তিন সেতু নির্মাণসহ ৫ প্রস্তাব অনুমোদন

শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও গোমতী নদীর উপর বিদ্যমান সেতু সংস্কার ও নদী তিনটির উপর নতুন তিনটি সেতু নির্মাণ করা হবে। দাতাসংস্থা জাইকা’র অর্থায়নে সেতুগুলো নির্মাণ করা হবে। পুরনো সেতুর সংস্কারসহ এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা।

সচিবালয়ে বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের বাইরে থাকায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে মোট পাঁচটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাকসুদুর রহমান পাটোয়ারি সাংবাদিকদের জানান, চারটি জাপানি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে সেতুগুলো নির্মাণ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৫ হাজার ৯৬৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

কোম্পানি চারটি হচ্ছে- ওবায়াশি কর্পোরেশন, শিমিজু কর্পোরেশন, জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন ও আইএইচআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিস্টেমস কোম্পানি লিমিটেড।

সাংবাদিকেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো পৃথকভাবে দরপত্র ক্রয় করলেও জমা দেওয়ার সময় যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয়।

শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও গোমতী নদীর উপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ ও বিদ্যমান সেতুর পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় যেসব কাজ করা হবে সেগুলো হচ্ছে- (১) শীতলক্ষ্যা নদীর উপর চার লেন বিশিষ্ট ৩৯৭ দশমিক ৩ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু নির্মাণ, বিদ্যমান সেতুর পুনর্বাসন এবং চার লেন বিশিষ্ট ৭০৩ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কসহ কাঁচপুরে ফ্লাই-ওভার ও ইন্টারসেকশন নির্মাণ; (২) মেঘনা নদীর উপর চার লেন বিশিষ্ট ৯৩০ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় মেঘনা সেতু নির্মাণ, বিদ্যমান সেতুর পুনর্বাসন এবং চার লেন বিশিষ্ট ৮৭০ মিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মাণ; (৩) গোমতী নদীর উপর চার লেন বিশিষ্ট ১ হাজার ৪১০ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণ, বিদ্যমান সেতুর পুনর্বাসন এবং চার লেন বিশিষ্ট ১ হাজার ১০ মিটার দীর্ঘ সংযোগ নির্মাণ এবং (৪) এক্সেল লোড স্কেল স্থাপন ও সেতু পরিদর্শন গাড়ি ক্রয় করা হবে।

তিনি বলেন, ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের জন্য ৫০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড (পিটুওফাইভ : ৫২-৫৪%) আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স পোট্রন ট্রেডার্স’ এটা সরবরাহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, বৈঠকে ‘মিউনিসিপ্যাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস প্রজেক্ট’ প্রকল্পের আওতায় ডিজাইন, সুপারভিশন ও ম্যানেজমেন্টের জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য যৌথভাবে নিয়োগ পেয়েছে সুইডেনের হাইফার ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান একোয়া কনসালটেন্ট এসোসিয়েট। এতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

মাকসুদুর রহমান বলেন, অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ১৬৩ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বৈদেশিক বিনিয়োগের শর্ত শিথিল করা হয়েছে। প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারী যোগাড় করতে সময়সীমা আরো ২ বছর বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ‘কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’।

এ ছাড়া বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের নিজস্ব জমিতে আনুষঙ্গিক সব সেবা সুবিধাসহ তিনটি বেসমেন্ট বিশিষ্ট ২৫ তলা অফিস-কাম-বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) কাজের দ্বিতীয় ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভেরিয়েশন প্রস্তাবে অতিরিক্ত কাজের জন্য ১১ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে। এ কাজের প্রাথমিক চুক্তিমূল্য ছিল ৩৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এখন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

You Might Also Like