলাদেশের জন্যঅনেক কাজ করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের জন্য তিনি কাজ করেছেন। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাবার জন্য বিনিন্দ্র পরিশ্রমকরেছেন।

বর্ণমালা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ আসলে কি, জাতিসংঘ কিভাবে কাজ করে। কাদের জন্য কাজ করে সে সম্পর্কে প্রবাসী বাংলাদেশীদের খুববেশী ধারনা ছিল না। ড. মোমেন তা আমাদের জানিয়েছেন। বাংলাদেশ মিশনকে তিনি গণমুখী করেছেন। আমরা তাকে আরও আশা করেছিলাম। তিনি কাজেকর্মে এবং আদর্শে একজন ভালো মানুষ। তার কাজ, তার আন্তরিকতা, তার আতিথিয়তা আমাদের কাছে তাকে অনেক অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মোমেন ভাই সাংবাদিক এবং সংবাদকর্মীদের ভালোবাসেন। তিনি একজন সফলকূটনৈতিক। একজন সফল রাজনীতিকও। তিনি এই দুটি পরিচয় এক করে কাজ করেছেন। সরকারের দেয়া দায়িত্ব শতভাগ সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছেন।

সাপ্তাহিক প্রবাস-এর সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি তখন এনটিভিতে কাজ করতাম। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অর্টিজমশুরু করেছেন এবং চারিদিকে তার নাম ছড়িয়ে পড়ছিলো। আমি তার একটা ইন্টারভিউ করার জন্য মোমেনভাই এর সাহায্য চাইলাম। তিনি অমনি পুতুলকেরাজি করিয়ে আমার ইন্টারভিউ নেবার ব্যবস্থা করে দিলেন। সেটা খুব আলোচিত হয়েছিলো এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত সে ভিডিওটি সংরক্ষণের জন্য আমার কাছে থেকে চেয়ে নিয়েছিলেন। ড. মোমেন কখনওপ্রবাসীদের ভোলেননি, কখনো ভুলবেনও না।

দৈনিক ইত্তেফাক-এর বিশেষ প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম বলেন, ২৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে গত ৬ বছর যাবৎ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাষ্ট্রদূতড. আব্দুল মোমেনর কাছ থেকে যে সহায়তা পেয়েছি তা অতুলনীয়। যখনই ফোন করেছি ফিডব্যাক পেয়েছি। তিনি আমাদের সঙ্গে সাংবাদিক হিসেবে নয়, বন্ধুরমতো আচরণ করেছেন।

বাংলা টিভির পরিচালক রিজু মোহাম্মদ বলেন, আমি ড. মোমেনকে কখনো কূটনৈতিক হিসেবে দেখিনি। তিনি আসলে আমাদের সঙ্গে কূটনৈতিকের মতোআচরণ করেননি। আমার কাছে এবং সবার কাছে তিনি একজন অসাধারণ মানুষ। অনুষ্ঠানের ছবি তুলেছেন প্রেসক্লাবের সদস্য নিহার সিদ্দিকী।

এই অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও বিশিষ্ট সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম সম্প্রতি স্বনামধন্য মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ভয়েজ অফ আমেরিকা’য় ইন্টারন্যাশনালব্রডকাষ্টার হিসাবে যোগ দেয়ায় এবি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

You Might Also Like